কোভিডের সময় বিজয় মিছিল নয়: মমতা

নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীকে এক হাজার ২০০ ভোটে পরাজিত করে নন্দীগ্রামে বিজয়ী হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এপিবি আনন্দের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ২০৭টি আসনে ও বিজেপি ৮২টি আসনে এগিয়ে রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল ছবি
নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয় নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও তৃণমূল কংগ্রেসই যে তৃতীয়বারের মতো পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য সরকার গড়তে চলেছে তা নিশ্চিত।
 
এপিবি আনন্দের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ২০৭টি আসনে ও বিজেপি ৮২টি আসনে এগিয়ে রয়েছে।
 
মমতাকে শুভেচ্ছা জানাতে নীলবাড়িতে জড়ো হয়েছেন দলের কর্মী-সমর্থকরা।
 
স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তৃণমূল নেত্রী মমতা জানান, ‘অনেক অভিনন্দন বাংলার মানুষকে। বাংলার জয়। বাংলাই পারে।’
 
পরে লাইভে এক ব্রিফিংয়ে সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে মমতা বলেন, ‘সবার কাছে অনুরোধ করব, এখনই কোনো বিজয় মিছিল নয়। আমাদের লক্ষ্য একটাই করোনাভাইরাসের মোকাবিলা। আমরা বড় আকারে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান করব না। কোভিড সংক্রমণ কমলে আমরা বিজয় মিছিল করব, বিগ্রেড প্যারেডও হবে। সবার কাছে বিনীত অনুরোধ করোনা আক্রান্তের পাশে দাঁড়ান।’
 
তিনি আরও বলেন, ‘আজ থেকে আমাদের কাজ শুরু হয়ে গেল। এ কাজ চলবে। আমরা বিনামূল্যে সবাইকে ভ্যাকসিন দেব। কেন্দ্রীয় সরকারকে বলব- গোটা ভারতবর্ষের ১৪০ কোটি লোককে বিনে পয়সায় ভ্যাকসিন দিতে বলব। তা না করলে গান্ধী মূর্তির নিচে আমি আন্দোলন করব।’
 
পশ্চিমবঙ্গে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউন ঘোষণা করা হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি এখনই লকডাউন নিয়ে কথা বলছি না। আমি আগে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলি, তারপর সিদ্ধান্ত হবে।’
 
নিজের দলের নেতা-কর্মীদের অভিনন্দন জানিয়ে মমতা বলেন, ‘আমি বলেছিলাম, ডাবল সেঞ্চুরি করব। ২০২১ সালে ২২১ আসন পাব। আমি সেটাই টার্গেট করেছিলাম।’
 
নন্দীগ্রামের ফল নিয়ে মমতা বলেন, ‘বাংলা আজ ভারতবর্ষকে বাঁচিয়ে দিয়েছে। মাফিয়া দলকে হারিয়ে আমরা ক্ষমতায় আসতে চলেছি। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গেও আমরা লড়েছি। আমি দুঃখিত যে, নির্বাচন কমিশন বিজেপির মুখপাত্র হিসেবে কাজ করছে। আমি নন্দীগ্রাম ইস্যু নিয়ে কথা বলেছি। তিন ঘণ্টা আগে সেখান থেকে বিজয় ঘোষণা করা হয়। এখন আবার অন্য খবর বলছে। এটা কী করে সম্ভব! নিশ্চয়ই কোনো কারচুপি চলছে। কমিশনের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক বেঞ্চে যাব, আইনি লড়াই করব। কারণ, যাই হোক না কেন বাংলাই (পশ্চিমবঙ্গ) এই ম্যাচ জিতেছে।’
 
তার শারীরিক অবস্থা এখন কেমন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার পা এখন ঠিক আছে। ডাক্তাররা প্লাস্টার খোলার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। আমি ঠিক আছি। এই জয় আমাকে আরও ভালো করে দিয়েছে।’

আরও পড়ুন:

মমতাকে অভিনন্দন মেহবুবা মুফতি, অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও ওমর আব্দুল্লাহর

সব চোখ নন্দীগ্রামে

পশ্চিমবঙ্গ: তৃণমূল-বিজেপি লড়াই সমানে সমান

পশ্চিমবঙ্গ: হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত

পশ্চিমবঙ্গ: প্রথম রাউন্ডের গণনায় তৃণমূল এগিয়ে

Comments

The Daily Star  | English
Civil society in Bangladesh

Our civil society needs to do more to challenge power structures

Over the last year, human rights defenders, demonstrators, and dissenters have been met with harassment, physical aggression, detainment, and maltreatment by the authorities.

8h ago