নিজেকে রোল মডেল হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টায় মোস্তাফিজ

লম্বা সময় ঘরবন্দি থাকতে হবে বলে আইপিএলে ছন্দে থাকা বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজ চিন্তিত। কারণ, চলতি মাসের শেষদিকে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের পারফরম্যান্সে পড়তে পারে নেতিবাচক প্রভাব।
mustafiz
ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া

আইপিএল স্থগিত হয়ে যাওয়ায় বিশেষ ব্যবস্থায় সাকিব আল হাসানের সঙ্গে বাংলাদেশে ফিরেছেন মোস্তাফিজুর রহমান। ভারত থেকে ফেরায় সরকারি নিদের্শনা অনুযায়ী, দুজনই এখন আছেন ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে। লম্বা সময় ঘরবন্দি থাকতে হবে বলে আইপিএলে ছন্দে থাকা বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজ চিন্তিত। কারণ, চলতি মাসের শেষদিকে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের পারফরম্যান্সে পড়তে পারে নেতিবাচক প্রভাব। তবে আশার খবরও কম দেননি তিনি। আইপিএলে তার সাড়া জাগানো ‘ব্যাক অব দ্য হ্যান্ড’ ডেলিভারি পুরোপুরি রপ্ত করতে যেমন সামনে আরও কাজ করতে চান, তেমনি তিনি চেষ্টায় আছেন নিজেকে অন্য পেসারদের জন্য রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার। এসবের পাশাপাশি আরও নানা বিষয় নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে কথা বলেছেন কাটার মাস্টার খ্যাত মোস্তাফিজ।

দ্য ডেইলি স্টার: যখন শুনলেন আইপিএল বন্ধ হয়ে গেছে, তখন কেমন অনুভূতি হয়েছিল?

মোস্তাফিজ: আমাদের জন্য কষ্ট বলতে, এই যে, কোয়ারেন্টিন করা... যদিও কেবল আমার জন্য না, সবার জন্যই... বায়ো-বাবলে থাকতে হয়, কেউ বের হতে পারে না বাইরে। ওদের (ভারতীয় ক্রিকেট) বোর্ড যেটা চেয়েছে, সেটাও একদিক থেকে ভালো। অনেকগুলো মানুষের একেবারে হয় নাই (কোভিড-১৯)। অল্প কয়েকজনের হয়েছে। বন্ধ না হলে দেখা যেত... আরও অনেক মানুষের হতে পারত। আরও খারাপ দিকে যেতে পারত। একদিক থেকে চিন্তা করলে ভালো, আবার এক দিক থেকে করলে খারাপ। শেষ হলে ভালো হতো, আবার শেষ হয় নাই তাতে দুঃখ লাগছে বলব না। মিশ্র একটা অনুভূতি।

দ্য ডেইলি স্টার: বন্ধের ঘোষণার পর দেশে ফেরাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়েছিলেন কতটা?

মোস্তাফিজ: একটু তো দুশ্চিন্তা হয়েছেই। প্রথমে যেটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম সেটা হলো, আমাদের সরকারের যে করোনাভাইরাস নীতি রয়েছে... আমরা কীভাবে কী করব, অনুমতি দিবে কিনা (দেশে ফেরার)। আমাদের দেশে কোভিড সংশ্লিষ্ট বিষয় যারা দেখছে, তাদের ধন্যবাদ দেওয়া উচিত যে, আমাদের অনুমতি দিয়েছে।

দ্য ডেইলি স্টার: সাকিবের সঙ্গে আগে থেকেই যোগাযোগ চলছিল?

মোস্তাফিজ: সাকিব ভাইয়ের সঙ্গে আগে থেকে যোগাযোগ ছিল। বিসিবি (বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড) আমাদের এনওসি (অনাপত্তিপত্র) দিয়েছিল ১৮ তারিখ (মে) পর্যন্ত। আর যেহেতু আমরা বায়ো-বাবলে ছিলাম, পরিকল্পনা এরকম ছিল যে, আমরা আসার পরে কিছুদিন কোয়ারেন্টিনে থেকে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে খেলব। কথাবার্তা কমবেশি হচ্ছিল আমাদের দুজনের মধ্যে এসব নিয়ে।

দ্য ডেইলি স্টার: যেহেতু আইপিএলে পারফরম্যান্স ভালো হচ্ছিল, সেহেতু মাঝপথে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খারাপ লাগা কাজ করছে কিনা?

মোস্তাফিজ: আমার একার খারাপ লাগলে তো হবে না। সবকিছু মিলিয়ে দেখতে হবে। সেভাবে বিবেচনা করলে ঠিকই আছে (আইপিএল স্থগিত হওয়া)। খারাপ তো লাগবেই। ভালো একটা ছন্দে ছিলাম। যদি আমার একটু ক্ষতিতে বাকি সবার উপকার হয়, তাতে আমার কোনো সমস্যা নাই।

দ্য ডেইলি স্টার: এবারের আইপিএলে নিজের পারফরম্যান্সকে মূল্যায়ন কীভাবে করবেন?

মোস্তাফিজ: সার্বিকভাবে পারফরম্যান্স ভালো হয়েছে। আমি অখুশি না, বেশ খুশি।

দ্য ডেইলি স্টার: আপনার ‘ব্যাক অব দ্য হ্যান্ড’ ডেলিভারি সম্প্রতি অনেক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আইপিএলে ধারাভাষ্যকার মাইকেল স্ল্যাটার তো আপনাকে ‘বাঁহাতি (মুত্তিয়া) মুরালিধরন’ আখ্যা দিয়েছেন।

মোস্তাফিজ: অনেক দিন থেকেই কাজ করছি এটা নিয়ে। আয়ত্বে ছিল না। ওইখানে (আইপিএলে) যে উইকেট, (ব্যাটসম্যানরা) একটু ভালো করলে, একটু ভালো শুরু করলে ২০০ রান করা সহজ। তো ওইখানে বোলিং করা কষ্ট। যেহেতু উইকেট থাকে ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো। এসব হিসাব করে (এই ডেলিভারি) অনুশীলন করছিলাম। করতে করতে দেখি এই ডেলিভারিটা আমার খুব ভালো যাচ্ছিল। অনুশীলনে এই ডেলিভারিটা আরও করতে হবে। তাহলে আরও ভালো হবে। চেষ্টা করছি।

দ্য ডেইলি স্টার: ভারতের উইকেট থেকে সাহায্য পেয়েছেন?

মোস্তাফিজ: এই ডেলিভারিতে পেস কম থাকে আর নতুন যেহেতু, তাই মানুষের অজানা। সেজন্য অত বেশি করিও না।

দ্য ডেইলি স্টার: কাঁধের চোটের পর ইয়র্কার দেওয়া নিয়ে কি ভীতি তৈরি হয়েছিল?

মোস্তাফিজ: মাঝে খুব ছিল। এখন আবার একটু ভালো হচ্ছে। আমাদের বিশ্বসেরা ইয়র্কার বোলার হলেন (লাসিথ) মালিঙ্গা। তিনিও ছয়টা ইয়র্কার করলে সবগুলো একই জায়গায় পড়ে না। তবে আমার এখন ভালো যাচ্ছে। খারাপ বলব না। মাঝে মাঝে ছন্দের উপর অনেক কিছু নির্ভর করে। আমি এখন যেভাবে আছি, এই ছন্দে যদি অনেক দিন থাকতে পারি, আমার জন্য ভালো হবে।

দ্য ডেইলি স্টার: আপনার হাতের কব্জি অনেক বেশি নমনীয়। এতে কী সুবিধা পান?

মোস্তাফিজ: এটা আমার সহজাত। অন্যদের তুলনায় বেশি (নমনীয়)। এজন্য বল একটু বেশি ঘোরে।

দ্য ডেইলি স্টার: বোলিংয়ের ক্ষেত্রে জুটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

মোস্তাফিজ: ব্যাটিংয়ে যেরকম, বোলিংয়েও একই রকম। একজনের ভালো করলে, আরেকজনের ভালো করতে ইচ্ছা করে।

দ্য ডেইলি স্টার: টেস্ট নিয়ে আপনার আগামীর ভাবনা কী? আগের চেয়ে শাণিত তাসকিন আহমেদকে দেখে কেমন লাগছে?

মোস্তাফিজ: খুব কষ্ট করেছে তাসকিন। করোনাভাইরাস বিরতির সময়ে অনেক পরিশ্রম করেছে। বেশ ভালো ছন্দে আছে সে। আমি চাইব, সে যেন এটা ধরে রাখে। অবশ্যই, তার এভাবে ফেরাটা আমাকেও অনুপ্রাণিত করেছে।

আমি সবসময়ই বলেছি, আমি তিন সংস্করণেই খেলতে চাই। শেখার তো শেষ নেই। আমি সুইং নিয়ে কাজ করছি। টেস্ট খেললে বোলিংয়ে লম্বা সময় পাওয়া যায়, নিজের কাজগুলো বুঝে নেওয়া যায়... সেটা সুইং হোক কিংবা একটা নির্দিষ্ট জায়গায় বোলিং করা হোক। ওয়ানডে কিংবা টি-টোয়েন্টিতে তো আমি সে সময়টা পাব না।

দ্য ডেইলি স্টার: শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আসন্ন ওয়ানডে সিরিজ নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?

মোস্তাফিজ: আমি খুব ভালো ছন্দে আছি। কিন্তু কোয়ারেন্টিনে যদি এরকম লম্বা সময় থাকতে হয়, তাহলে সমস্যায় পড়ব। আমি ঘরে থেকে যতই কাজ করি না কেন, পরিশ্রম করি না কেন, সেটা বাইরে অনুশীলনের চেয়ে আলাদা। আমার বোলিংয়ের ক্ষেত্রে আমি ছন্দে থাকার উপর নির্ভর করি। কিন্তু সরকার যে নিয়ম করেছে, ভালো মনে করেই করেছে, সেখানে আমাদের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে এতগুলো দিন। সেক্ষেত্রে আমি এখন যে ছন্দে আছি বা ছিলাম, সেটা হয়তো থাকবে না। ফলে কিছুটা সমস্যায় পড়ব।

দ্য ডেইলি স্টার: আইপিএলে কোচদের থেকে শেখার সুযোগ ছিল কেমন?

মোস্তাফিজ: শেখার তো আসলে কোনো শেষ নেই। বোলিং বলুন কিংবা ব্যাটিং।

দ্য ডেইলি স্টার: আইপিএলে বায়ো-বাবলের কড়াকড়ির মধ্যে থাকলেও কোনো মুহূর্তগুলো আপনাকে আনন্দ দিয়েছে?

মোস্তাফিজ: যেহেতু সবাই বায়ো-বাবলের মধ্যে ছিলাম, তাই সবার একে অপরের সঙ্গে মেলামেশাটা খুব ভালো লেগেছে। কোচ বলুন, কোচিং স্টাফ বলুন কিংবা খেলোয়াড় বলুন, মেলামেশাটা আমার ভালো লেগেছে।

দ্য ডেইলি স্টার: কোনো নির্দিষ্ট উইকেট পাওয়া নিয়ে বাড়তি উচ্ছ্বাস কাজ করেছিল?

মোস্তাফিজ: উইকেট যেটাই পাই না কেন, যারই পাই না কেন, আমার জন্য অনুভূতি একই (ভালো লাগার)।

দ্য ডেইলি স্টার: বোলিংয়ে আপনার রোল মডেল এখন কে?

মোস্তাফিজ: আগে একসময় একজনকে (মোহাম্মদ আমির) অনুসরণ করতাম। প্রথম দিকে। এখন আর আপাতত কাউকে অনুসরণ করি না। নিজের মতো করে চেষ্টা করি। এখন নিজে কী করলে আরেকজন আমাকে রোল মডেল মনে করবে, সেটা চেষ্টা করি।

Comments

The Daily Star  | English

Getting the price right for telecom consumers

In a price-sensitive market like Bangladesh, the price of telecom services quite often makes the headlines

1h ago