প্রবাসে

সাগরকন্যার দেশ পর্তুগাল

ইউরোপের মধ্যে পর্যটকদের আকর্ষণীয় ও জনপ্রিয় দেশ পর্তুগাল, যাকে সাগরকন্যার দেশও বলা হয়। পর্তুগালের উত্তর-পূর্বে স্পেনের সীমান্ত বাদে পুরো দেশ জুড়ে আইবেরীয় উপদ্বীপ আটলান্টিক সাগর দিয়ে বেষ্টিত। বৈচিত্রতায় গড়া প্রাকৃতিক সৈান্দর্যে ভরপুর পর্তুগাল, তার মধ্যে দেশটির সৈকতগুলো অন্যতম। এখানে গ্রীষ্মের আগমনের শুরু থেকেই মূলত ইউরোপের শীত প্রধান দেশগুলো থেকে লাখ লাখ দর্শনার্থীর আগমন ঘটে। এসময় দর্শনার্থীদের জন্য সৈকতগুলো উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।
লিসবন সেতুবাল ট্রয়া সৈকত। ছবি: মনির হোসেন

ইউরোপের মধ্যে পর্যটকদের আকর্ষণীয় ও জনপ্রিয় দেশ পর্তুগাল, যাকে সাগরকন্যার দেশও বলা হয়। পর্তুগালের উত্তর-পূর্বে স্পেনের সীমান্ত বাদে পুরো দেশ জুড়ে আইবেরীয় উপদ্বীপ আটলান্টিক সাগর দিয়ে বেষ্টিত। বৈচিত্রতায় গড়া প্রাকৃতিক সৈান্দর্যে ভরপুর পর্তুগাল, তার মধ্যে দেশটির সৈকতগুলো অন্যতম। এখানে গ্রীষ্মের আগমনের শুরু থেকেই মূলত ইউরোপের শীত প্রধান দেশগুলো থেকে লাখ লাখ দর্শনার্থীর আগমন ঘটে। এসময় দর্শনার্থীদের জন্য সৈকতগুলো উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।

লিসবন: পর্যটকদের জনপ্রিয় শহর লিসবন এর যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত আধুনিক এবং উন্নতমানের। প্রত্যেকটি শহরের মতো এখানে রয়েছে পর্তুগালের কয়েকটি বিখ্যাত সৈকত। তার মধ্যে কারকাভিলাস, কোস্তাকাপারিকা এবং লিসবন শহরের কেন্দ্র থেকে প্রায় ৪০ কি.মি দূর সেতুবাল শহরের ট্রয়া সৈকত অন্যতম। ইউরোপের শেষ সীমান্ত কাবোদারোকা এ শহরেই অবস্থিত। কাবোদারোকা থেকে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিলেই গন্তব্য স্বপ্নের দেশ আমেরিকার নিউইয়র্ক শহর।

আলগার্ভের সমুদ্র সৈকত।

পর্তু: পর্তুকে বলা হয় বন্দরনগরী। শহরটি ওয়াইন এর জন্য বিখ্যাত। রাতে শহরটিতে শৌখিন মৎস্য শিকারিরা বড়শি দিয়ে মাছ ধরে। যে কেউ চাইলেই মাছ ধরতে পারে না। কারণ এখানকার মিউনিসিপাল থেকে অনুমতি নিয়ে বাৎসরিক একটা ফি পরিশোধ করতে হয়। সৈকতগুলোর মধ্যে প্রায়া দি কারনাইরো, প্রায়া দোমল, প্রায়া ক্যাসেলো দি কেজো, মাতোসিনো, লেসা দিপালমেইরা, মিরামার, প্রায়া দি ফিজেলাস, প্রায়া দিগ্রানজা, এসপিনো অন্যতম। তাছাড়া পর্তুশহরের অ্যারোকা পৌরসভায় উন্মুক্ত করা হয়েছে বিশ্বের দীর্ঘতম ঝুলন্ত সেতু। যেটির দৈর্ঘ্য ৫১৬ মিটার এবং উচ্চতা ১৭৫ মিটার।

আলগার্ভ: বাণিজ্যিক শহর আলগার্ভ লিসবন থেকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার দূরে। পর্তুগালের দীর্ঘতম সৈকতগুলো এ শহরেই অবস্থিত। শহরটি বসবাসের জন্য অনেক ব্যয়বহুল। কারণ শহরটি গল্ফ রিসোর্ট, হোটেল, মোটেলের জন্য বিখ্যাত। দীর্ঘতম সৈকতগুলোর মধ্যে প্রায়া দি ডোনাআনা, প্রায়া দোকামিলো, প্রায়া দামারিনহা, প্রায়া দাফালোজিয়া এবং প্রায়া দা রোকা অন্যতম। তাছাড়া সাগরের সৌন্দর্য যে কাউকেই বিমোহিত করে তুলবে। স্থানটি পর্তুগালে শেষ সীমান্ত হিসেবেও জনপ্রিয় এবং চিহ্নিত।

আলগার্ভের সমুদ্র সৈকত

মাদাইরা: ১৫০০ শতাব্দীতে মাদাইরা পর্তুগালের কলোনি হিসেবে যুক্ত হয়। শহরটি স্থানীয় ওয়াইনের জন্য খুবদ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠে। এ শহরের দর্শনীয় স্হান গুলির মধ্যে ঐতিহাসিক পুরাতন কাঠের গীর্জা, ওয়াইনের পার্ক, আকর্ষণীয় নির্জন বন, উঁচু পাহাড়, নুড়ি পাথর বিছানো সৈকত এবং নীল রংয়ের সাগর। তাছাড়া বর্তমান ফুটবল দুনিয়ার বিশ্বসেরা ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর যাদুঘর এবং জন্মস্থান এ শহরেই। সৈকতগুলোর মধ্যে কেলেটা, মাকিকো, প্রাইনহা এবং সেসাল খুবই নামকরা এবং জনপ্রিয়।

আজোর্স দ্বীপ: পর্তুগালের সবচেয়ে বড় দ্বীপ টি আজোর্স। কয়েকটা ছোটছোট দ্বীপ নিয়ে এ দ্বীপ গঠিত। ফ্লোরস দ্বীপ, তেরসেইরা দ্বীপ, সাওমৃগেল দ্বীপ, পর্তুসান্তো দ্বীপ, সাওজর্জ দ্বীপ, ফায়াল দ্বীপ, পিকো দ্বীপ। আজোর্স ভ্রমণের জন্য এক প্রাকৃতিক নৈসর্গিক স্হান, যেখানে যাওয়ার একমাত্র মাধ্যম বিমান এবং জাহাজ। এখানে আছে প্রায়া দিভিটুরিয়া, সমুদ্র সৈকত, ফিশিং গ্রাম, ভিনুদ্যা ভের্দ, আগ্নেয়গিরী, ডলফিন ও তিমি মাছ দেখার জন্য নির্দিষ্ট দ্বীপ, হাইকিং, গুহা, কলম্বাসের প্রাক্তন বাড়ি এবং টাউন হল। সৈকতগুলোর মধ্যে সান্তা বারবারা, আগুয়াদি আলতো, কেলোয়রা, সিলভেইরা, বিসকইটস, রিবেইরা কুইন্তা, সাও লরেন্সা, মস্তাইরস এবং কেন্তো দা আরেইয়া অন্যতম।

মনির হোসেন: পর্তুগাল প্রবাসী

Comments