বিসিকের ৫৪৯ প্লট অব্যবহৃত পড়ে আছে

বিভিন্ন শিল্পনগরীতে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের (বিসিক) সর্বমোট ৫৪৯টি প্লট অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। প্লটের মালিকরা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কারখানা স্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
বরিশালের কাউনিয়ায় বিসিক শিল্পনগরীতে ৪৮টি প্লট অব্যবহৃত পড়ে আছে। ছবি: টিটু দাস

বিভিন্ন শিল্পনগরীতে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের (বিসিক) সর্বমোট ৫৪৯টি প্লট অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। প্লটের মালিকরা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কারখানা স্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

এই প্লটগুলো ব্যবহার না হওয়াতে সরকারের রাজস্ব আদায়ের সুযোগ, কর্মহীন ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং প্রকৃত ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর (এসএমই) ব্যবসা করার জন্য উপযুক্ত ভূমি পাওয়ার সুযোগ নষ্ট হচ্ছে।

২০২০-২১ অর্থবছরের এপ্রিল মাস পর্যন্ত প্রযোজ্য বিসিকের একটি প্রতিবেদনে এই তথ্যটি প্রকাশিত হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, প্লটের বরাদ্দ বুঝে পাওয়ার ১৮ মাসের মধ্যে সেখানে কারখানা তৈরি করতে হবে। তবে, বিসিকের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, অনেক ইজারাদারই পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কারখানা তৈরি করেননি। ১৯৬০ সালে এসএমইদের শিল্পায়নের প্রক্রিয়ায় সহায়তা করার জন্য ইউটিলিটি (পানি/গ্যাস/বিদ্যুৎ ইত্যাদি) সেবা ও উন্নত যাতায়াত ব্যবস্থাসহ বাণিজ্যিক প্লটের উন্নয়ন ও বরাদ্দ দেওয়ার জন্য এই প্রতিষ্ঠানটি তৈরি করা হয়েছিল।

বর্তমানে ৭৬টি শিল্পনগরীতে বিসিকের প্রায় ১০ হাজার ৯২২টি প্লট রয়েছে। এর মধ্যে, ১০ হাজার ৩৭৯টি প্লট বিতরণ করা হয়েছে।

বর্তমানে চার হাজার ৫৭০টি কারখানায় উৎপাদন হচ্ছে এবং ৯০১টি কারখানা রপ্তানি নির্ভর। সর্বোচ্চ সংখ্যক ৪৮টি অব্যবহৃত প্লট দেখা গেছে বরিশাল শিল্পনগরীতে এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩২টি খালি প্লট আছে ভোলা শিল্পনগরীতে।

শরিয়তপুরে ২৯টি, রাঙ্গামাটিতে ২৮টি, নোয়াখালীতে ২৭টি, নেত্রকোণায় ২২টি, মেহেরপুরে ২০টি এবং সাভারের চামড়া শিল্প নগরীতে ৩২টি প্লট খালি আছে।

রাজবাড়ী’র জামান মেটাল ওয়ার্কস’র মালিক আসাদুজ্জামান শামীম ২০১৮ সালে অ্যালুমিনিয়াম ও স্টিলের তৈরি গৃহস্থালি পণ্য নির্মাণের জন্য একটি প্লটের বরাদ্দ নিয়েছিলেন।

‘২০১৮ সালে বরাদ্দ হলেও এর জন্য কিছু আনুষ্ঠানিকতা ছিল। এসব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে অনেক সময় লেগেছে। এরমধ্যে, কোভিড-১৯ চলে এলো’, বলেন শামীম।

‘মহামারির জন্য কারখানা স্থাপনের কাজ থেমে যায়’, বলেন তিনি। তবে, তিনি কারখানার জন্য যন্ত্রাংশ কিনেছেন এবং জুলাই মাস থেকে নির্মাণকাজ আবারো শুরু করতে চাইছেন।

বিসিক চেয়ারম্যান মোস্তাক হাসান জানান, যেসব ইজারাদার প্লটের বরাদ্দ নিয়েও সেটিকে অব্যবহৃত অবস্থায় রেখে দিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে তারা কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছেন।

‘এভাবে চলতে পারে না। অব্যবহৃত প্লটগুলোকে নতুন করে বরাদ্দ দেওয়ার জন্য কাজ চলছে’, বলেন তিনি।

‘অনেক উদ্যোক্তা এ ব্যাপারে উৎসাহ দেখিয়েছেন। এখন প্লটগুলোকে প্রকৃত উদ্যোক্তাদের কাছে বরাদ্দ দেওয়া হবে, যাতে তারা সেখানে তাদের শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারেন’, বলেন মোস্তাক।

কিছু জেলা ভিত্তিক উদ্যোক্তা তাদের জমা দেওয়া পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ না করে ইচ্ছেমতো কারখানা স্থাপন করেন। তারা যখন কাজটি করতে পারেন না, তখন তারা প্লটটিকে ফেলে রাখেন, জানান বিসিকের একজন কর্মকর্তা।

প্লট পেতে আগ্রহী উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে আবেদনপত্র পাওয়ার পর বিসিক একটি সম্ভাব্যতা নিরীক্ষণ পরিচালনা করে এবং তারপর প্লটের বরাদ্দ দেয়। যদি কেউ সময়সীমার মধ্যে কারখানা তৈরি করতে না পারেন, তাহলে বরাদ্দ বাতিল হতে পারে।

বিসিকের শিল্পনগরী ও সমন্বয় শাখার উপ-মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী নাসরিন রহিম বলেন, ‘আমরা আগে অনেকের বরাদ্দ বাতিল করেছি।’ 

প্রতিটি প্লট ৯৯ বছরের জন্য ইজারা দেওয়া হয়। উদ্যোক্তারা ইজারার পূর্ণ মূল্য একবারে অথবা পাঁচ বছর মেয়াদে ১০ কিস্তিতে পরিশোধ করতে পারেন।

বিসিকের আরেকজন কর্মকর্তা জানান, অনেক উদ্যোক্তা রাঙ্গামাটি শিল্পনগরীতে কারখানা নির্মাণ করতে চান না, কারণ সেখানে ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই।

তিনি বলেন, ‘বিসিক যদি পার্বত্য অঞ্চলের প্লটগুলোকে সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে তৈরি করতো, তাহলে সেগুলো এভাবে অব্যবহৃত পড়ে থাকতো না।’

দেশজুড়ে বিস্তৃত বিভিন্ন শিল্পনগরীতে প্রায় ৫৪৩টি প্লটের এখনো বরাদ্দ হয়নি। এর মধ্যে, ৩৬৭টি প্লট বরাদ্দের জন্য প্রস্তুত আছে।

সাধারণত বড় কারখানার জন্য একাধিক প্লট নেওয়া হয়। এ কারণে প্লটের সংখ্যা ও কারখানার সংখ্যায় পার্থক্য দেখা দেয়।

বিসিকের শিল্পনগরীগুলোতে প্রায় ৬৭ লাখ মানুষ কর্মরত আছেন। সেখানে এ পর্যন্ত মোট ৬৩ হাজার ৩১৮ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে।

আগে দুস্থ ছিল এরকম ১১২টি শিল্প সংস্থা এ অর্থবছরের শুরুর দিকে নতুন করে চালু হয়েছে।

প্রতিবেদনটি ইংরেজি থেকে অনুবাদ করেছেন মোহাম্মদ ইশতিয়াক খান

Comments