ভল্ট ভেঙে স্বর্ণ চুরি: চার্জশিটে ৭ কাস্টমস কর্মকর্তা অভিযুক্ত

বেনাপোল কাস্টমস হাউজের ভল্ট ভেঙে ২০ কেজি স্বর্ণ চুরির মামলায় কাস্টমসের সাত জন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দিয়েছে সিআইডি পুলিশ।

বেনাপোল কাস্টমস হাউজের ভল্ট ভেঙে ২০ কেজি স্বর্ণ চুরির মামলায় কাস্টমসের সাত জন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দিয়েছে সিআইডি পুলিশ।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম গতকাল সোমবার বিকেলে আদালতে চাঞ্চল্যকর এ মামলার চার্জশিট দাখিল করেন।

অভিযুক্ত কাস্টমস কর্মকর্তারা হচ্ছেন- খুলনা বটিয়াঘাটার জয়পুর গ্রামের রনজিৎ কুণ্ডুর ছেলে সাবেক সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ও ভল্ট ইনচার্জ বিশ্বনাথ কুণ্ডু, রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দীর বাঁধুলি খালপাড়া গ্রামের মৃত জালাল সরদারের ছেলে কাস্টমস হাউজের সাবেক সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা শাহিবুল সরদার, বরিশাল আগৈলঝাড়ার চেঙ্গুটিয়া গ্রামের মৃত আব্দুর রবের ছেলে সাবেক সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ও ভল্ট ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম মৃধা, বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জের অম্বিকাপুর গ্রামের মৃত আজিজুল হকের ছেলে সাবেক সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ও ভল্ট ইনচার্জ আর্শাদ হোসাইন, খুলনার তেরখাদার বারাসাত গ্রামের মৃত আতিয়ার রহমান মল্লিকের ছেলে বেনাপোল কাস্টমসের বেসরকারি কর্মী আজিবার রহমান মল্লিক, বেনাপোলের ভবেরবের পশ্চিমপাড়া গ্রামের আব্দুল জলিল শেখের ছেলে শাকিল শেখ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার চারুয়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে সাবেক সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ও ভল্ট ইনচার্জ মোহাম্মদ অলিউল্লাহ।

তাদের সবাইকে তদন্তকালীন সময়ে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর রাতের যেকোনো সময় বেনাপোল কাস্টমস হাউজের পুরাতন ভবনের দ্বিতীয় তলার গোডাউনের তালা ভেঙে চোরেরা ভেতরে যায়। পরে ভল্টের তালা ভেঙে ১৯ কেজি ৩১৮ দশমিক তিন গ্রাম স্বর্ণ চুরি করে নিয়ে যায়। যার মূল্য প্রায় ১০ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।

এই ভল্টের চাবি ছিল তৎকালীন ভল্ট ইনচার্জ শাহিবুলের কাছে। গোডাউনের অন্যান্য লকারে স্বর্ণ, ডলারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র ছিল। সেগুলো চুরি হয়নি।

ভল্ট ভাঙার সময় কাস্টমস হাউসের সবগুলো সিসি ক্যামেরা বন্ধ ছিল।

১২ নভেম্বর সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে কাস্টমস হাউজের রাজস্ব কর্মকর্তা এমদাদুল হক বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে চুরির মামলা করেন বেনাপোল পোর্ট থানায়।

ভল্ট ইনচার্জ সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা শাহিবুলকে তাৎক্ষণিকভাবে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি।

সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আটক আসামিদের দেওয়া তথ্য ও বক্তব্য অনুযায়ী ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ওই সাত জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছি।’

Comments

The Daily Star  | English

Medium of education should be mother language: PM

Prime Minister Sheikh Hasina today said that the medium for education in educational institutions should be everyone's mother tongue.

2h ago