অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিচ্ছে সিন্ডিকেট, জড়িত তিতাস কর্মীরাও

জাতীয় গ্যাস বিতরণকারী সংস্থা তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন এ ব্যক্তিরা। তবে, তিতাসের লাইনম্যান ও সুপারভাইজারদের সহযোগিতা করতে তারা মানুষের বাড়ি বাড়ি যেতেন।

জাতীয় গ্যাস বিতরণকারী সংস্থা তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন এ ব্যক্তিরা। তবে, তিতাসের লাইনম্যান ও সুপারভাইজারদের সহযোগিতা করতে তারা মানুষের বাড়ি বাড়ি যেতেন।

দীর্ঘদিন ধরে এ কাজ করতে করতে এক পর্যায়ে তারা গ্যাস সংযোগের বিষয়ে বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করা শিখে যান। কোনো একভাবে রাজধানীতে অবস্থিত তিতাসের প্রধান কার্যালয়ে প্রবেশাধিকারও পেয়ে যান তারা।

এক পর্যায়ে সময়মতো বিল পরিশোধ করতে পারছিলেন না বা সংযোগ নিয়ে সমস্যায় ছিলেন— এমন ৫০০ জন গ্রাহকের বিস্তারিত তথ্যসম্বলিত নথি তিতাসের অফিস থেকে চুরি করেন তারা। এরপর নিজেদের তিতাসের কর্মী পরিচয় দিয়ে এসব গ্রাহকের বাড়িতে ভুয়া অভিযান চালাতে শুরু করেন।

এভাবে গ্রাহকদের কাছ থেকে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয় চক্রটি। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিতে বা গ্যাস লাইন ঠিক করতে বাড়তি টাকাও নিতে শুরু করে।

এ অপরাধীরা মূলত তিন বা চারটি সিন্ডিকেটের সদস্য। আর এসব সিন্ডিকেট গড়ে ওঠেছে তিতাসের সাবেক ও বর্তমান কর্মীদের নিয়ে।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) বলছে, এসব তথ্য তারা সিন্ডিকেটের তিন সদস্যের কাছ থেকে পেয়েছেন। ওই তিন জনকে সম্প্রতি গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সিআইডির (ঢাকা মেট্রো) স্পেশাল সুপারিনটেন্ডেন্ট মোহাম্মদ কামরুজ্জামান গতকাল বুধবার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘এসব সিন্ডিকেটের কারণে সরকার করের বিপুল পরিমাণ অর্থ হারাচ্ছে।’

গ্রেপ্তার তিন জন হলেন— হাবিবুর রহমান ওরফে আনোয়ার (২৪), সাইফুল ইসলাম (৩২) ও নজরুল ইসলাম (৩২)। সিআইডি বলছে, তারা অন্তত পাঁচ বছর ধরে এসব জালিয়াতি করে আসছিলেন। তাদের কাছ থেকে তিতাস কর্মীদের পরিচয়পত্র, তিতাসের ৫০০ গ্রাহকের তথ্যসম্বলিত একটি ফাইল ও টাকার রিসিপ্ট জব্দ করা হয়েছে।

কামরুজ্জামান জানান, রাজধানীর মগবাজার এলাকা থেকে পাওয়া তিতাসের এক গ্রাহকের অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৭ জুন তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ওই গ্রাহক ২০১৬ সালে ৩২টি ফ্ল্যাটে গ্যাস সংযোগ নেন। কিন্তু, তিতাস কখনোই তার কাছে বিল চায়নি। তিনি সংযোগ নেওয়ার পরপরই তিতাস নতুন সংযোগ দেওয়া বন্ধ করে দেয়। কিন্তু, গত বছর হঠাৎ ওই সিন্ডিকেটের সদস্যরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। এক পর্যায়ে তার ফ্ল্যাটগুলোর গ্যাস সংযোগ বিছিন্ন করে দেওয়া হয়।

পরে ওই গ্রাহক এক লাখ টাকা দিলে চলতি বছরের জানুয়ারিতে তিতাসের পরিচয়পত্র পরা সিন্ডিকেট সদস্যরা একটি পিকআপ নিয়ে তার ভবনের সামনে যান এবং সেখানে আবারও গ্যাসের সংযোগ দেন। এরপর বকেয়া বিলের বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিয়ে গ্রাহকের কাছে ১৯ লাখ টাকা দাবি করেন সিন্ডিকেট সদস্যরা। গ্রেপ্তার তিন জন ও তাদের সহযোগীদের ১৫ লাখ টাকা দেন তিনি।

তবে, টাকা পেয়ে ওই গ্রাহকের ফোন ধরা করা বন্ধ করে দেন তারা। ফলে গত মে’তে গ্রাহক সরাসরি তিতাসের অফিসে যান। তিনি জানতে পারেন, ওই সিন্ডিকেটের সঙ্গে তিতাসের কোনো সংযোগই নেই। তিনি প্রতারিত হয়েছেন।

কামরুজ্জামান বলেন, ‘ওই ব্যক্তি তারপর আমাদের কাছে আসেন। হাতিরঝিল থানায় একটি মামলা হয় এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তদন্ত শুরু করেন।’

সিআইডির এ কর্মকর্তা জানান, সিন্ডিকেটের সদস্যরা ২০১৪ সাল থেকে তিতাসের কর্মীদের সঙ্গে কাজ করছেন। নতুন গ্যাস সংযোগ দেওয়া ও সংযোগ ঠিক করার জন্য প্রয়োজনীয় মেশিন আছে তাদের কাছে।

‘গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আমরা ইতোমধ্যে তিতাসের কিছু বর্তমান ও সাবেক কর্মীর নাম জানতে পেরেছি। এখন এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করছি আমরা। অপরাধের সঙ্গে সংযোগ খুঁজে পেলে আমরা অবশ্যই ওই কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করব। শিগগিরই তিতাস কর্তৃপক্ষকে চিঠিও দেবো’, কামরুজ্জামান বলেন।

আট থেকে নয় সদস্যবিশিষ্ট প্রতিটি সিন্ডিকেট ঢাকার ডেমরা, বনানী, মহাখালী, কাকলী, কেরানীগঞ্জ ও উত্তরা এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়ার সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়ে এ কর্মকর্তা বলেন, ‘গা ঢাকা দেওয়া সদস্যদের গ্রেপ্তারে আমরা অভিযান চালাচ্ছি।’

তবে, তিতাস কর্মীদের নাম প্রকাশে অস্বীকৃতি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনো তদন্ত চলছে।’

তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী ইকবাল মো. নুরুল্লাহ ডেইলি স্টারকে জানান, সিআইডি তাদের সঙ্গে এখনো এ বিষয়ে যোগাযোগ করেনি। তবে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নিয়ে আসলে যে কাউকেই সহযোগিতা করবেন তারা।

ইংরেজি থেকে অনুবাদ করেছেন জারীন তাসনিম

Comments

The Daily Star  | English

In a first, diesel to be pumped thru deep sea pipeline

After a long wait, diesel transportation is going to start through the first-ever undersea fuel pipeline

1h ago