আগুন লাগার চতুর্থ প্রধান কারণ ‘গ্যাস লিক’

গত বছরে তালিকাভুক্ত অগ্নিকাণ্ডগুলোর চতুর্থ বৃহত্তম উৎস লিকযুক্ত গ্যাস পাইপ, এমন তথ্যই জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স।
স্টার অনলাইন গ্রাফিক্স

গত বছরে তালিকাভুক্ত অগ্নিকাণ্ডগুলোর চতুর্থ বৃহত্তম উৎস লিকযুক্ত গ্যাস পাইপ, এমন তথ্যই জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স।

বিশেষজ্ঞ ও অগ্নিনির্বাপক দলের সদস্যরা বলেছেন, গ্যাস লাইনের সঙ্গে সংযুক্ত আগুনের ঘটনাগুলোর সংখ্যা বাড়ছে।

সঠিকভাবে পাইপলাইনের রক্ষণাবেক্ষণ না করা, অবৈধ ও ত্রুটিযুক্ত সংযোগ, কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা না নেওয়া এবং মানুষের সচেতনতার অভাবকে অগ্নিকাণ্ডের পেছনে মূল কারণ হিসেবে তারা চিহ্নিত করেন।

এরকম একটি ঘটনায় গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জে ৩৩ জন মানুষ মারা গেছেন। পাইপ থেকে গ্যাস লিক হয়ে সেটি মসজিদে জমে গিয়েছিল এবং নামাজের সময় একটি বৈদ্যুতিক স্পার্ক থেকে সেখানে আগুন ধরে এই করুণ মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটে।

তদন্ত থেকে জানা যায়, আগুনের উৎসটি ছিল তিতাস গ্যাসের একটি লিকযুক্ত পাইপলাইন।

গত রোববার রাতে রাজধানীর মগবাজারে একটি বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত সাত জন নিহত এবং আরও ৫০ জন আহত হওয়ায় ত্রুটিযুক্ত গ্যাস সংযোগের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।

এই ঘটনায় তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কিন্তু, বিস্ফোরণের কারণ এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি।

বিস্ফোরক অধিদপ্তরের প্রধান বিস্ফোরক পরিদর্শক প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, ঘটনাস্থলে গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী ইকবাল মোহাম্মদ নুরুল্লাহ জানান, তিতাস গ্যাসের পাইপ নয়, বড়ং একটি গ্যাস সিলিন্ডারই বিস্ফোরণের জন্যে দায়ী।

ফায়ার সার্ভিস বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর গ্যাস ট্রান্সমিশন লাইনে কমপক্ষে ৭২২টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। ৪৮৫টি ঘটনায় দমকল বাহিনীকে কাজ করতে হয়েছে।

তথ্য থেকে জানা যায়, এসব আগুনের ঘটনায় ২০২০ সালে প্রায় দুই কোটি ২৯ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং দমকল বাহিনীর সদস্যরা প্রায় ৪০ কোটি ৫৩ লাখ টাকার সম্পদ রক্ষা করতে পেরেছিলেন।

গত বছর সর্বমোট ২১ হাজার ৭৩টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। বৈদ্যুতিক তার থেকে সাত হাজার ৭২৯টি, চুলা থেকে তিন হাজার ৫৬৪টি ও বিড়ি-সিগারেটের টুকরো থেকে কারণে তিন হাজার ৪৬৫টি আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক (ঢাকা বিভাগ) দেবাশীষ বর্ধন বলেন, গ্যাস পাইপের লিক থেকে আগুনের ঘটনার সংখ্যা এতটাই বেড়েছে যে গত বছর থেকে দমকল বাহিনীর সদস্যরা এ ধরনের ঘটনাগুলোর আলাদা হিসাব রাখছেন।

অবৈধ গ্যাস সংযোগের ক্ষেত্রে নিম্নমানের পাইপ ব্যবহার করা হয়। এই পাইপগুলোতে সহজেই লিক দেখা দেয় এবং সেখান থেকে আগুন লাগে, জানান তিনি।

গ্যাস সিলিন্ডারের সঙ্গে লাগানো ত্রুটিযুক্ত ভালভ থেকেও এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে জানান তিনি। এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য ব্যবহারকারী ও সেবাদাতাদের আরও সতর্ক হতে হবে।

সরকারের বিস্ফোরক অধিদপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছেন, এমন একজন কর্মকর্তা জানান, সুষ্ঠু ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সময়মতো প্রতিক্রিয়া না দেখানোর কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনা নিয়মিত ঘটছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, এ ধরনের অনেক দুর্ঘটনা এড়ানো যেত যদি ভোক্তারা গ্যাস লাইনে লিক দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানকে তা জানাতেন এবং প্রতিষ্ঠানটি যদি সে অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নিতেন।

ইংরেজি থেকে অনুবাদ করেছেন মোহাম্মদ ইশতিয়াক খান

Comments