বিশ্বের উচ্চতম হোটেল চীনের ‘জে হোটেল সাংহাই টাওয়ার’

সাংহাই টাওয়ার চীনের উচ্চতম অট্টালিকা। পুডং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি আট মিনিটের আরামদায়ক ম্যাগলেভ ট্রেন যাত্রার মাধ্যমে এই অট্টালিকায় পৌঁছানো যায়, যেটির উচ্চতা ৬৩২ মিটার (প্রায় দুই হাজার ফুট)। এই অট্টালিকার উপরের তলাগুলো নিয়ে তৈরি হয়েছে জে হোটেল সাংহাই টাওয়ার। এ বছরের ১৯ জুলাই উদ্বোধন হওয়া হোটেলটি নিজেদেরকে বিশ্বের উচ্চতম হোটেল হিসেবে দাবি করেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
জে হোটেল সাংহাই টাওয়ার। ছবি: সংগৃহীত

সাংহাই টাওয়ার চীনের উচ্চতম অট্টালিকা। পুডং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি আট মিনিটের আরামদায়ক ম্যাগলেভ ট্রেন যাত্রার মাধ্যমে এই অট্টালিকায় পৌঁছানো যায়, যেটির উচ্চতা ৬৩২ মিটার (প্রায় দুই হাজার ফুট)। এই অট্টালিকার উপরের তলাগুলো নিয়ে তৈরি হয়েছে জে হোটেল সাংহাই টাওয়ার। এ বছরের ১৯ জুলাই উদ্বোধন হওয়া হোটেলটি নিজেদেরকে বিশ্বের উচ্চতম হোটেল হিসেবে দাবি করেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

শুধু উচ্চতম হোটেলের দাবি করেই তারা থেমে থাকেননি, হোটেলটিতে রয়েছে আরাম-আয়েশের সব ধরনের আয়োজন।

বিলাসবহুল হোটেলটিতে রয়েছে ৩৪টি স্যুটসহ মোট ১৬৫টি কক্ষ। এ ছাড়াও, এতে রয়েছে সার্বক্ষণিক ব্যক্তিগত বাটলার সেবা, একটি ইনডোর সুইমিং পুল, দুটি প্রখ্যাত ফরাসি প্রসাধনী প্রতিষ্ঠান এরমেস ও ডিপটিকের টয়লেট্রিজ, ম্যাগনোলিয়া ফুলের পাপড়ির মতো আকৃতির বাথটাব ও রেইকি ম্যাসাজ সুবিধাযুক্ত একটি সুদৃশ্য স্পা। নিজের কক্ষে বসে আরাম করে চা খাওয়ার জন্যে রয়েছে চীনা চায়ের সেট।

জে হোটেল সাংহাই টাওয়ার। ছবি: সংগৃহীত

হোটেলটিতে চার ধরনের স্যুট আছে। সবচেয়ে বিলাসবহুল স্যুটটির আয়তন ৩৮০ বর্গমিটার এবং এর নাম ‘সাংহাই স্যুট’। এই স্যুটে শয়নকক্ষের পাশাপাশি একটি পার্লার, স্টাডি, রান্নাঘর, ফিজিওথেরাপি নেওয়ার জায়গা এবং শুধুমাত্র পোশাক বদলানোর জন্য একটি আলাদা কক্ষ রয়েছে। ওয়েবসাইটে এই স্যুটের ভাড়া সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

সবচেয়ে সস্তা রুমগুলোর ভাড়া প্রতি রাতের জন্যে ৫৫৭ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৭ হাজার ২০০ টাকা। অপরদিকে, সাংহাই স্যুটের চেয়ে বেশ খানিকটা কম বিলাসবহুল ‘জে স্যুটের’ ভাড়া প্রতি রাতে ১০ হাজার ৪৬৭ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় আট লাখ ৮৭ হাজার টাকা।

হোটেলটিতে সাতটি ভিন্ন স্বাদের রেস্তোরাঁ রয়েছে। হোটেলের সবচেয়ে উঁচুতে, ১২০ তলায় অবস্থিত হেভেনলি জিন রেস্তোরাঁয় ক্যান্টনিজ খাবার পাওয়া যায়। এ ছাড়াও, জাপানিজ, ইতালীয় খাবার, কফি ও পেস্ট্রি এবং বৈকালিক চায়ের জন্যে আলাদা আলাদা রেস্তোরাঁ আছে।

হোটেলের প্রবেশপথ। ছবি: হোটেলের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া

জে হোটেলের মালিক চীনের অন্যতম প্রধান সরকারি হোটেল ও পর্যটন প্রতিষ্ঠান শিন শিয়াং ইন্টারন্যাশনাল।

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে বিশ্বজুড়ে ভ্রমণ ও পর্যটন খাতে মন্দা দেখা দেওয়া সত্ত্বেও নতুন, সেরা ও উচ্চতম হোটেল তৈরি করার প্রতিযোগিতায় ভাটা পড়েনি।

হংকংয়ের রিটজ কার্লটন হোটেল দাবি করেছে, তাদের হোটেলে বিশ্বের সবচেয়ে উচ্চতম স্থানে অবস্থিত পুল ও বার রয়েছে।

অপরদিকে দুবাইতে চলছে সবচেয়ে বেশি উচ্চতার হোটেল বানানোর প্রতিযোগিতা।

হেভেনলি জিন রেস্তোরাঁ। ছবি: হোটেলের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া

৩৫৬ মিটার (এক হাজার ১৬৮ ফুট) উঁচু দুবাই শহরের গেভোরা হোটেলকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু হোটেল হিসেবে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল ২০১৮ সালে।

এক্ষেত্রে উল্লেখ্য, বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু হোটেলের তকমাটি সাধারণত সেসব অট্টালিকার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হয় যার পুরো অংশজুড়ে হোটেল বানানো হয়েছে। জে হোটেল শুধুমাত্র সাংহাই টাওয়ারের উপরের অংশটি নিয়ে বানানো হয়েছে, বাকি অংশে অন্যান্য স্থাপনা রয়েছে।

জে স্যুটের বেডরুম। ছবি: হোটেলের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া

গেভোরার ঘাড়ের ওপর নিশ্বাস ফেলছে নির্মাণাধীন সিয়েল টাওয়ার, যার উচ্চতা হবে ৩৬০ দশমিক চার মিটার। দুবাইর এই হোটেলটিতে এক হাজার ৪২টি কক্ষ থাকবে।

করোনাভাইরাসের কারণে পর্যটন খাত অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়লেও হোটেল নির্মাতারা তাদের প্রকল্পগুলো নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন একটি মাত্র আশায়; একদিন মানবজাতি অন্য অনেক সংকটের মতো এই মহামারির হাত থেকেও মুক্তি পেয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে, আর হোটেলগুলো ভরে উঠবে পর্যটক ও ব্যবসার কাজে ভ্রমণরত মানুষের কোলাহলে।

Comments

The Daily Star  | English

Mangoes and litchis taking a hit from the heat

It’s painful for Tajul Islam to see what has happened to his beloved mango orchard in Rajshahi city’s Borobongram Namopara.

13h ago