কলকাতার বাংলাদেশ বইমেলার শেষ দিনে বক্তারা

দুই বাংলার মানুষের মধ্যে সম্পর্ক নির্মাণে সেতু হয়ে কাজ করছে বই

শেষ হল কলকাতার বাংলাদেশ বইমেলা ২০১৭। বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) রাত নটায় আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। এর আগে সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিদুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।
Bangladesh Book Fair
কলকাতায় বাংলাদেশ বইমেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে অতিথিরা। ছবি: স্টার

শেষ হল কলকাতার বাংলাদেশ বইমেলা ২০১৭। বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) রাত নটায় আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। এর আগে সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিদুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।

এছাড়াও, উপস্থিত ছিলেন কথাসাহিত্যিক সমরেশ মজুমদার, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, কলকাতায় বাংলাদেশ উপদূতাবাসের ডেপুটি হাইকমিশনার তৌফিক হাসান প্রমুখ।

তাঁদের অংশ গ্রহণে সংক্ষিপ্ত আলোচনার পর মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন এবং কলকাতায় অধ্যায়নরত বাংলাদেশের ছাত্রছাত্রীরা।

কলকাতার মোহরকুঞ্জে দশদিনের বইমেলা শুরু হয়েছিল ১৫ নভেম্বর। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন করেন।

পাঠক সমাবেশ, অনন্যা, পাঞ্জেরী, ভাষাচিত্র, প্রথমা, সময় প্রকাশনী, বাংলা একাডেমি, শিশু একাডেমিসহ এবারের মেলায় বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ৫১টি প্রকাশনা সংস্থা অংশ নিয়েছিল।

শেষ দিন মেলায় বাংলাদেশ ও ভারতে সাম্প্রদায়িক অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে একটি মৌন মিছিল বের করে কলকাতার আকিঞ্চন নামে একটি লিটল ম্যাগাজিন। সেখানে অংশ নেন স্থানীয় অধিবাসীরা।

কলকাতার বাংলাদেশ উপদূতাবাস, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো, জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি যৌথভাবে বিশেষায়ীত বাংলাদেশি বইয়ের এই মেলার আয়োজন করে আসছে গত ছয় বছর ধরে। এবার ছিলো সপ্তম আয়োজন।

প্রথমা প্রকাশনীর কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, ১৫ নভেম্বর মেলা শুরুর দিন তুমুল বৃষ্টি, পরের দুদিনও আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিলো বলে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও অনেক পাঠক মেলায় আসতে পারেননি। তবে বাকি সাতদিন মেলায় দর্শনার্থীদের বেশ ভালো সাড়া পাওয়া গিয়েছে।

ভাষাচিত্র প্রকাশনীর কর্ণধার খন্দকার মনিরুল ইসলাম মনে করেন, বাংলাদেশের বইয়ের বৃদ্ধি পাওয়ার কারণেই ধীরে ধীরে এই মেলার জনপ্রিয়তাও বাড়ছে।

শেষ দিন উপচে পড়া ভিড়ই শুধু ছিল না, অধিকাংশ প্রকাশনীই তাদের প্রায় সব বই বিক্রিও করে ফেলেন বলে জানান অনেক বই বিক্রেতা।

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার বাংলাদেশ বইমেলার জন্য সব ধরণের সহযোগিতা এমন কি পৃষ্ঠপোষকতাও করতে পারলে গর্বিত হবে এপার বাংলার মানুষ- দ্য ডেইলি স্টারকে বললেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিদু্ৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।

শুধু বই কেনা-বেচা নয়, কলকাতার এই বই মেলায় দুই বাংলার লেখক-সাহিত্যিক-প্রকাশকদের মধ্যেও যোগাযোগ তৈরি হচ্ছে, বাড়ছে বন্ধুত্বও। বাংলাদেশের ঐতিহ্য, ইতিহাস, সাহিত্যের সঙ্গে বইয়ের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের সম্পর্ক নির্মাণে এমন উদ্যোগ খুব তাৎপর্য পূর্ণ- কলকাতার প্রখ্যাত লেখক-কবি মৃণালবসু চৌধুরী বললেন দ্য ডেইলি স্টারকে।

কথাসাহিত্যিক সমরেশ মজুমদারও একধাপ এগিয়ে বললেন, “সাত বছর আগে কলকাতার অনেক মানুষই বাংলাদেশের লেখকদের চিনতেন না। এখন অনেকেই জানেন।” বাংলা ভাষার সমৃদ্ধির জন্য বই মেলার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

কলকাতা বই মেলার জায়গা পরিবর্তন হওয়ায় পাঠকদের কষ্ট হচ্ছে বলে মনে করেন হুমায়ূনপত্নী ও অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ বই মেলা কলকাতার গগণেন্দ্র সংগ্রহশালায় শুরু হয়। এরপর নন্দন চত্বরে হয় কয়েক বছর। এখন আবার মোহরকুঞ্জে নিয়ে আসা হলো বই মেলাকে। একটি স্থায়ী জায়গা হলে ভালো হয়।” নন্দন চত্বরই কলকাতায় বাংলাদেশ বইমেলার জন্য সঠিক জায়গা বলে তিনি মনে করেন।

Comments