শীর্ষ খবর

নিয়াজুল পলাতক না অসুস্থ: শামীম ওসমান

​নারায়ণগঞ্জে হকার ইস্যু নিয়ে সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীও তার সমর্থকদের সঙ্গে নিজ সমর্থকদের সংঘর্ষের সময় আগ্নেয়াস্ত্র বের করা নিয়াজুল ‘পলাতক’ না বরং সে ‘অসুস্থ’ আছেন বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের এমপি শামীম ওসমান।
শামীম ওসমান
নারায়ণগঞ্জের ওসমানী স্টেডিয়ামে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি সমাবেশের প্রস্তুতি সভার মঞ্চের পিছনে ১৬ জানুয়ারি সংঘর্ষের ঘটনায় অস্ত্র প্রদর্শন করা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম। ছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জে হকার ইস্যু নিয়ে সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীও তার সমর্থকদের সঙ্গে নিজ সমর্থকদের সংঘর্ষের সময় আগ্নেয়াস্ত্র বের করা নিয়াজুল ‘পলাতক’ না বরং সে ‘অসুস্থ’ আছেন বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের এমপি শামীম ওসমান। তবে ১৬ জানুয়ারি সংঘর্ষের পর ২৫ জানুয়ারি রাতে নিয়াজুলের সেই অস্ত্রটি শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে সাধু পৌলের গির্জার সামনের ফুলের টব থেকে উদ্ধারের পরেও পুলিশ জানায় নিয়াজুলকে তারা খুঁজে পাচ্ছেন না।

শনিবার বিকালে শহরের ইসদাইর এলাকার ওসমানী স্টেডিয়ামে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারির সমাবেশ উপলক্ষে প্রস্তুতি সভায় শামীম ওসমান এসব কথা বলেন।

শামীম ওসমান বলেন, ‘পত্রিকায় খবর আসে নিয়াজুল নাকি পলাতক। কিন্তু সে পলাতক না। নিয়াজুল অসুস্থ, সে চিকিৎসা নিচ্ছে। যারা নিয়াজুলের উপর হামলা করেছে তাদের আগে ধরেন। নিয়াজুলকে ধরার চিন্তা করবেন না। ফুলের টব থেকে অস্ত্র উদ্ধার দেখান এসব নাটক বন্ধ করেন।’

গত ২৩ জানুয়ারি মেয়র আইভীকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ এনে সিটি করপোরেশনের একজন আইন কর্মকর্তা সদর মডেল থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে প্রধান বিবাদী করা হয়েছে ঘটনার দিন অস্ত্র বের করা নিয়াজুল ইসলামকে। এছাড়া অভিযুক্ত অন্যরা হল অস্ত্র প্রদর্শন করা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, ঘটনাস্থলে থাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সাজনু, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জুয়েল হোসেন, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সুজন, যুবলীগ নেতা জানে আলম বিপ্লব, আওয়ামী লীগ নেতা নাছির উদ্দিন ও চঞ্চল মাহমুদ।

এ প্রসঙ্গে শামীম ওসমান বলেন, যাদের নামে অভিযোগ হয়েছে তাদের ধরা তো দূরের কথা মাথার চুলের আগা ধরলে আগুন ধরিয়ে দিব। আমি প্রশাসনকে বলছি ডাবল গেম করবেন না। আমি আইভীকে বলবো অন্যদেরও বলবো যদি ভুল করে থাকেন স্বীকার করেন সংশোধন হন। যারা বিগত বিএনপি সরকারের আমলে ৫০টা মামলা খেয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে এখন ‘হুদামিছা’ অভিযোগ করেছেন সেগুলো প্রত্যাহার করেন।

শামীম ওসমান যখন বক্তব্য রাখছিলেন তখন মঞ্চের আশপাশে অস্ত্র প্রদর্শন করা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, সংঘর্ষের দিন ঘটনাস্থলে থাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সাজনু, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সুজনকে দেখা গেছে।

শামীম ওসমান বলেন, ‘আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপির চেয়ারপারসনের দুর্নীতির মামলার রায় ঘোষণা হবে। তখন কিন্তু জামায়াত বিএনপি সবাই নামবে। আগামী জুন জুলাইতে দেশে অনেক অঘটন ঘটবে। কিন্তু আশা করি কিছুই করতে পারবে না। আমি বিশ্বাস করি সিটি করপোরেশনের মেয়র আইভীও এসব প্রতিহত করতে মাঠে থাকবেন। তিনি যদি থাকেন তাহলে আমার সঙ্গে কোন বিরোধ থাকবে না। কিন্তু মাঠে থাকবেন না আর আওয়ামী লীগের পরিক্ষিত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করবেন সেটা হবে না।’

তিনি বলেন, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি শহরের আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে বৃহৎ সমাবেশ করা হবে। সেখানে আমি সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই, মহানগরের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সেক্রেটারি খোকন সাহাসহ স্বাধীনতার স্বপক্ষের সবাইকে দাওয়াত দিলাম।

নারায়ণগঞ্জ সদর থানার দায়িত্বরত (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘নিয়াজুল সুস্থ না অসুস্থ এ বিষয়ে আমাদের জানা নেই। নিয়াজুল পলাতক। আর শাহ নিজামকে দেখা গেলে সে বিষয়ে আমর জানা নেই।’

ফুলের টব থেকে অস্ত্র উদ্ধার নিয়ে শামীম ওসমানের বক্তব্যে প্রেক্ষিতে ওসি বলেন,‘রাজনৈতিকভাবে তিনি কী বলেছেন আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে চাই না। আমরা অস্ত্র উদ্ধারই করেছি।’

Comments