মোটরসাইকেলের ভেতর থেকে ইয়াবা খুঁজে বের করল কুকুর
পুলিশের কাছে খবর ছিলো চট্টগ্রামে রেজিস্ট্রেশন করা একটি মোটরসাইকেলের ভেতরে লুকিয়ে ইয়াবা পরিবহন করা হচ্ছে। গ্রেফতার হওয়া তিনজন ইয়াবা বিক্রেতা এই তথ্য দিয়েছিল। সেই অনুযায়ী তল্লাশির জন্য গত শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর পলাশী এলাকায় তারা এরকম একটি মোটরসাইকেল থামায়।
ইয়াবা উদ্ধারের জন্য পুরোদমে প্রস্তুতি নিয়ে এসেছিল পুলিশ। বিষয়টি মোটরসাইকেল সংশ্লিষ্ট হওয়ায় দুজন মেকানিককেও সাথে আনা হয়। কিন্তু প্রায় ৩০ মিনিট ধরে বাইকটির আনাচে-কানাচে তন্ন তন্ন করে খুঁজেও দেখা মিলছিল না সেই বস্তুটির। ততোক্ষণে মোটরসাইকেল আরোহী মেহেদী হাসান ওরফে অন্তু (২৩) পুলিশের সাথে বাকবিতণ্ডা জুড়ে দেন। উৎসুক জনতারও ভিড় জমে। অন্তু বলতে থাকে, পুলিশ অহেতুক তাকে হয়রানি করছে।
কিন্তু তখনও নাছোড়বান্দা পুলিশ। ইয়াবা উদ্ধারের শেষ চেষ্টায় ডাকা হয় প্রশিক্ষিত কুকুর। আর এতেই কাজ হয়ে যায়। পুলিশের তল্লাশি দলে থাকা একজন জানান, কুকুরটি ইঙ্গিত দিচ্ছিল মোটরসাইকেলের স্যাসি ও শক অ্যাবজরবারের ভেতর সন্দেহজনক কিছু রয়েছে।
এবার হাত লাগান মেকানিকরা। মোটরসাইকেল খুলে ভেতর থেকে তারা প্রায় পাঁচ হাজার ইয়াবা বড়ি বের করে আনেন। এর মধ্যে ফ্রেমের ভেতর পাওয়া যায় দুই হাজার আর শক অ্যাবজরবারে বাকি তিন হাজার।
কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের উপ-কমিশনার রহমতুল্লাহ চৌধুরী বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে অন্তু জানিয়েছে এই পদ্ধতিতে গত সাত বছর ধরে সে ইয়াবা পরিবহনের কাজ করছিল। কিন্তু তখন পর্যন্ত কেউ তার বাইকের ভেতর থেকে ইয়াবা উদ্ধার করতে পারেনি।
এই অভিনব পদ্ধতিতে চোরাচালান সম্পর্কে অন্তু বলেছে, কক্সবাজারে মোটরসাইকেলের ভেতর ইয়াবা ঢুকিয়ে তারা কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবহার করে বাইকটিকে ঢাকায় পাঠায়। একই কায়দায় মাঝে মাঝে চট্টগ্রাম থেকেও ইয়াবা আনা হয়। বাইকটি ঢাকায় পৌঁছানোর পর সেটিকে আস্তানায় নিয়ে গিয়ে মেকানিকের সাহায্যে ইয়াবা বের করে আনা হয়। নতুন চালান আনার জন্য পরের দিনই অন্য একটি কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবহার করে বাইকটিকে ফেরত পাঠানো হয়।
শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর আজিমপুর থেকে সারোয়ার সোহাগ (৩২), সানজিদা রাজিয়া বর্মা (৪৫) ও ওমর ফারুক (২২) নামের তিনজনকে ১৪ হাজার ইয়াবা বড়িসহ গ্রেফতারের পর চোরাচালানের এই অভিনব পদ্ধতির কথা সিটিটিসি প্রথম জানতে পারে। এর মধ্যে সারোয়ার সোহাগ ঢাকা মহানগর শাখা তাঁতিলীগের নেতা।
Comments