নাটকীয়তা, উত্তেজনার পর রোনালদোর গোলে সেমিতে রিয়াল

আগের রাতে বার্সেলোনাকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল এএস রোমা।রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে সে পথেই এগুচ্ছিল জুভেন্টাস। শেষ মুহূর্তে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর গোলে উদ্ধার হয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্ট। আরও একবার পা রেখেছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে।
Ronaldo
গোল করে রোনালদোর উল্লাস। ছবি: এএফপি

আগের রাতে বার্সেলোনাকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল এএস রোমা।রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে সে পথেই এগুচ্ছিল জুভেন্টাস। শেষ মুহূর্তে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর গোলে উদ্ধার হয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্ট। আরও একবার পা রেখেছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে।

বুধবার রিয়ালের ঘরের মাঠে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে এসে তেতে উঠে ইতালিয়ান জায়ান্ট জুভেন্টাস। প্রথম লেগে নিজ মাঠে ৩-০ গোলে হেরেছিল তারা। দ্বিতীয় লেগে ৩ গোলে এগিয়ে থেকে এনে ফেলেছিল সমতা। খেলার অন্তিম সময়ে পেনাল্টি থেকে তাদের হতাশায় পোড়ান রোনালদো। ৩-১ গোলে ম্যাচ জিতলেও তাই হতাশায় মাঠ ছেড়েছে জিয়ানলুইজি বুফনোরা। দুই লেগ মিলিয়ে যে রিয়াল এগিয়ে ৪-৩ গোলে।

এই নিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা ১১ ম্যাচে গোল পেলেন রোনালদো।

স্বদেশী রোমার নাটকীয় ঘুরে দাঁড়ানো দেখেই যেন প্রেরণা পেয়েছিল জুভেন্টাস। এদিন শুরু থেকেই ধারালো তারা। খেলা শুরু ২ মিনিটেই বাজিমাত তাদের। সামি খাদিরার ক্রস থেকে দারুণ হেডে বল জালে জড়ান মারিও মানজুকিচ।

মিনিট চারেক পর আরেক গোল খেয়েই বসেছিল রিয়াল। দুই ডিফেন্ডার হেসুস ভেলাহো – রাফায়াল ভারান নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া করতে গড়বড় করে বসেন। মুফতে বল পেয়ে যাওয়া দগলাস কস্তা কাজে লাগাতে পারেননি সুযোগ। তার শট ঠেকিয়ে দেন কেইলর নাভাস। ফিরতি শটে গঞ্জালো হিগুয়েইনও পরাস্ত করতে পারেননি গোলকিপারকে।

খানিক পরেই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে খেলা জমে উঠে। বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করে রিয়ালও। তবে ৩৭ মিনিটে গিয়ে আবার ব্যবধান দ্বিগুণ করে বসেন মানজুকিচ। ঠিক একই রকম ক্রসে পাওয়া বল ফের হেডেই জালে পাঠান তিনি।

দ্বিতীয়ার্ধে ফেরার চেষ্টায় মরিয়া হয় রিয়াল। ৫৮ মিনিটে রোনালদোর জোরালো শট ঠেকিয়ে দেন বুফন। দুই মিনিট পর রিয়ালের গোলকিপার নাভাস করে বসেন বড় ভুল। কস্তার নেওয়া শটে তেমন জোর ছিল না, কিন্তু তার হাত ফসকে বেরিয়ে যায় তা। বক্সে দাঁড়ানো ব্লেইস মাতুইদি ঠোকা দিয়ে জালে পাঠিয়ে স্তব্ধ করে দেন গ্যালারি।

Buffon
রেফারের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে লাল কার্ড পান বুফন। ছবি:এএফপি
টানটান উত্তেজনায় এগুতে থাকে বাকি খেলা। দুই লেগ মিলিয়ে ৩-৩ সমতায় থাকা দুই দলই তখন সেমির দোরগোড়ায়। একদম শেষ দিকে এসে কাজে লেগেছে রিয়ালের মুহুর্মুহু চেষ্টাই। ৯০ মিনিট পেরিয়ে যাওয়ার পর অতিরিক্ত ৭ মিনিট যোগ করা হয়। সেই ৭ মিনিটের শেষ দিকে রিয়ালের ভাসকেসকে জুভেন্টাস ডিফেন্ডার বেনাতিয়া ফাউল করলে পেনাল্টি পায় রিয়াল। রেফারির সিদ্ধান্ত না মেনে তর্কে জড়িয়ে পড়েন বুফন। লাল কার্ড দিয়ে তাকে বের করে দেওয়া হয়। তর্কাতর্কি, উত্তেজনার পর শট নেন রোনালদো। তার জোরালো শট জালে জড়িয়ে যাওয়ার পরই উৎসবে মাতে রিয়াল মাদ্রিদ।

এই নিয়ে টানা আটবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে উঠলো স্প্যানিশ ক্লাবটি।

সেভিয়াকে বিদায় করে সেমিতে বায়ার্ন মিউনিখ

প্রথম লেগে ২-১ গোলে এগিয়ে থেকে সেভিয়ার বিপক্ষে নেমেছিল বায়ার্ন মিউনিখ। দ্বিতীয় লেগে গোল হয়নি একটিও। কাজেই ওই ব্যবধান ধরে রেখেই সেমিতে উঠেছে জার্মানির ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ। 

Comments

The Daily Star  | English