একরামুলকে ‘ঠান্ডা মাথায় হত্যা করা হয়েছে’

“হ্যালো! আমি কমিশনারের সঙ্গে কথা বলতে চাচ্ছি।… আমি উনার মিসেস বলতেছি… হ্যালো! হ্যালো!...”- উৎকণ্ঠায় উচ্চস্বরে এমনিভাবে কথা বলছেন মোবাইল ফোনের একপ্রান্ত থেকে। অপর প্রান্তের কথার স্বর অনুচ্চ। এর খানিক পর গুলির শব্দ… উহ্… গোঙানি… । এরপর আরেকটি গুলির শব্দ। এপাশে চিৎকার- “ও আল্লা…!”
ayesha begum
৩১ মে ২০১৮, কক্সবাজার প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করছেন সেই জেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে নিহত পৌর কমিশনার একরামুল হকের স্ত্রী আয়েশা বেগম। পাশে মেয়ে তাহিয়াত ও নাহিয়ান। ছবি: স্টার

"হ্যালো! আমি কমিশনারের সঙ্গে কথা বলতে চাচ্ছি।… আমি উনার মিসেস বলতেছি… হ্যালো! হ্যালো!..."- উৎকণ্ঠায় উচ্চস্বরে এমনিভাবে কথা বলছেন মোবাইল ফোনের একপ্রান্ত থেকে। অপর প্রান্তের কথার স্বর অনুচ্চ। এর খানিক পর গুলির শব্দ… উহ্… গোঙানি… । এরপর আরেকটি গুলির শব্দ। এপাশে চিৎকার- "ও আল্লা…!"

এমনি কিছু রক্ত ঠান্ডা করা কথোপকথনের পৃথক চারটি ক্লিপ মিলিয়ে ১৪ মিনিট ২২ সেকেন্ডের একটি অডিও ক্লিপ এসেছে দ্য ডেইলি স্টারের হাতে। ক্লিপটি সরবরাহ করেছেন কক্সবাজারে মাদকবিরোধী অভিযানে নিহত পৌর কমিশনার একরামুল হকের স্ত্রী আয়েশা বেগম।

তিনি গতকাল (৩১ মে) কক্সবাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, মোবাইল ফোনে নারীর কণ্ঠটি তাঁর। ডেইলি স্টারের পক্ষ থেকে তা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে বিষয়টি পাঠকদের সামনে তুলে ধরা হলো।

আয়েশা বলেন, তিনি গত ২৬ মে রাতে তাঁর স্বামীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলার চেষ্টা করছিলেন। সাংবাদিকদের অডিওটির চারটি ক্লিপ দিয়ে নিহত কমিশনারের স্ত্রী অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামীকে "ঠান্ডা মাথায় হত্যা করা হয়েছে।"

আয়েশা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে সুবিচার প্রার্থনা করেন। কেননা, একরামুল দীর্ঘ ১৩ বছর টেকনাফ যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

কিন্তু, একরামুলের স্ত্রীর এসব অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়েছে র‌্যাব। একরামের নিহত হওয়ার ঘটনায় তার স্ত্রীর বক্তব্যকে "পুরোপুরি অসত্য" বলেছে সংস্থাটি।

সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন আয়েশা এবং তাঁর স্বামীকে "নির্দোষ" বলে দাবি করেন। তাঁর দুই মেয়ে তাহিয়াত ও নাহিয়ান এবং একরামুলের ভাই নজরুল ইসলাম সেসময় উপস্থিত ছিলেন।

আয়েশা সাংবাদিকদের বলেন, একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তার ক্রমাগত ফোনের কারণে গত ২৬ মে রাত ৯টার দিকে একরাম বাড়ি থেকে বের হন। রাত ১১টার সময়ও বাড়ি ফিরে না এলে, তার মেয়ে সোয়া ১১টার দিকে ফোন করে। সেসময় একরাম মেয়েকে জানান যে, তিনি একজন মেজর সাহেবের সঙ্গে হ্নীলা যাচ্ছেন। যে কথা অডিও ক্লিপটিতেও শোনা যায়।

এরপর, একরাম টিএনও অফিসের যাওয়ার কথাও মেয়েকে বলেন। "কতক্ষণ হবে?"- মেয়ের এমন প্রশ্নের জবাবে একরাম বলেন, "বেশিক্ষণ লাগবে না। আমি চলে আসবো ইনশাল্লাহ।"

স্বামীর খোঁজ নেওয়ার জন্যে আয়েশা ১১টা ৩২ মিনিটে ফোন দিলে ফোনটি রিসিভ করা হয়। কিন্তু, একরাম কিছু বলছিলেন না। আয়েশা বলেন, "হ্যালো!... হ্যালো!… হ্যালো কে? আমি কমিশনারের সাথে কথা বলতে চাচ্ছি।… আমি উনার মিসেস বলতেছি… হ্যালো! হ্যালো!..." এমন সময় ফোনের অপর পাশের অনুচ্চ স্বরে কথা শোনা যায়। শোনা যায় ট্রিগার টানার শব্দও। তারপর গুলি।

একপাশে "ও আল্লা" বলে নারী ও শিশুকণ্ঠে আর্ত-চিৎকার শোনা যায়। "আমার জামাই কিচ্ছু করে নাই।… আমরা বিনা দোষী।… " বলে একজন নারীর কান্না। ফোনের অপর পাশে বাঁশির ফুঁ… আতঙ্কিত কণ্ঠে গালিগালাজের আওয়াজ।

র‌্যাবের লিগ্যাল এবং মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান দ্য ডেইলি স্টারকে গতকাল (৩১ মে) বলেন, "অভিযানের সময় কী ঘটেছিলো তা গণমাধ্যমের খবরে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি (একরাম) যে মাদকের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তার যথেষ্ট প্রমাণ গণমাধ্যমের খবরগুলোতেই রয়েছে। মাদক ব্যবসায়ীদের যে তালিকা, তাতেও তার নাম রয়েছে।"

আরও পড়ুন:

ভুল তথ্যে জীবন গেল কাউন্সিলর একরামুলের?

একরামুলের পরিবার চায়, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ

Comments

The Daily Star  | English
Flooding in Sylhet region | More rains threaten to worsen situation

More rains threaten to worsen situation

More than one million marooned; BMD predict more heavy rainfall in 72 hours; water slightly recedes in main rivers

4h ago