গাজীপুরে পুনরায় নির্বাচন দাবি বিএনপির

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে পুনরায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়েছে বিএনপি। নির্বাচন নিয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরেতে আজ সংবাদ সম্মেলন করে এই দাবি জানানো হয়।
গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে দলের পক্ষে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে পুনরায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়েছে বিএনপি। নির্বাচন নিয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরেতে আজ সংবাদ সম্মেলন করে এই দাবি জানানো হয়।

সকালে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে দলের পক্ষে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচন নির্বাচনের নামে শুধুমাত্র একটি তামাশা হয়েছে। আমরা গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের ফলাফল ঘৃণাভরে প্রত্যাক্ষন করছি।’

নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ব্যাপক ভোট কারচুপির অভিযোগ তোলেন ফখরুল। তার ভাষায়, সরকার ভোট ডাকাতির নতুন নতুন কৌশল আবিষ্কার করে তা প্রয়োগ করেছে। আর এতে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন সুষ্ঠু হলে বিএনপির মেয়র প্রার্থী বিজয়ী হতো বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে আজীবন ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করছে। তারা নির্বাচনব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে। তিনি বলেন, সংবিধানের ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে দলীয় সরকারের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। বারবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোট ডাকাতির মাধ্যমে নিজ দলের প্রার্থীর পক্ষে রায় ছিনিয়ে নিচ্ছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের অধীনে কখনো সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। গাজীপুরের নির্বাচনের মাধ্যমে তারা আবার সেটি প্রমাণ করেছে।

এ অবস্থার মধ্যেও সিলেট, বরিশাল ও রাজশাহী সিটি নির্বাচনেও বিএনপি অংশ নেবে। এটি বিএনপির চলমান আন্দোলনের অংশ, যার মাধ্যমে জনগণের সামনে বর্তমান গণবিরোধী সরকারের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে। এর মাধ্যমে জনগণের সামনে সরকার ও ইসির চরিত্র বের হয়ে আসবে, মন্তব্য ফখরুলের।

গাজীপুরে বেসরকারি ফলাফলে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ওয়ার্ডের ৪২৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪১৬ টি কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকে জাহাঙ্গীর আলম পেয়েছেন ৪ লাখ ১০ ভোট। অন্যদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৯৭ হাজার ৬১১ ভোট।

বিএনপির মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার অভিযোগ করে বলেন যে ভোটগ্রহণ চলাকালে বিভিন্ন জায়গায় তার এজেন্টদের মারধর করে বের করে দেওয়া হয়েছে।

তবে, নির্বাচন সুষ্ঠু-সুন্দর হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম।

Comments