নিজের উঠে আসার চমকপ্রদ গল্প বললেন তানভির

বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা বাংলাদেশের বাঁহাতি স্পিনার জানিয়েছেন তার উঠে আসার চমকপ্রদ গল্প।
Tanvir Islam

বাবা চেয়েছিলেন পড়াশোনা করে নিরাপদ রাস্তা বেঁচে নিক তানভির ইসলাম। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই তানভিরের ছিলো ক্রিকেট খেলার ঝোঁক মাথায়। নানীর সমর্থন পেয়ে নিজের প্রবল আগ্রহ পুঁজি করে নানান গলি পেরিয়ে পেয়ে যান উপরে উঠার সিঁড়ি। বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা বাংলাদেশের বাঁহাতি স্পিনার জানিয়েছেন তার উঠে আসার চমকপ্রদ গল্প।

বিসিবির প্রকাশিত 'রেড-গ্রিন স্টোরিতে' তানভির তুলে ধরেছেন নিজের ফেলে আসা সময়ের কথা। জানিয়েছেন কীভাবে পরিশ্রম করে কীভাবে ধীরে ধীরে সর্বোচ্চ পর্যায়ের ক্রিকেটে ঠাঁই করে নিয়েছেন তিনি, 

'একদম ছোটবেলা থেকে আমি নানুর কাছে বড় হয়েছি আম্মু সরকারি চাকরি করত। এই কারণে আম্মুর কারণে থাকা হতো না বেশি, আব্বু ঢাকায় চাকরি করত। নানুও সরকারি চাকরি করত। আমার নানুর কাছে মাস শেষে একটা আবদার থাকত যে বল, ব্যাট ও স্টাম্প। এমনকি বেলসহ কিনে দিত আমার নানু। আমি অনেক ছোট থেকে বড়দের সঙ্গে খেলেছি। কারণ আমার কাছে সব কিছু (সরঞ্জাম) ছিলো। আমার বল-ব্যাট দিয়ে তারা খেলতে পারবে।'

'বড় হওয়ার পরও এভাবেই চলে। আমি যখন এসএসসি পরীক্ষা দেই, এসএসসি পরীক্ষার পর ফাইল আমার আম্মুর কাছে দেওয়ার পর ওখান (কেন্দ্র) থেকেই খেলতে চলে যেতাম। এরকম কিছুদিন কাটার পর বরিশাল বুলস নামে একটা দল হয়েছিল বিপিএলে, ওই দলে লারা নামে একজন টিম বয় ছিলো, উনার বাড়ি আমাদের এলাকায়। আমরা জানতাম তিনি খেলোয়াড়। উনার সঙ্গে আলাপ হলো। উনি বলল তুমি ঢাকায় আস, একাডেমিতে ভর্তি হও। একাডেমি তো তখন বুঝতাম না।'

'আব্বু বলল তোমার ক্রিকেটে যাওয়ার দরকার নাই, এটা অনেক অনিশ্চিত জিনিস। সুফল আসবে দেরিতে, না আসার সম্ভাবনাই বেশি। তবে নানু বলছে, "দেখ সবাই যখন বলছে ওকে দিয়ে আয়।" আব্বু তিনটা অপশন দিয়েছিলো যে, প্যারামেডিকেল, সাধারণ ধারায় পড়তে হবে নয়তো ডেন্টাল। এগুলোর কিছু একটা করলে জীবন সুন্দরভাবে পার হবে। নানুর কাছে যেহেতু বড় হয়েছি উনি আব্বুকে চাপ দিয়েছে। নানুর কথায় আমাকে ঢাকায় নিয়ে আসে।'

'আব্বু বলছে, "তোমাকে দুই-এক বছর সময় দেয়া হলো পারলে পারছ ক্রিকেটের কিছু একটা করতে। না হলে ফিরে উনার পছন্দের বিষয়ে চলে আসতে হবে।"  আব্বু আরেকটা অপশন দিয়েছিল পুলিশের চাকরি।'

'ঢাকায় আসার পর লারাকে ফোন দিলাম। আমরা জানতাম না ও টিমবয়। বলে আমি এনসিএল দলের সঙ্গে। জানতাম না এনসিএল কী! সে এই রংপুর, এই রাজশাহী, সিলেট বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতেছে। আমরা মনে করেছি উনি খেলা নিয়ে ব্যস্ত। উনি না আসায় আব্বু বলল, "চল, আবাহনী অনেক বড় ক্লাব, ওইদিকে যাই।" পরে ধানমন্ডি যাই। দেখি আবাহনী মাঠে অনেক একাডেমি। কোন একাডেমি সপ্তাহে তিনদিন, কোনটা চারদিন। কোনটা পাঁচদিন। কিন্তু সিসিএস নামে একটা একাডেমি আছে। রঞ্জিত স্যার আর দিপু রায় চৌধুরী স্যার উনি ছিলো। ওইখানে সাতদিনই অনুশীলন হত। আব্বু বলল, "তুই তো পারস না কিছু না, তুই সাতদিনই অনুশীলন করবি।" ওখানেই ভর্তি হওয়া।'

'ওখান থেকে রায়েরবাজার প্রগতি নামের একটা দলে তৃতীয় বিভাগ লিগ খেলি। ওখানে আমি সাতমাস খেলেছি। উনারা আমাকে টাকা দেওয়ার জন্য ডাকছে।  আমি বলেছি, টাকা লাগবে না। তখন তো বুঝি নাই খেললে টাকা দেয়। অনুভব করছিলাম আরেকটু ভালো জায়গায় খেলতে হবে। তারপর এলাম খেলাঘরে। দেখছিলাম যে কোন একাডেমিতে ক্লাব আছে। ওইটা খোঁজার পর পেলাম ফার্মগেট তেজকুনি পাড়ায় খেলাঘর। ওখানে তৃতীয় বিভাগ, দ্বিতীয় বিভাগ, প্রথম বিভাগ তিনটাই আছে। এই একাডেমিতে ভর্তি হলাম। সাইফুল ভাই নামে এক কোচ আছে আমার।'

'খেলাঘর প্রথম বিভাগ দলে দুজন বাঁহাতি স্পিনার খুবই বাজে করছিল। খুলনার টুটুল ভাই, কাজল দেখল যে আমি সকাল-সন্ধ্যা অনুশীলন করি খেলাঘর মাঠে। ওরাই বলল এই ছেলেটাকে একটা সুযোগ দেন। বিকেএসপির সঙ্গে তিন নম্বর মাঠে একটা অনুশীলন ম্যাচ হয়েছিল ওখানে আমি ভালো করছিলাম। তৃতীয় বিভাগ থেকে প্রথম বিভাগে চলে আসি। আমি সাত না আট ম্যাচে ২৭ উইকেট নিয়েছিলাম, অনেক ভালো করেছিলাম। খেলাঘর তৃতীয় নাকি চতুর্থ হয়েছিলো। পরেরবার আবার প্রথম বিভাগে আবার খেলি, আমি ২৮ উইকেট নেই। আমাদের দল প্রিমিয়ার লিগে উঠে যায়। তারপর খেলাঘর প্রিমিয়ার লিগ খেলল। নাফিস ইকবাল ভাই উনি আমাদের দলের ম্যানেজার ছিলো। ওইবার প্রিমিয়ার লিগেও ৯ ম্যাচে আমি ২৮ উইকেট নেই। তখন নাফিস ভাই বলে খুলনা টাইটান্সে ইনাম (বিসিবি পরিচালক কাজী ইনাম) স্যার পছন্দ করেছে, তুই খুলনা টাইটান্সে খেলিস। আমি বলি ঠিকাছে ভাই। আমি তো বুঝি না কীভাবে দলের সঙ্গে টাকাপয়সা নিয়ে কথা বলতে হয়, নাফিস ভাই বলে আমি সব করব। ওই আমি প্রথম বিপিএল খেলি। তারপর তো আস্তে আস্তে এতদূর আসা।'

Comments

The Daily Star  | English

No respite for Gazans ahead of Eid day

Tensions soar as Hezbollah launch rockets, drones at Israel; US targets Houthi assets

3h ago