তাসকিনের তোপে ডাচদের ১৩৬ রানে বেঁধে ফেলল বাংলাদেশ

চার ওভারের কোটা পূরণের পথে প্রতিটি ওভারেই উইকেট পেলেন তাসকিন আহমেদ। অভিজ্ঞ ডানহাতি পেসারকে যোগ্য সঙ্গ দিলেন অন্যান্য বোলাররা। ফলে ভালো শুরু পাওয়া নেদারল্যান্ডস পরে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট খুইয়ে পারল না ডানা মেলতে। তাদেরকে সাদামাটা সংগ্রহে বেঁধে ফেলল বাংলাদেশ দল।
শনিবার তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে টাইগারদের বিপক্ষে টস হেরে আগে ব্যাট করছে ডাচরা। নির্ধারিত ২০ ওভারে তারা ৮ উইকেট হারিয়ে পেয়েছে ১৩৬ রানের পুঁজি।
৭৭ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে তৃতীয়বারের মতো ৪ উইকেটের দেখা পান তাসকিন, নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে দ্বিতীয়বার (বাকিটি আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে)। ২৮ রান খরচায় তার শিকার ৪ উইকেট।
দুই বছর পর এই সংস্করণে বাংলাদেশের জার্সিতে খেলতে নামা সাইফ হাসান দেখান চমক। এই অনিয়মিত স্পিনার দুই ওভারে ২ উইকেট নেন ১৮ রানে। অভিজ্ঞ বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান বোলিংয়ে ছিলেন আঁটসাঁট। চার ওভারে মাত্র ১৯ রানে তিনি দখল করেন ১ উইকেট। কোনো শিকার ধরতে না পারলেও অফ স্পিনার শেখ মেহেদী চার ওভারে দেন কেবল ২১ রান।
সফরকারীদের সাত ব্যাটার দুই অঙ্কে গেলেও বিশের ঘর ছুঁতে পারেন কেবল দুজন। অর্থাৎ কাউকেই বিপজ্জনক হতে দেয়নি বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ। তিনে নামা তেজা নিদামানুরু ২৬ বলে তিনটি চার ও একটি ছক্কায় করেন সর্বোচ্চ ২৬ রান। ওপেনার ম্যাক্স ও'ডাউড ১৫ বল মোকাবিলায় সমান সংখ্যক বাউন্ডারিতে খেলেন ২৩ রানের ঝড়ো ইনিংস।
ব্যাটিংয়ে নেমে ও'ডাউডের কল্যাণে দারুণ সূচনা করে নেদারল্যান্ডস। তিন ওভারে বিনা উইকেটে ২৫ রান তারা তুলে ফেলে স্কোরবোর্ডে। চতুর্থ ওভারে আক্রমণে গিয়ে প্রথম বলেই উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন তাসকিন। ও'ডাউড বিদায় নেন শর্ট কভারে জাকের আলীর তালুবন্দি হয়ে।
এরপর প্রতিপক্ষকে চেপে ধরে বাংলাদেশ। এতে তাদের রান তোলার গতি কমে যায়। পাওয়ার প্লে শেষে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১ উইকেটে ৩৪ রান। অষ্টম ওভারে ফিরে আবার প্রথম বলেই আঘাত হানেন তাসকিন। ধুঁকতে থাকা আরেক ওপেনার বিক্রমজিৎ সিং বড় শট খেলার চেষ্টায় ধরা পড়েন লং অনে। ১১ বলে তার রান ৭।
নিদামানুরু ও ডাচ অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডস তৃতীয় উইকেট জুটিতে পাল্টা আক্রমণ করেন। তবে তাদেরকে মাথাব্যথার কারণ হতে দেননি সাইফ। দশম ওভারে বাংলাদেশের অধিনায়ক বল তুলে দেন তার হাতে। আস্থার প্রতিদান দিয়ে তিনি ধরেন জোড়া শিকার। চতুর্থ বলে লং লেগে দুর্দান্ত ডাইভিং ক্যাচে এডওয়ার্ডসকে (৭ বলে ১২ রান) সাজঘরে পাঠান জাকের। শেষ বলে নিদামানুরু ডিপ মিডউইকেটে তাওহিদ হৃদয়ের তালুবন্দি হন।
৬৮ রানে ৪ উইকেট হারানো নেদারল্যান্ডস খুঁজে পায়নি ঘুরে দাঁড়ানোর পথ। শারিজ আহমেদকে (১৪ বলে ১৫ রান) মোস্তাফিজ আউট করার পর নিজের বাকি দুই ওভারে কাইল ক্লেইন (১২ বলে ৯ রান) ও নোয়াহ ক্রোসকে (১৩ বলে ১১ রান) ঝুলিতে ঢোকান তাসকিন।
শেষ তিন ওভার অবশ্য তুলনামূলক ভালো কাটে ডাচদের। তারা ২ উইকেটের বিনিময়ে আনে ৩২ রান। আরিয়ান দত্ত অপরাজিত থাকেন ৮ বলে ১৩ রানে। ইনিংসের শেষ ডেলিভারিতে রানআউট হওয়া টিম প্রিঙ্গল করেন ১৪ বলে ১৬ রান।
Comments