ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

আর্জেন্টিনার ‘শারীরিক’ ফুটবলের জবাব দিতে প্রস্তুত রদ্রি

স্পোর্টস ডেস্ক

বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চ, ট্রফি আর ট্র্যাজেডির মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা মাত্র একটা ম্যাচ। সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে শ্রেষ্ঠত্বের সেই মহারণে মুখোমুখি হচ্ছে স্পেন ও আর্জেন্টিনা। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে এই মেগা ফাইনাল যে মোটেই সহজ হবে না, তা খুব ভালো করেই জানেন স্প্যানিশ অধিনায়ক রদ্রি। ম্যানহাটনে এক ঠাসা সংবাদ সম্মেলনে ম্যানচেস্টার সিটির এই মিডফিল্ডার পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, আর্জেন্টিনার ‘শারীরিক’ ও আক্রমণাত্মক ফুটবল এবং মাঠের যেকোনো উসকানি সামলে নিজেদের স্বাভাবিক খেলা খেলতেই মুখিয়ে আছে তার দল।

২০২৪ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই তারকা চলতি বিশ্বকাপে স্পেনের মাঝমাঠের মূল চালিকাশক্তি। ফাইনালের আবহ অন্য যেকোনো ম্যাচের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা হবে উল্লেখ করে রদ্রি বলেন, ‘ম্যাচটি একেবারেই ভিন্ন ধাঁচের হতে যাচ্ছে। আর্জেন্টিনা অত্যন্ত শারীরিক ও গতিময় ফুটবল খেলবে, আর আমাদের সেই লড়াইয়ের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত থাকতে হবে। তবে এই স্প্যানিশ দলের একটা বড় গুণ হলো, আমরা পরিস্থিতি অনুযায়ী যেকোনো রণকৌশলে মানিয়ে নিতে পারি। প্রয়োজনে আমরা রক্ষণ সামলাতে পারি, কাউন্টার-অ্যাটাক করতে পারি, আবার অল-আউট আক্রমণেও যেতে পারি। আমরা সবদিক থেকেই একটি পরিপূর্ণ দল এবং সে কারণেই আজ ফাইনালে।’

মাঠে লাতিন আমেরিকান দলগুলোর চিরাচরিত স্লেজিং বা উসকানিমূলক আচরণের মুখোমুখি হতে হবে কি না—এমন প্রশ্নে স্প্যানিশ দলপতির জবাব ছিল বেশ কূটনৈতিক, ‘দেখুন, এটা ফুটবলেরই একটা অংশ। ম্যাচ কোন দিকে মোড় নেয়, তা মাঠেই দেখা যাবে। আমি বিশ্বাস করতে চাই আর্জেন্টিনা নিজেদের সবটুকু উজাড় করে খেলবে, সস্তা কোনো কৌশলের আশ্রয় নেবে না। তবে মাঠের পরিস্থিতি যদি তেমন রূপ নেয়ও, আমাদের কাজ হবে মাথা ঠান্ডা রাখা। কোনো ধরনের প্ররোচনায় পা না দিয়ে নিজেদের আসল খেলাটা খেলে যাওয়া।’

ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলতে নামা আর্জেন্টাইন জাদুকর লিওনেল মেসিকে সমীহ জানাতে অবশ্য কার্পণ্য করেননি রদ্রি। মেসিকে ফুটবলের ‘সর্বকালের সেরা’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েও প্রতিপক্ষকে প্রচ্ছন্ন এক হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন তিনি, ‘ফুটবলার হিসেবে মেসি কী, কিংবা আর্জেন্টিনার জন্য তার অবদান কতটা—সেটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমার চোখে ওই সর্বকালের সেরা। তবে আর্জেন্টিনা দলটা কেবল মেসির ওপর নির্ভরশীল নয়। তারা প্রমাণ করেছে যে উচ্চমানের ফুটবলারদের নিয়ে গড়া দারুণ এক ভারসাম্যপূর্ণ দল এটি। তাই লিওকে নজরে রাখার পাশাপাশি বাকিদের নিয়েও আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’

চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ফাইনালের পথটা ছিল নাটকীয়তায় ভরা। নকআউট পর্বে কেপ ভার্দেকে অতিরিক্ত সময়ে হারানো, মিশরের বিপক্ষে অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে বিতর্কিত জয়, এরপর ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধেও পিছিয়ে পড়েও নাটকীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচ জেতা—আলবিসেলেস্তেদের মানসিক দৃঢ়তারই প্রমাণ দেয়। আর্জেন্টিনার এই লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করে রদ্রি বলেন, ‘প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে যেভাবে তারা ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তা তাদের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ চরিত্রের কথাই বলে। আমরা বিষয়টি মাথায় রাখছি। আমরা জানি তারা কেমন দল, তবে তাদের শক্তি অনুযায়ী কোথায় আঘাত করতে হবে, সেই পরিকল্পনাও আমাদের জানা আছে।’

সেমিফাইনালে টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট ফ্রান্সের শক্তিশালী আক্রমণভাগকে বোতলবন্দি করে এবং মাঝমাঠের আধিপত্য ধরে রেখে ফাইনালে পা রেখেছে স্পেন। ফরাসিদের বিরুদ্ধে সেই পারফরম্যান্সকে স্পেনের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা হিসেবে দেখছেন রদ্রি। তবে বিশ্বসেরার মুকুট পরতে হলে সেই পারফরম্যান্সকেও ছাড়িয়ে যেতে হবে বলে মনে করেন তিনি, ‘ফ্রান্সের বিরুদ্ধে আমরা দারুণ খেলেছি, কিন্তু আর্জেন্টিনাকে হারাতে হলে আমাদের খেলার মান আরও এক ধাপ ওপরে নিয়ে যেতে হবে। কারণ ওরা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। তবে আমার দলের ওপর আমার অগাধ বিশ্বাস আছে, আমরা ট্রফি জিততে পারব।’