আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০২৩

কোহলির ঐতিহাসিক সেঞ্চুরির দিনে ভারতের রেকর্ড সংগ্রহ

কোহলির রেকর্ড সেঞ্চুরির দিনে তিন অঙ্ক ছুঁয়েছেন শ্রেয়াস আইয়ারও

কোহলির ঐতিহাসিক সেঞ্চুরির দিনে ভারতের রেকর্ড সংগ্রহ

কোহলির রেকর্ড সেঞ্চুরির দিনে তিন অঙ্ক ছুঁয়েছেন শ্রেয়াস আইয়ারও

৪৯টি সেঞ্চুরি ছিল যে ব্যাটারের, সেই বিরাট কোহলির ওয়ানডে বিশ্বকাপের নকআউটে কোন ফিফটিই নেই! তা কী মানা যায়? এমনটাই সত্যি হয়ে থাকবে, সেটা কী হতে দিবেন জীবন্ত এই কিংবদন্তি? নকআউটে প্রথম ফিফটিটাকে সেঞ্চুরিতেই রূপান্তর করে ছাড়লেন। ৫০তম সেঞ্চুরিতে ওয়ানডে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সেঞ্চুরিয়ান বনে ইতিহাসও গড়লেন। তার ইতিহাস গড়ার দিনে শ্রেয়াস আইয়ার টানা দুই সেঞ্চুরি করলেও আড়ালে পড়ে যেতে পারেন। কিন্তু ৬৭ বলে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে আড়ালে না পড়ার বন্দোবস্তটা তিনি করে রেখেছেন। রান উৎসবে মেতে উঠা ভারত গড়ল রেকর্ড পুঁজি। ৪ উইকেটে তাদের ৩৯৭ রানের সংগ্রহ নকআউটে সর্বোচ্চ।

ম্যাচের আগে ভারতের নকআউটের চাপ নিয়ে কত কথা! টসে জিতে ব্যাটিং নিয়ে প্রথম ওভারেই সব ধুলোর সাথে মিশিয়ে দিলেন রোহিত। ট্রেন্ট বোল্টের ওভারে দুটি চার মেরেই ভারতের বার্তা দেওয়া শুরু। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই আগ্রাসী ভঙ্গিতে খেলা রোহিত এদিন আরও আক্রমণাত্মক রূপে দেখা দেন। রোহিতের ব্যাটে একের পর এক বাউন্ডারি ৫.২ ওভারে পঞ্চাশ রান এনে উড়ন্ত শুরু পেয়ে যায় ভারত। প্রথম পাঁচ ওভারে তিন ছক্কা মেরে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ছক্কার রেকর্ড, এক আসরে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড নিজের করে নেন। কিন্তু রোহিতের ঝড় থেমে যায় কিছুক্ষণ পর। টিম সাউদির স্লোয়ারে তুলে মারতে গিয়ে ৪৭ রানে আউট হয়ে যান। ২৯ বলের ইনিংসে মারেন ৪টি করে ছক্কা ও চার।

একপাশে দর্শক বনে যাওয়া শুবমান গিল পরে তার ঝলক দেখান। ৭১ রানে রোহিতকে হারানো ভারত পাওয়ারপ্লেতেই এনে ফেলে ৮৪ রান। একশ পূর্ণ করতে ভারত নেয় মাত্র ৭৪ বল। ৪১ বলে ফিফটি পেয়ে যাওয়ার পর আরও আক্রমণাত্মক হন গিল। ততক্ষণে নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের সকল অস্ত্রই মাঠে নামানো সারা। কিউই কোন বোলারই ভারতের সামনে যেন কোন ধরনের হুমকিই ছুড়ে দিতে পারেননি। আত্মবিশ্বাসের সাথে কোহলি তার মত দেখেশুনে খেলে যাচ্ছিলেন। গিল বাদে ভারতের প্রথম পাঁচ ব্যাটারের সবাই সেঞ্চুরি পেয়েছেন চলতি বিশ্বকাপে। প্রথম সেঞ্চুরির সুবাস পাচ্ছিলেন গিল, কিন্তু ৬৫ বলে ৭৯ রানে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে নেমে যেতে হয় তাকে। পায়ে ব্যথা পেয়ে মাঠ ছাড়ার আগে তার ইনিংসে ৮ চারের সাথে মারেন ৩ ছক্কা।

শ্রেয়াস আইয়ার এসে ভারতের ইনিংসের ছন্দে ছেদ পড়তে দেননি একটুও। ৫৯ বলে কোহলি ফিফটি পেয়ে যান। ২৮.১ ওভারেই দুইশ পূর্ণ করে ফেলে ভারত। ডাউন দ্য গ্রাউন্ডে হিটিংয়ে অবিশ্বাস্য দক্ষতা দেখান আইয়ার। ছক্কার মারে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন তার ইনিংস। ৩৫ বলে ফিফটি যখন পেয়ে গেছেন, ততক্ষণে ৪টি ছক্কার মার সারা তার। একপাশ আগলে রেখে খেলে যাওয়া কোহলি এগিয়ে যান সেঞ্চুরির পথে। শেষ দশ ওভারে ভারত প্রবেশ করে ২৮৭ রানে থেকে। কোহলি ঐতিহাসিক ৫০তম সেঞ্চুরি পেয়ে যান ১০৬ বলে। ১০৭ রানে পরে জীবন পেয়ে গেলেও কোহলি শেষমেশ মুম্বাইয়ের দর্শকদের মাতিয়ে চলে যান ১১৭ রানে।

১১৩ বলে ৯ চার ও ২ ছক্কা মেরে আউট হয়ে ফিরছেন যখন, ভারতের ৪৪ ওভারে রান ৩২৭। এরপর আলোড়ন তুলেছেন আইয়ার। ফিফটির পর আরও ৪টি ছক্কা মারেন আইয়ার। ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরিটা করে ফেলেন মাত্র ৬৭ বলে। ৮ ছক্কা ও ৩ চারে ৭০ বলে ১০৫ রানে অসাধারণ ইনিংস খেলে ফিরে যান ৪৯তম ওভারে। সূর্যকুমার এসে প্রথম বলে আউট হয়ে যান। কিন্তু পাঁচে নামা রাহুলের ২০ বলে ৩৯ রানের ক্যামিওতে ভারত থামেনি ৩৯৭ রানের কমে। ১০ ওভারে ১০০ রান দিয়ে ফেলা সাউদির কপালে জুটে ৩টি উইকেট।

Comments