জাবি ছাত্রদলের বর্ধিত কমিটিতে হত্যা মামলার ৩ পলাতক আসামি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক। ছবি: সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রদলের বর্ধিত কমিটিতে পদ পেয়েছেন হত্যা মামলার ৩ পলাতক আসামি।

আজ শুক্রবার ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বর্ধিত কমিটি ঘোষণা করা হয়।

কমিটিতে মোট ১২৪ জনকে যুগ্ম-আহ্বায়ক ও ৪০৫ জনকে সদস্য করা হয়েছে। এছাড়া দুজনকে দাপ্তরিক দায়িত্ব দেওয়া হয়।

একইদিনে শাখা আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের সই করা পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে ৬টি ছাত্রী হল ও ১১টি ছাত্র হলের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।

এই বর্ধিত কমিটিতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা শামীম মোল্লা হত্যা মামলার ৩ পলাতক আসামি পদ পেয়েছেন।

গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শামীমকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ২০-২৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর মামলা করে। 

মামলার ৮ নামীয় আসামির মধ্যে হামিদুল্লাহ সালমান, রাজু আহমেদ ও মোহাম্মদ রাজন মিয়া নতুন কমিটিতে স্থান পেয়েছেন।

হামিদুল্লাহ সালমানকে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের সভাপতি ও বর্ধিত কমিটির সদস্য, রাজু আহমেদকে যুগ্ম-আহ্বায়ক এবং মোহাম্মদ রাজন মিয়াকে সদস্য করা হয়েছে।

হত্যার ঘটনায় ওই ৮ শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৬ মাসের জন্য বহিষ্কারও করেছিল।

হত্যার ঘটনার পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় ছাত্রদল এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, অভিযুক্তরা সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।

মামলাটি বর্তমানে পিবিআইয়ের তদন্তাধীন। তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান বাপ্পী দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, শামীম হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং একজন আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। গ্রেপ্তার করা হয়েছে জাবি শিক্ষার্থী মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান রায়হান ও সাইফুল ইসলাম ভুইয়াকে। আরেক শিক্ষার্থী আতিক আত্মসমর্পণ করেন। বাকিরা এখনো পলাতক।

ছাত্রদলের রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কি ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না, এমন প্রশ্নের জবাবে ঢাকা জেলা পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার কুদরত-ই-খুদা ডেইলি স্টারকে বলেন, 'তাদের রাজনৈতিক প্রভাব তদন্তে কোনো প্রভাব ফেলেনি। তদন্ত চলমান রয়েছে এবং কোনো শৈথিল্য দেখানো হবে না।'

হত্যা মামলার আসামিদের পদ পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসিরউদ্দিন নাসির কোনো মন্তব্য করেননি। তিনি বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবকে প্রশ্ন করতে বলেন।

জানতে চাইলে জাবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহিরউদ্দিন বাবর দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'তিনজনের দীর্ঘদিনের ত্যাগ, শ্রম ও মেধাকে মূল্যায়ন করেই তাদের কমিটিতে রাখা হয়েছে।'

হত্যা মামলার আসামিকে পদায়নের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'মামলার আসামি মানেই তারা কেউ চূড়ান্ত দোষী নন। আইন আইনের মতো চলবে। আইন আমার সংগঠন দিয়ে চলে না।'

এর আগে, চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল ১৭৭ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে।

Comments

The Daily Star  | English
A dangerous suggestion

A dangerous suggestion

No provision in the constitution should be outside the purview of the judiciary

20h ago