প্রবাসে

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসা

প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন জাতিসংঘের অভিবাসী মানবাধিকারবিষয়ক স্পেশাল র‌্যাপোর্টিয়ার ফেলিপে গনজালেয মোরালেস।
রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসা
জাতিসংঘের অভিবাসী মানবাধিকারবিষয়ক স্পেশাল র‌্যাপোর্টিয়ার ফেলিপে গনজালেয মোরালেসের সঙ্গে স্পেনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সারওয়ার মাহমুদ। ছবি: সংগৃহীত

প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন জাতিসংঘের অভিবাসী মানবাধিকারবিষয়ক স্পেশাল র‌্যাপোর্টিয়ার ফেলিপে গনজালেয মোরালেস।

বিশেষভাবে, সম্পদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও মৌলিক সুযোগ-সুবিধাসহ জোর করে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মহানুভব দৃষ্টান্তের প্রশংসা করেন তিনি।

একই সঙ্গে, জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ২০২২-২৩ মেয়াদের নির্বাচনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিপুল সমর্থনে নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশকে অভিনন্দনও জানিয়েছেন ফেলিপে গনজালেয মোরালেস।

গত শুক্রবার মাদ্রিদে বাংলাদেশ দূতাবাসে স্পেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সারওয়ার মাহমুদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ দূতাবাসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মোরালেস আগামী ২০ জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক সফর করবেন। সফরের আগে বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে তার বৈঠক হয়।

তিনি অভিবাসীদের অধিকার সুরক্ষায় গৃহীত 'গ্লোবাল কম্প্যাক্ট অন মাইগ্রেশন' প্রণয়ন ও নিগোসিয়েশনে বাংলাদেশের নেতৃস্থানীয় ভূমিকার প্রশংসা করেন।

নিজ দেশে গণহত্যার শিকার রোহিঙ্গারা যেন নিরাপদে মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারে সেজন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে জনমত গঠনে স্পেশাল র‌্যাপোর্টিয়ার মোরালেসের সহায়তা কামনা করেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সারওয়ার মাহমুদ।

তিনি আরও বলেন, 'মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্রের নীতিগুলো ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি অবিচল বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী নিপীড়িত মানবতার পক্ষে সবসময়ই সোচ্চার। ১৯৭১ সালে এ দেশের জনগণ নিজেরাই ভয়াবহ গণহত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছেন।'

আর্থসামাজিক সূচকে বাংলাদেশের অনন্যসাধারণ সাফল্য ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দেশের অগ্রগতির বিষয় স্পেশাল র‌্যাপোর্টিয়ার মোরালেসকে জানান রাষ্ট্রদূত।

সারওয়ার মাহমুদ ২৫ মার্চকে 'আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস' হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রয়াসে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের সমর্থন আশা করেন।

স্পেশাল র‌্যাপোর্টিয়ার মোরালেস জানান, তার ব্যক্তিগত সংগ্রহে থাকা ১৯৭১ সালে নিউইয়র্কের মেডিসন স্কয়ার গার্ডেনে অনুষ্ঠিত 'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'র রেকর্ডিং বাংলাদেশের জন্য তার আবেগের এক মূল্যবান স্মারক।

দূতাবাসে বঙ্গবন্ধু কর্নার পরিদর্শনের সময় মোরালেস ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার তীব্র নিন্দা জানান।

লেখক: স্পেনপ্রবাসী সাংবাদিক

Comments