১৮ বছরে মেক্সিকোয় নিখোঁজ ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষ

একজন-দুজন নয়। একে একে অন্তত ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষ নিখোঁজ। তাদের গুম করা হয়েছে। আর এসব গুমের প্রতিবাদে দেশজুড়ে চলছে প্রতিবাদ।
এটি ঘটেছে উত্তর আমেরিকার স্প্যানিশ ভাষার দেশ মেক্সিকোয়। এসব মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন গত ১৮ বছরে।
আজ রোববার বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, এত এত মানুষের গুম হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরতে ও এটি প্রতিরোধে সরকারি কর্মকর্তাদের আরও আন্তরিক হওয়ার দাবি জানিয়ে হাজারো মানুষ মেক্সিকোজুড়ে প্রতিবাদে নেমেছেন।
এতে আরও বলা হয়, বিক্ষোভে নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন বান্ধবরাও। মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সদস্যরাও উপস্থিত প্রতিবাদ সমাবেশে। তারা গুমের বিচারের দাবিতে রাজধানী মেক্সিকোসহ দেশটির বড় বড় শহরে সমাবেশ করছেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেনবাউমের সহায়তা চেয়েছেন প্রিয় মানুষগুলোকে খুঁজে বের করার জন্য।
সংবাদ প্রতিবেদন অনুসারে, ২০০৭ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ফেলিপ কালদেরন যখন 'মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ' শুরু করেন, তখন থেকে ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষের খোঁজ মিলছে না। অনেক ক্ষেত্রে, এসব নিখোঁজ ব্যক্তিদের অনেককে জোর করে মাদকচক্রে জড়িয়ে ফেলা হয়। আবার অনেকে নিখোঁজ হন মাদক চোরাকারবার প্রতিরোধ করতে গিয়ে।

এসব গুমের পেছনে মাদকচক্র ও সংগঠিত অপরাধীদের মূলত দায়ী করা হলেও নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধেও হত্যা ও জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ আছে।
মেক্সিকো শহরে বিক্ষোভ ও সমাবেশের কারণে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
সংবাদ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অনেক পরিবার নিজ উদ্যোগে নিখোঁজ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছে। তারা নিজেদের পরিচয় গোপন করে মাদকচক্রের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিহতদের কবর বের করতে কাজ করেন। চরম ঝুঁকি নিয়ে এমন কাজে যুক্ত হওয়া ব্যক্তিদের অনেকে এখন নিখোঁজের তালিকায়।
দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, তারা কাউকে দাহ করার প্রমাণ পাননি।
জাতিসংঘ এই ঘটনাকে 'মানবিক বিপর্যয়' হিসেবে অভিহিত করেছে।
লাতিন আমেরিকার অপর দেশ গুয়েতেমালায় ৩৬ বছরের গৃহযুদ্ধে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ নিখোঁজ হন। যুদ্ধ শেষ হয় ১৯৯৬ সালে। ১৯৭৬ সাল থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত আর্জেন্টিনায় সামরিক শাসনামলে অন্তত ৩০ হাজার মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন।
Comments