মুনীর চৌধুরীর অগ্রন্থিত রচনা ‘টেলিভিশন নাটক’

ঢাকা টেলিভিশন কেন্দ্র থেকে নাটক প্রচারের একেবারে গোড়া থেকে আমি এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। প্রায় ৩ বৎসর পূর্বে প্রথম যখন টেলিভিশনে নাটক প্রদর্শন করার জল্পনা-কল্পনা চলছিল তখন এর ন্যূনতম সাফল্য সম্পর্কে কেউ নিশ্চিন্ত ছিলেন না।
মুনীর চৌধুরী, ছবি: সংগৃহীত

আমাদের টেলিভিশন সমালোচনা এখনও মূলতঃ বিদ্রূপাত্মক এবং খেদোক্তিপূর্ণ। অবশ্য কোনো কোনো পত্র-পত্রিকায় যে তীব্রতা ও তিক্ততার সঙ্গে টেলিভিশন নাটকের ব্যর্থতা সম্পকে আক্ষেপ জারি করা হয় তা থেকে এ-সত্যও প্রমাণিত হয় যে, এই অনুষ্ঠান অত্যন্ত আগ্রহ ও মনোযোগের সঙ্গে বহু গৃহবাসী নিয়মিত প্রত্যক্ষ করে থাকেন। দর্শক উদাসীন হলে মূল্যায়ন এত উত্তপ্ত হতে পারত না।

টেলিভিশন নাটকের এই ব্রাগ্র এবং বিপুলসংখ্যক দর্শকমণ্ডলির অস্তিত্ব একাধিক কারণে স্বাভাবিক এবং সঙ্গত। টেলিভিশনে প্রদর্শিত চলচ্চিত্রের মান যত উন্নতই হোক না কেন, তবু তা চিত্র এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বিদেশি চিত্র। নাটক সজীব এবং স্বদেশী। নাটক সম্পর্কে প্রত্যাশা প্রগাঢ় বলেই আশাহত হলে ক্ষোভ সহজেই রোষে পরিণত হয়। কিন্তু সবদিক নিরুত্তাপ হৃদয়ে বিচার করলে দেখা যাবে যে, এই আবেগ সর্বতোভাবে যুক্তিসঙ্গত নয় এবং এই পর্যায়ের সমালোচনাও টেলিভিশন-নাটকের মানোন্নয়নের কোনো গঠনমূলক নির্দেশদান করে না।

ঢাকা টেলিভিশন কেন্দ্র থেকে নাটক প্রচারের একেবারে গোড়া থেকে আমি এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। প্রায় ৩ বৎসর পূর্বে প্রথম যখন টেলিভিশনে নাটক প্রদর্শন করার জল্পনা-কল্পনা চলছিল তখন এর ন্যূনতম সাফল্য সম্পর্কে কেউ নিশ্চিন্ত ছিলেন না। একটা মাঝারি রকমের হলঘরের মাত্র এক- তৃতীয়াংশ অভিনয়কর্মের জন্য ব্যবহৃত হতে পারত। বাকি দুই-তৃতীয়াংশ ছিল আলোক-নিয়ন্ত্রণ, শব্দ-গ্রহণ ও চিত্র-প্রেরণের বহুবিধ ক্ষুদ্র-বহৎ যন্ত্রপাতিতে ঠাসা। এগুলোর শিল্পসম্মত কৌশলময় প্রয়োগে তখনও কেউ উল্লেখযোগ্যা দক্ষতা বা অভিজ্ঞতা অর্জন করেননি। ঐ স্বল্প পরিসরে, অত্যুজ্জ্বল আলোকের নিচে, অনবরত সঞ্চয়মান বিকটাকৃতির ক্যামেরার সামনে আমাদের অনভিজ্ঞ শিল্পিগণ অভিনয় কার্যসম্পাদনে আদৌ সমর্থ হবেন কিনা সে-বিষয়েও আমাদের উৎকণ্ঠার অন্ত ছিল না। মহড়ার সময়ে সংলাপ আগাগোড়া মুখস্থ করে অভিনয়কালে তাতে চরিত্রানুযায়ী গুণারোপ করে পরিবেশন করার অভ্যাস ইতিপূর্বে কেউ রপ্ত করা আবশ্যক বোধ করেননি। রেডিওতে অভিনয় করেছেন কাগজ পড়ে, মঞ্চে, স্মারকের তাগাদা অনুসরণ করে; চলচ্চিত্রে, এক-আধ মিনিটে বিভক্ত ক্ষুদ্র খণ্ডে। তার ওপর টেলিভিশনের উপযোগী করে বিশেষভাবে রচিত নাটকও ছিল অপ্রাপনীয়। এই পুঁজি নিয়েই যাত্রা শুরু হলো।

'ওই যে আকাশ নীল হলো আজ/ সে শুধু তোমার প্রেমে'ফেরদৌসী রহমানের গাওয়া গানটি দিয়েই ১৯৬৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর বিকেলে বাংলাদেশ টেলিভিশন- বিটিভির (তৎকালীন 'ঢাকা টেলিভিশন') অনুষ্ঠান সম্প্রচার শুরু হয়েছিল। এক ঘণ্টা দীর্ঘ নাটকের প্রথম সফল সম্প্রচার হয় ১৯৬৬ সালের ১২ই নভেম্বর, 'কেউ কিছু বলতে পারে না' শীর্ষক নাটক দিয়ে। এটিরও রচয়িতা মুনীর চৌধুরী। নটিকটি পরিচালনা করেন মুস্তাফা মনোয়ার। প্রগতিশীল চিন্তাধারার অধিকারী শহিদ বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক মুনিরচৌধুরী গবেষক, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক গল্পকার ও সাহিত্য সমালোচক। বিটিভিতে নাটক প্রচারের একেবারে গোড়া থেকে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিলেন।

টেলিভিশন নাটক নিয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশার কথা তিনি লিখেছিলেন-যা মুদ্রিত হয়েছিল ১৯৬৭ সালের ৭ অক্টোবর তৎকালীন 'দৈনিক পাকিস্তান' পত্রিকার 'চলচ্চিত্র বেতার টেলিভিশন সংখ্যা'য়। লেখাটি বিটিভির সূচনা পর্বের ইতিহাসের অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপাদনে সমৃদ্ধ। বিটিভির ৬০তম প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষ্যে 'টেলিভিশন নাটক' শীর্ষক দুষ্প্রাপ্য লেখাটি এখানে উপস্থাপন করা হলো। লেখাটি বর্তমানে প্রচলিত বানান রীতি ব্যবহৃত হয়েছে।

— সংগ্রহ ও ভূমিকা: কাজী জাহিদুল হক

১৯৬৫ সালের ২৭শে ফেব্রুয়ারি ঢাকা টেলিভিশন থেকে প্রথম নাটক প্রচারিত হল। আমার লেখা একটি গ্রহসন, নাম 'একতলা-দোতলা'। এতে যাঁরা অংশগ্রহণ করেন তাঁদের মধ্যে ছিলেন লিলি চৌধুরী, ফিরদৌস আরা, ডলি ইব্রাহিম, রামেন্দু মজুমদার ও খন্দকার রফিকউদ্দীন। এঁরা কেউ পেশাদার শিল্পী নন। পরিচালনা করেন মনিরুল আলম। নাটকটি মোটামুটি উপভোগ্য হয়েছিল। সেদিন সবাই উপলব্ধি করি যে, স্বল্পসংখ্যক যন্ত্রপাতি, অপটু, কারিগর, অপরিসর অভিনয়স্থল, অনভিজ্ঞ শিল্পী এবং অপরিণত ও অনুপযোগী রচনার প্রতিবন্ধকতা স্বীকার করে নিয়েই আমাদের অগ্রসর হতে হবে। মনে এই আশা ছিল যে, নতুন মাধ্যমের সঙ্গে আমাদের সকল পর্যায়ের শিল্পী ও কারিগরের পরিচয় যত নিবিড় হতে থাকবে ততই আমরা ক্রমান্বয়ে আমাদের যাবতীয় অপারগতার মূল কারণগুলো অপসারিত করার কলাকৌশল আয়ত্ত করে ফেলব। সকল আশ্য সফল হয়নি।

আমাদের টেলিভিশন-নাটক এখনও প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর্যায়ভুক্ত। তবে এর সবচেয়ে বড় সাফল্য সংঘটিত হয়েছে পরিবেশন বা প্রডাকশনের ক্ষেত্রে। যখন টেলিভিশনের জন্য প্রথম লিখি তখন দৃশ্য পরিকল্পনায় স্থান পরিবর্তনের বৈচিত্রকে একপ্রকারে অস্বীকারই করতে চেয়েছি। মনে মনে আশঙ্কা ছিল যে, স্ট‍ুডিও নামক গৃহকোণে বেশি দৃশ্য বা সেট হয়তো স্থাপন করা যাবে না। পারলেও তা হবে মামুলী ধরেনর, অগভীর এবং বিস্তারহীন; সমতল এবং একতরফা। আশংকা করেছি যে, সংশ্লিষ্ট শিল্পী ও কারিগরগণ একটানা বিশ-পঁচিশ মিনিটের বেশি হয়তো বিপর্যয়হীনভাবে নাটক টেলিভিশনটিউবে প্রেরণ করতে পারবেন না। তাই তখন অনুরুদ্ধ হয়েছিলাম স্বল্পসংখ্যক সরল দৃশ্যের ক্ষুদ্রায়তন নাটক রচনা করার জন্য। আমাদের সকলেরই পরে এ-বিষয়ে মত পাল্টাতে হয়েছে। এক ঘণ্টা দীর্ঘ নাটকের প্রথম সফল পরীক্ষা হলো ৬৬ সালের ১২ই নবেম্বর, 'কেউ কিছু বলতে পারে না' দিয়ে। পরিচালনা করেন মোস্তফা মনোয়ার। অংশগ্রহণকারী লিলি চৌধুরী ও নূরুল্লাহ, রেশমা ও হাসান ইমাম, ডলি ইব্রাহিম ও ফারুকুল ইসলাম এবং ওয়েটারের ভূমিকায় দীন মোহাম্মদ তাঁদের দক্ষ ও প্রাণবত অভিনয়ের দ্বারা সকলকে আনন্দদান করেছিলেন। গত দেড় বছরে নাটক পরিবেশনের মান উল্লেখযোগ্য উন্নতি লাভ করেছে।

আমাদের পরিচালকগণ এখন ক্যামেরার চোখকে অনেকাংশে নিজেদের দৃষ্টিকোণের বশ করে নিতে শিখেছেন, স্বকীয় উদ্ভাবনী শক্তি ও কলাজ্ঞানের সাহায্যে সামান্য উপকরণে ও প্রত্যয়োৎপাদক বিচিত্র ও বহুমাত্রিক দৃশ্যপট নির্মাণ করতে সমর্থ হচ্ছেন। জনাকীর্ণ হোটেলের অংশ, হাসপাতালের করিডোর, কারাগারের অভ্যন্তর, দোতলার ছাদ সবই এখন নৈপুণ্যের সঙ্গে টেলিভিশন-নাটকে রূপায়িত হয়। আবদুস সাত্তার রচিত ও মোস্তফা মনোয়ার পরিচালিত 'নদীর অনেক নাম' নামে যে নাটকটি ৬৭ সালের মে মাসের ১৪ তারিখ প্রচারিত হয় তার দৃশ্যপটের পরিকল্পনা সকলের অকুন্ঠ প্রশংসা অর্জন করে। সুকৌশলে সজ্জিত মঞ্চ সুনিয়ন্ত্রিত আলোকে উদ্ভাসিত হয়ে জাহাজের একটি মধ্যম শ্রেণির কক্ষ ও তৎসংলগ্ন রেলিং-ঘেরা ডেকের অংশ মনোমুগ্ধকর রূপে জীবন্ত করে তুলেছিল। মনিরুল আলমের সরীসৃপ' এবং নজরুল ইসলাম থেকে রূপান্তরিত 'কুহেলিকায়' আটটি করে স্বতন্ত্র দৃশ্যপট প্রস্তুত করা হয়েছিল। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত 'শুধু পথ চলার' নাটকের সেটে কুযোপাড়ের চমৎকার বিভ্রম উৎপাদন করা হয়। বাঁশের বেড়ার পাশে কুয়োর মুখ, সামনে বালতিতে পানি। বাসন-মাজা, কাপড়-কাচা, মুখ-ধোয়া সবই দেখান হয়েছিল প্রাত্যহিক জীবনাচরণের নিখুঁত অনুকরণে।

এতগুলো দৃষ্টান্ত উল্লেখ করলাম শুধু একটা কথা প্রতিপন্ন করার জন্য। সে-হলো এই যে, আমাদের টেলিভিশন-নাটকের যত প্রকার দুর্বলতাই থাকুক না কেন, পরিবেশনের বা প্রযোজনার অক্ষমতা তার মধ্যে মুখ্য নয়। মধ্যে মধ্যে নাটক চলাকালে নাট্যসংলা-বহিভুত কথাবার্তার গুঞ্জনধ্বনি শুনতে পাওয়া অথবা হঠাৎ মাইক্রোফোন বা ক্যামেরার অংশ পর্দায় ভেসে ওঠা কিম্বা কোনো অভিনেতর ভ্রমবশত নির্দিষ্ট সেটের সীমানা লংঘন করে অন্যত্র পদার্পণ করা, এই জাতীয় দোষ-ত্রুটি উন্নত ধরনের যন্ত্রপাতির আমদানি, অভিনয় কক্ষের সম্প্রসারণ, শিল্পী-কারিগরদের অধিকতর সতর্কতা অবলম্বন ও অভিজ্ঞতা অর্জনের সঙ্গে সঙ্গে দূর হয়ে যেতে বাধ্য। বর্তমান অবস্থায়, সবদিক বিচার করে স্বীকার করতেই হয় টেলিভিশন-নাটক প্রযোজনার মান বিশেষ প্রশংসারযোগ্য। কেবল পরিচালক যন্ত্রনিয়ন্তা এবং দশাপট নির্মাতা শিল্পী-কারিগরগণের পারদর্শিতার জন্যই যে এই সাফল্য অর্জিত  হয় তা নয়। দেশের সেবা অভিনেতা অভিনেত্রীগণ প্রায় সকলেই নিয়মিতভাবে ঢৌলভিশন-নাটকে অংশ নিয়ে থাকেন। হাসান ইমাম, মোস্তফা, আনোয়ার, সিরাজ, রাজ্জাক, আলতাফ, খান জয়নুল, আশীষ কুমার লোহ, রেশমা, সুজাতা, সুমিতা এঁরা সকলেই টেলিভিশনেরও পরিচিত মুখ। মোট কথা, টেলিভিশনে নাটক প্রযোজনার ক্ষেত্রে আয়োজনের আড়ম্বর মোটেই সামান্য নয়। যন্ত্রপাতি আধুনিক, কারিগর কুশলী, পরিচালক কল্পনাশীল, শিল্পী তারকা- চিহ্নিত। তবু আমাদের আক্ষেপ, রবিবারের নাটক প্রায় কখনই আমাদের সন্তুষ্ট করতে পারে না কেন?

জবাবটা রুঢ়। আমাদের নাটক রচনার মান সন্তোষজনক নয়। যে-সকল নাটক টেলিভিশন থেকে প্রচারিত হয় তার বেশির ভাগ রচনাই শিল্পকর্ম হিসাবে অকিঞ্চিৎকর। চারিত্রচিত্রণ, ঘটনাগ্রন্থণ, পরিণাম সংঘটন এত সরল ও প্রথাবদ্ধ যে তার মধ্য দিয়ে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য কোনোরকম নাটকীয় রসোৎপাদন সম্ভব নয়। কেবল কলারীতির অপকর্ষ নয়, এ-সকল রচনার অন্তনিহিত জীবনবোধও অতিশয় কৃত্রিম ও অর্থহীন। যে-সকল জীবন-সমস্যার নাটকীয় রূপায়ণ দর্শক-শ্রোতার হৃদয় আলোড়িত করতে পারত টেলিভিশন-নাটক সুপরিকল্পিতভাবে তা পরিহার করে চলে। সম্ভবত টেলিভিশনের নীতি নিয়ন্ত্রণকারী শক্তিই বহুলাংশে এই 'অলীক কুনাট্যের' অনুপ্রাণক ও পৃষ্ঠপোষক। সরাসরিভাবে না হলেও টেলি-নাট্যকারকে 'হুকুম তামীল' করার জন্য তৈরি থাকতে হয়। তিনি প্রথম থেকেই তাঁর কাহিনির জন্য এমন প্রসঙ্গ নির্বাচনে তৎপর হন যা কোনোক্রমে কর্তৃপক্ষের অস্বস্থিবোধের কারণে পরিণত হতে না পারে। অধিকাংশের চিন্তাশক্তি ও নীতিবোধের যা সাধারণ গুণিতক নাট্যকারগণ যেন ভ্রমেও তার বাইরে পদক্ষেপ না করেন সে-বিষয়ে একটা অলিখিত কিন্তু অলঙ্ঘনীয় নির্দেশ এই প্রতিষ্ঠানে সবসময়ের জন্যই জারি করা আছে। এই নিরীহ নিরক্ত নিরাপদ নাটকই টেলিভিশনকে একটি পুরোপুরি বিবেক-বুদ্ধি বিবর্জিত গৃহপলিত বিনোদনে পরিণত করেছে।

একথা সত্য যে, প্রতিভা প্রতিবন্ধকতাকেও প্রয়োজনীয় উপকরণে পরিণত করতে সমর্থ হয়। কিন্তু সাধারণ লেখকের পক্ষে প্রতিকূল পরিবেশ প্রাণান্তকর। বিধিনিষেধের

বেড়াজাল প্রতিভাকে রুষ্ট করে, সৃষ্টি অবরুদ্ধ করে না; কিন্তু অপেক্ষাকৃত স্বল্প ক্ষমতার অধিকারীকে স্থায়ীভাবে নিকৃষ্ট লেখকে পরিণত করে। টেলিভিশন নাটকের মুক্তি নেই যতদিন না সর্বকালীন জীবনের তাৎপর্যপূর্ণ উৎকণ্ঠাসমূহ সততার সঙ্গে নাটকে রূপায়িত করার জন্য লেখকগণ অনুপ্রেরণা ও অনুমোদন লাভ না করেন।

অবস্থার সাময়িক উন্নতি বিধানের জন্য কিছু কার্যকর পরিকল্পনা এখনই গ্রহণ করা যেতে পারে। যেমন, টেলিভিশনের জন্য রচিত নয় অথচ টেলিভিশনে সার্থকতার সঙ্গে রূপায়িত করা সম্ভব এমন একাধিক উৎকৃষ্ট গল্প-নাটক-উপন্যাস অনুসন্ধান করলে পূর্বপাকিস্তানেও পাওয়া যাবে বলে আমি কিবাস করি। কিন্তু তার জন্যে টেলিভি শনের নিজস্ব লাইব্রেরী থাকা দরকার, ক্ষমতাধিকারী প্রযোজকগণের সেগুলো পড়া দরকার এবং কিছু, নির্বাচিত রচনার স্বত্বাধিকার পূর্বাহ্ণেই সংগ্রহ করে রাখা আবশ্যক। দ্বিতীয়ত, টেলিভিশন-নাটকের মহড়া পরিচালনার ব্যবস্থাকে ভদ্রস্থ করে তুলতে হবে। মহড়ার জন্য ধ্বনি নিয়ন্ত্রিত প্রশস্ত স্বতন্ত্র কক্ষ না থাকাটা সর্বাত্মকভাবে ক্ষতিজনক। অন্য উপায়ের অভাবে সুপরিচালিত মহড়া পর্ষবেক্ষণও নতুন মাধ্যমের নাট্যকারের বোধশক্তি তীক্ষণ ও পরিপুষ্ট করে তুলতে পারত। গ্রন্থ পাঠের দ্বারা এই জ্ঞান অর্জিত হওয়া সম্ভব নয়, কারণ বিশেষজ্ঞগণ যে অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আদর্শ টেলিভিশন-নাটক রচনার কৌশলাদি বর্ণনা করেছেন তার অনেক বক্তব্যই আমাদের বিশেষ অবস্থার ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য নয়। 

Comments