সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন মাত্র ৫ শতাংশ ভুক্তভোগী

সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনায় ভুক্তভোগীদের সরকারি ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সংখ্যা খানিকটা বাড়লেও দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়া এবং সচেতনতার অভাবে অধিকাংশ ভুক্তভোগী এখনও এই সুবিধার বাইরে রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও অধিকারকর্মীদের মতে, ক্ষতিপূরণ পেতে সড়ক দুর্ঘটনার ৩০ দিনের মধ্যে আবেদনসহ অন্তত অর্ধডজন কাগজপত্র জমা দিতে হয়। কিন্তু, ভুক্তভোগীর পক্ষে এই সময়সীমার মধ্যে এত নথি জোগাড় বা জমা দেওয়া কঠিন হয়ে যায়।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৪৭১ জন ভুক্তভোগী বা তাদের পরিবার ৬৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। অথচ, এই সময়ের মধ্যে দুর্ঘটনাজনিত হতাহতের সংখ্যা ৩১ হাজার ৯০৪।

অর্থাৎ ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে সরকার ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দেওয়া শুরু করার পর থেকে সরকারি হিসাব অনুযায়ী সড়ক দুর্ঘটনার ভুক্তভোগীদের মধ্যে ক্ষতিপূরণপ্রাপ্তদের সংখ্যা পাঁচ শতাংশেরও কম।

তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। গত তিন মাসে মোট ৩৫২ জন ভুক্তভোগী ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন, যেখানে এর আগের ২৮ মাসে এই সংখ্যা ছিল ১ হাজার ১১৯।

গাড়ির মালিকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা বার্ষিক ফি দিয়ে গঠিত একটি তহবিল থেকে এই ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। গত বছরের নভেম্বর পর্যন্ত এই তহবিলে জমা হয়েছিল ২২৫ কোটি টাকা।

বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার মতে, অনেক দুর্ঘটনার রিপোর্ট না হওয়ায় সড়ক দুর্ঘটনার প্রকৃত ভুক্তভোগীর সংখ্যা সরকারি হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিআরটিএ চেয়ারম্যান ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু মোমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ জানান, গত ১২ আগস্ট বোর্ডের সর্বশেষ বৈঠকে ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করার সময়সীমা বাড়িয়ে দুই মাস করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গত ২৫ আগস্ট দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, 'প্রয়োজনীয় নথিপত্র ইতোমধ্যেই অনুমোদনের জন্য সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে পাঠানো হয়েছে।'

Comments

The Daily Star  | English

From classroom to cobbler’s stall: boy’s dreams shattered by mob killing

Slain Ruplal's 14-year-old occupies his father’s empty seat to run his family

1h ago