ইউএনও কার্যালয়ে সেবা নিতে যাওয়া যুবককে পেটালেন আনসার সদস্যরা

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এর কার্যালয়ে সেবা প্রার্থী এক তরুণকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কার্যালয়ে কর্মরত দুই আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে।
নোয়াখালীর কবিরহাটে ইউএনওর কার্যালয়ে সেবা নিতে গিয়ে আনসার সদস্যদের পিটুনিতে আহত মো. আহসান হাবিব। ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এর কার্যালয়ে সেবা প্রার্থী এক তরুণকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কার্যালয়ে কর্মরত দুই আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে।

আহত যুবকের নাম মো. আহসান হাবিব (২২)। তিনি উপজেলার কবিরহাট পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মো. এনায়েত উল্যার ছেলে। আজ বুধবার দুপুর পৌৗনে ১টার দিকে কবিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

ইউএনওর কার্যালয়ে সেবা নিতে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে ভিডিও কলে কথা বলায় ওই যুবককে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পরে কবিরহাট পৌরসভা এলাকার বেশ কয়েকজন যুবক কবিরহাট উপজেলার আনসার ব্যারাকে হামলার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে পৌরসভার মেয়র জহিরুল হক রায়হান ও ইউএনও ফাতেমা সুলতানা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে তাদের ফেরত পাঠায়। ঘটনাটি নিয়ে কবিরহাট পৌর এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়।

আহসান হাবিব অভিযোগ করে বলেন, তিনি তার ভাইয়ের জন্ম নিবন্ধন পত্রের নাম সংশোধন করার জন্য ইউএনওর কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। সেবা প্রার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় আমাদের লাইনে দাঁড়াতে হয়। এ সময় ভিডিও কলে সেবাগ্রহীতাদের ভিড়ের দৃশ্য দেখানোয় ইউএনও কার্যালয়ের আনসার সদস্য ইউনুস এসে তাকে মুঠোফোনে ভিডিও করার অভিযোগে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

সেখানে উপস্থিত সেবা গ্রহীতা একজন এগিয়ে এলে আনসার সদস্য ইউনুস ও রনি তাকে ধরে লাঠি দিয়ে পেটাতে থাকেন।

আহত আহসান হাবিব বলেন, আনসার সদস্য রনি লাঠি দিয়ে আমার চোখে আঘাত করে মারধর শুরু করেন। কিছুক্ষণ পর বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানাতে আমরা তার কক্ষে প্রবেশ করি। নির্বাহী কর্মকর্তাকে অভিযোগ জানিয়ে ফেরার পথে আনসার সদস্য ইউনুস ও রনি আমাকে আবার মারধর করে। পরে ইউএনও আমাকে তার গাড়িতে করে কবিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে পাঠায়। আমি চোখে দেখতে পাচ্ছি না।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত আনসার সদস্যদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাওয়ায় তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। ইউএনও ফাতেমা সুলতানা বলেন, তারা নিজেরা মাঠে মারামারি করেছে। আমার কক্ষে কাউকে মারধর করা হয়নি।

আরেক প্রশ্নের জবাবে ইউএনও বলেন, দুই আনসার সদস্যকে আর এখানে রাখা হবে না। তাদেরকে জেলায় পাঠিয়ে দেওয়া হবে। রনিকে কবিরহাট উপজেলা থেকে বিসিক শিল্প পুলিশে বদলি করা হয়েছে। চোখে আঘাত পাওয়ায় আহত যুবককে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

Comments