বাংলাদেশ

সন্তান হত্যার বিচার দেখা হলো না বুয়েটশিক্ষার্থী সনির বাবার

‘তিনি দীর্ঘ বছর ধরে সনি হত্যার বিচার পাওয়ার আশায় ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি মেয়ে হত্যার বিচার দেখে যেতে পারলেন না।’
হাবিবুর রহমান ভুইঞা। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী সাবেকুন নাহার সনির বাবা হাবিবুর রহমান ভুইঞা মারা গেছেন।

আজ শনিবার সকালে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। হাবিবুর রহমান ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন।

বিষয়টি দ্য ডেইলি স্টারকে নিশ্চিত করে হাবিবুরের ছেলে মাকসুদুর রহমান বলেন, 'বাবা ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকাল ৮টায় তিনি মারা যান।'

সনির চাচাত ভাই আদিল আহমেদ টুটুল ডেইলি স্টারকে জানান, ২ মাস আগে তার ক্যানসার ধরা পড়ে। এরপর থেকেই তিনি নিয়মিত চিকিৎসা নিয়ে আসছিলেন। আজ সকালে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। আজ এশার নামাজের পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের বিজেশ্বর গ্রামে তার জানাজা হবে। এরপর সেখানেই তার মরদেহ দাফন করা হবে।

আদিল আহমেদ টুটুল বলেন, 'তিনি দীর্ঘ বছর ধরে সনি হত্যার বিচার পাওয়ার আশায় ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি মেয়ে হত্যার বিচার দেখে যেতে পারলেন না।'

উল্লেখ্য, ২০০২ সালের ৮ জুন বুয়েটে ক্লাস শেষে হলে ফেরার পথে টেন্ডারবাজিকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন কেমিকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী সাবেকুন নাহার সনি।

২০০৬ সালের মার্চে হাইকোর্টের রায়ে পলাতক ৩ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এদের মধ্যে মোকাম্মেল হায়াত খান মুকি ও নুরুল ইসলাম সাগর এখনো গ্রেপ্তার হননি। 

২০২১ সালের ২৩ ডিসেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সনির বাবা দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, ১৯ বছরেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও এখনো সনি হত্যা মামলার প্রধান ২ আসামি পলাতক রয়েছেন। তিনি তৎকালীন সরকার, পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে খুনিদের পাশে থাকার এবং তাদের পালাতে সহায়তা করার অভিযোগ তোলেন। 

রায় কার্যকর হয়নি বলে সে সময় আক্ষেপ করেন সনির বাবা হাবিবুর রহমান।

Comments