১ মিনিট ১৫ সেকেন্ডে ২৩১ গ্রামের নাম বলতে পারেন আক্তারুজ্জামান

মো. আক্তারুজ্জামান। ছবি: স্টার

মাত্র সোয়া এক মিনিটে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার ২৩১ গ্রামের নাম বলতে পারেন গাজীপুরের আক্তারুজ্জামান। রায়েদ ইউনিয়নের হাফিজ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। গত বছর শিক্ষকতা থেকে অবসরে গেছেন।

ছেলের এই মেধায় মুগ্ধ নব্বই বছরের মা। বলেন, 'আমার ছেলে যা পারে তা আর কেউ পারে না। ছেলেটা অনেক কিছু জানে। অনেক গান জানে, বঙ্গবন্ধুর ভাষণ মুখস্ত বলতে পারে। দেশের সব জেলার নাম বলতে পারে।'

বাঘিয়া গ্রামের বাড়ির বারান্দায় বসে তিনি এসব কথা বলে যান।

আক্তারুজ্জামানের এ গুণের কারণে উপজেলায় বেশ পরিচিত তিনি।

হাফিজ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনির হোসেন বলেন, 'বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক দেড় শতাধিক গান জানেন, জসিম উদ্দিনের কবর কবিতার ১১৮ লাইন মুখস্ত বলতে পারেন। বলতে পারেন বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চ এর ভাষণ। এছাড়া ১ মিনিট ১৫ সেকেন্ডে বলতে পারেন কাপাসিয়া উপজেলার ২৩১ গ্রামের নাম। ৩০ সেকেন্ডে বলেন দেশের সব জেলার নাম।'

তিনি বলেন, আক্তারুজ্জামান স্কুলে বাংলা পড়াতেন। ভালো শিক্ষক ছিলেন। এর আগে তিনি উপজেলার মৈশন উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন।

কথা হয় আক্তারুজ্জামানের সঙ্গে। ধানের বীজতলায় কাজ করছিলেন তখন। যে শিক্ষকের গল্প মানুষের মুখে মুখে তাকে দেখা যায় একেবারেই সাদামাটা। তিনি বলেন, আমি ধানখেতে কাজ করছিলাম। আপনাদের কথা শুনে আসলাম।'

কীভাবে এত কম সময়ে সবগুলো গ্রামের নাম বলতে পারেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আমি সাইকেল নিয়ে ঘুরে ঘুরে গ্রাম দেখেছি আর মুখস্ত করেছি।' এ কথা বলে এক নিশ্বাসেই গ্রামের নামগুলো বলে ফেলেন।

তিনি বলেন, শিক্ষার কোনো বয়স নেই। আমি এখনো লেখাপড়া করি। আমি আরও বেশি জানতে চাই। বর্তমানে মাদক যুব সমাজকে বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এজন্য শিক্ষার্থীদের বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিচ্ছি। লেখাপড়া করে মানবিক মানুষ হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।

আক্তারুজ্জামান-নাছিমা দম্পতির তিন সন্তান। তাদের মধ্যে একজন প্রতিবন্ধী। স্ত্রী নাছিমা খাতুন বলেন, টানাপড়েনের সংসার কোনো রকমে চলে যায়। তবে আমার স্বামী খুব মেধাবী। তিনি অনেক কিছু জানেন।

আক্তারুজ্জামানের ছাত্র মতিউর রহমান বলেন, স্যারের অনেক গুণ। 'আক্তার স্যারের বড় গুণ হলো প্রায় দেড় মিনিটে ২৩১ গ্রামের নাম বলতে পারেন।'

কাপাসিয়া উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আমানত হোসেন খান বলেন, আমি সাবেক ওই শিক্ষকের কর্মগুণের সম্মাননা দিতে চাই।পরিবারে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হচ্ছে।

Comments

The Daily Star  | English
A dangerous suggestion

A dangerous suggestion

No provision in the constitution should be outside the purview of the judiciary

16h ago