তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষ, সুন্দরবনে ঢোকা যাবে কাল থেকে

তিন মাস বন্ধ থাকার পর আগামীকাল ১ সেপ্টেম্বর থেকে পর্যটক ও বনজীবীদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে সুন্দরবন।
বন্যপ্রাণী ও মাছের প্রজনন মৌসুম হওয়ায় গত ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে পর্যটক প্রবেশ ও সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখে বন বিভাগ। একই সঙ্গে সুন্দরবনের নদী-খালে মাছ শিকারের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা ছিল।
নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় এখন সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে উপকূলের বনজীবী পরিবারগুলোতে। অন্যদিকে, পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন ট্যুর অপারেটররাও।
খুলনার উপকূলীয় উপজেলা দাকোপের সুতারখালী গ্রামের জেলে সিরাজুল গাজী প্রায় ৪০ বছর ধরে সুন্দরবনে কাঁকড়া ও মাছ শিকার করেন। তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'তিন মাস কাজ বন্ধ থাকায় খুব কষ্টে ছিলাম। ধারদেনা করে সংসার চালাতে হয়েছে। অনুমতিপত্র (পাস) নিয়ে আগামী সপ্তাহে ছোট ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে বনে যাব।'
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবনের (টোয়াস) সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আজম ডেভিড দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমাদের সব প্রস্তুতি শেষ। আশা করছি, প্রথম দিনেই কয়েকটি পর্যটকবাহী নৌযান সুন্দরবনে যাবে।' টোয়াসের আওতাভুক্ত প্রায় ৬৫টি নৌযান সুন্দরবনের ট্যুর অপারেট করে।
তবে পর্যটকদের সংখ্যা নিয়ে কিছুটা শঙ্কার কথাও জানান তিনি। বলেন, 'প্রকৃতি অনুকূলে থাকলেও দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সামনে স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষার কারণে অনেক পরিবার এখনই আসতে পারবে না।'
নাজমুল আজম আরও বলেন, সম্প্রতি বন বিভাগের সঙ্গে তাদের বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে পর্যটকদের নৌকা থেকে নামানোর সময় লাইফ জ্যাকেট পরানো, বনে প্লাস্টিক নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা এবং পানির জন্য প্লাস্টিকের বোতলের বদলে স্টিল বা কাচের বোতল ব্যবহারে পর্যটকদের উদ্বুদ্ধ করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, খুলনা রেঞ্জে ২ হাজার ৮৭১টি এবং সাতক্ষীরা রেঞ্জে ৩ হাজার ২টি নৌকা সুন্দরবনে প্রবেশের জন্য নিবন্ধিত। এসব নৌকায় করে বনজীবীরা মাছ, কাঁকড়া, গোলপাতা ও মধু সংগ্রহ করেন। তবে এখন শুধু মাছ ও কাঁকড়া শিকারিরাই বনে প্রবেশের অনুমতি পাবেন।
সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এ জেড এম হাসানুর রহমান ডেইলি স্টারকে বলেন, 'সুন্দরবন শুধু জীববৈচিত্র্যেই নয়, মৎস্য সম্পদেও সমৃদ্ধ। এই মৎস্য সম্পদ রক্ষায় ২০১৯ সাল থেকে প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ে সুন্দরবনের সব নদী ও খালে মাছ আহরণ বন্ধ রাখা হয়। ২০২২ সাল থেকে সময় বাড়িয়ে তিন মাস করা হয়েছে। এর সুফলও মিলছে।'
Comments