নারায়ণগঞ্জে যাত্রীবাহী বাস ভাঙচুর-আগুন

বাসের যাত্রীরা আগেই নেমে যাওয়ায় কেউ হতাহত হননি।
মিশনপাড়া এলাকায় উৎসব বাসে ভাঙচুরের পর আগুন দেওয়া হয়। এতে বাসের অন্তত ৬টি সিট পুড়ে যায়। ছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জ শহরে যাত্রীবাহী দুটি বাস ভাঙচুর করা হয়েছে এবং এর একটিতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

আজ রোববার সকাল পৌনে ১১টার দিকে শহরের নবাব সলিমুল্লাহ সড়কের মিশনপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিচুর রহমান মোল্লা দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, হরতাল সমর্থনকারীদের একটি মিছিল থেকে একটি বাস ভাঙচুর করে আগুন দেওয়া হয়। পরে তারা আরও একটি বাসে ভাঙচুর চালায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিএনপির ডাকা হরতালের সমর্থনে মিশনপাড়া এলাকায় একটি মিছিল থেকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচল করা উৎসব ট্রান্সপোর্টের একটি বাসে ভাঙচুর চালানো হয়। পরে বাসটিতে আগুন দেওয়া হয়। 

একই এলাকায় বন্ধু পরিবহনের একটি বাসেও ভাঙচুর চালানো হয় বলে জানান স্থানীয়রা।

আগুন দেওয়া বাসটির অন্তত ৬টি সিট পুড়ে গেছে। তবে দুটি ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

উৎসব বাসটির চালক মো. নিয়াজুল সাংবাদিকদের বলেন, 'ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বাসটিতে কয়েকজন যাত্রী ছিলেন। তাদের নিয়ে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ডের দিকে যাচ্ছিলাম। এ সময় একটি মিছিল থেকে লোকজন বাস থামিয়ে যাত্রীদের নামিয়ে দেয়। পরে তারা বাস ভাঙচুর করে আগুন জ্বালিয়ে দেয়।'

'স্থানীয়দের সহযোগিতায় পানি দিয়ে আগুন নেভানো হয়। বাসের যাত্রীরা আগেই নেমে যাওয়ায় কেউ আহত হননি,' বলেন তিনি।

তবে বিএনপির বিরুদ্ধে বাস ভাঙচুর-আগুনের অভিযোগ অস্বীকার করে মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু ডেইলি স্টারকে বলেন, 'হরতালের সমর্থনে বিএনপির মিছিল থেকে বাস চলাচল বন্ধ রাখার অনুরোধ জানানো হয়। অজ্ঞাত দুষ্কৃতিকারীরা বাসটিতে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন দেয়।'

এ ঘটনার সঙ্গে বিএনপির কেউ জড়িত নয় বলে দাবি তার।

জানতে চাইলে ওসি আনিচুর রহমান মোল্লা ডেইলি স্টারকে বলেন, 'সকাল থেকে বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকটি স্থানে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করে বিএনপি ও হরতাল সমর্থনকারীরা। কয়েকটি জায়গায় পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে গিয়ে সরিয়ে দেয়।'

'বাস ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই তারা পালিয়ে যায়,' যোগ করেন তিনি।

Comments