বাইরে থেকে শত্রু আসা লাগে না, দেশের ভেতরেও আছে: প্রধানমন্ত্রী

বাইরে থেকে শত্রু আসা লাগে না, দেশের ভেতরেও আছে: প্রধানমন্ত্রী
আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা | ছবি: টেলিভিশন থেকে নেওয়া

বিসিএস কর্মকর্তাদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের শত্রু বাইরে থেকে আসা লাগে না, আমাদের দেশের ভেতরেও আছে। কারণ মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতাকারী, পঁচাত্তরের খুনি বা তাদের আওলাদ-বুনিয়াদ যা আছে; এরা কখনো বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে দেবে না, বাধা দেবে।

আজ রোববার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

এদিন প্রধানমন্ত্রী বিসিএস কর্মকর্তাদের ৭৫তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সনদ বিতরণ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে পাঁচটি প্রকল্প-কর্মসূচির আওতায় নির্মিত ভবন ও জেমস সফটওয়্যারের উদ্বোধন করেন।

প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'অনেক রকম প্রতিবন্ধকতা আসবে, আমাদের শত্রু বাইরে থেকে আসা লাগে না, আমাদের দেশের ভেতরেও আছে। কারণ মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতাকারী, পঁচাত্তরের খুনি বা তাদের আওলাদ-বুনিয়াদ যা আছে এরা কখনো বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে দেবে না, বাধা দেবে। সেই শত বাধা অতিক্রম করেই তো আমরা এগিয়ে যাচ্ছি এবং এগিয়ে যাব। কেউ আমাদের আটকাতে পারবে না।

'আজকে আমাদের অর্থনীতি কিছুটা চাপে আছে; মুদ্রাস্ফীতি। এ ব্যাপারে সকলকে, মাঠে গেলে ব্যবস্থা নিতে হবে। সকলের উৎপাদন বাড়াতে হবে। কোনো অনাবাদি জমি থাকবে না,' যোগ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, '৭৫ সাল থেকে ৯৬, আবার ২০০১ থেকে ২০০৮ বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায়। এই ২৯টি বছর কিন্তু দেশ এগোতে পারেনি। এটা হলো বাস্তবতা। দেশ চলেছে, দেশ থেমে থাকে না। চলেছে ঠিকই কিন্তু যে আদর্শ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ সে জায়গাটায় কিন্তু পৌঁছাতে পারেনি। আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পরে; আমি কিন্তু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে না, আমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের কন্যা, জনগণের সেবক। যেটা আমার বাবা বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে যে, আমি জনগণের সেবক। আমি নিজেও মনে করি, আমি জনগণের একজন সেবক। ক্ষমতা আমার কাছে ভোগের জায়গা না।

'আমার জীবনমান যেভাবে ছিল আগাগোড়া আমি সেভাবেই আছি। বরং আরও ভালো অবস্থায় ছিলাম। এখন সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাই, সেটা আলাদা কথা কিন্তু কখনো এ কথা চিন্তা করিনি যে, এই সুযোগ নিয়ে আমাকে আরও ভালো থাকতে হবে, আরও কিছু করতে হবে—সেই চিন্তা কিন্তু করিনি,' বলেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, 'ছেলে-মেয়েদের শিখিয়েছি, লেখাপড়া শিখতে হবে, সেটাই বড় সম্পদ। এর বেশি সম্পদ আর কিছু পাবে না। তারপর লেখাপড়া শিখে নিজে যা অর্জন করো। আমি, আমার ছোট বোন ছেলে-মেয়েদেরকে সেই শিক্ষাই দিয়েছি; একমাত্র সম্পদ শিক্ষা। সেটা কেউ ছিনতাই করতে পারবে না, কেড়েও নিতে পারবে না—কেড়ে নিলেও জ্ঞান কেড়ে নিতে পারবে না।'

প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হতে হবে। দেশের মানুষের প্রতি দায়িত্ব বোধ-কর্তব্য বোধ থাকতে হবে। তাদের রোদে পোড়া, মাঠে কাজ করে-বৃষ্টিতে ভিজে-ঘাম ঝরিয়ে তারা যে অর্থ উপার্জন করে সেই উপার্জনের টাকা দিয়েই কিন্তু আমাদের সবার সব কিছু চলে। এ কথাটা আমাদের ভুললে চলবে না। আমাদের সব সময় মাথায় রাখতে হবে যে, এই যে খেটে খাওয়া মানুষ, তাদের কষ্টের ফসলটাই কিন্তু আমরা ভোগ করি। সে জন্য তাদেরকে কীভাবে আমরা সহযোগিতা করতে পারি। সেটাই আমাদের দেখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'যখন জাতিসংঘ এমডিজি নিলো তখন আমি প্রধানমন্ত্রী ছিলাম। আমরা খুব সফলভাবে এমডিজি বাস্তবায়ন করেছি। এসডিজি বাস্তবায়নে করোনাভাইরাস, ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ, স্যাংশন-কাউন্টার স্যাংশনের জন্য কিছু অসুবিধা হচ্ছে কিন্তু তারপরও এখনো আমরা অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে আছি। সেটাও আমরা এগিয়ে থাকব।'

Comments

The Daily Star  | English
Mirza Fakhrul on polls

Efforts on to make polls questionable and delayed: Fakhrul

Says Chief Adviser Yunus has assured BNP that the election will be held in February 2026

6h ago