অবশেষে নজরে এল এডিসি হারুনের অপকর্ম

সোমবার বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে।
হারুন-অর-রশিদ। ছবি: সংগৃহীত

অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) হারুন-অর-রশিদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অসংখ্য অভিযোগের পর, অবশেষে তার সহিংস প্রবণতা পুলিশ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করায় আমরা স্বস্তি পেয়েছি। গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, শনিবার সন্ধ্যায় শাহবাগ থানায় ছাত্রলীগের দুই সদস্যকে নির্যাতন করার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে হারুনকে বদলি করা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পুলিশের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং সোমবার বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে।

গত কয়েক বছরে, এডিসি হারুন তার সহিংস আচরণের মাধ্যমে 'কীর্তি'র এক রেকর্ড গড়েছেন। ছাত্র, শিক্ষক, সাংবাদিক, বিরোধী দলের সদস্যসহ যারা কোনো পাবলিক ইস্যু বা সরকারি নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন তাদের ওপর তিনি যেভাবে হামলা করেছেন তার বেশ কিছু রিপোর্ট গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তার মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগের বিষয়টি বহুবার পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আনা হলেও কাজ হয়নি। গত বছর এক ঘটনায় তিনি এক সহকর্মী পুলিশ সদস্যকে চড় মেরেছিলেন, যার ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। তৎকালীন ডিএমপি কমিশনারের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করা হলে তিনি স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, এডিসির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। চলতি বছরের মার্চে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (এসসিবিএ) নির্বাচন চলাকালে সাংবাদিক ও আইনজীবীদের ওপর পুলিশের হামলার নেতৃত্ব দেন হারুন। ভুক্তভোগীদের একজন, এটিএন নিউজের একজন সিনিয়র রিপোর্টার বলেন, তিনি হারুনের হামলার বিষয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

যাই হোক, এটি কৌতুহলোদ্দীপক যে তার ক্ষমতার অপব্যবহারের দিকে বার বার দৃষ্টি আকর্ষণ করার সমস্ত ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর, পুলিশ তখনই ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলো যখন তিনি ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র শাখার দুই সদস্যকে লাঞ্ছিত করলেন। এ থেকে কি এই বোঝায় না যে রাজনৈতিক  বিবেচনায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?

এডিসি হারুন একাধিকবার নিয়ম ভঙ্গ করে অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করেছেন, যা অনেক আগেই সুরাহা করা উচিত ছিল। আমরা পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, এডিসি হারুনের ক্ষেত্রে তারা যেভাবে পুলিশি অপকর্ম ও নৃশংসতার অভিযোগ করেছে, সেভাবেই তারা যেন পুলিশের অপকর্ম ও নৃশংসতার সব অভিযোগের প্রতি মনোযোগ দেয়। তাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে তাদের প্রাথমিক দায়িত্ব দেশের নাগরিকদের প্রতি, ক্ষমতাসীন দলের প্রতি নয়।

Comments

The Daily Star  | English

Iran seizes cargo ship in Strait of Hormuz after threats to close waterway

Iran's Revolutionary Guards seized an Israeli-linked cargo ship in the Strait of Hormuz on Saturday, days after Tehran said it could close the crucial shipping route and warned it would retaliate for an Israeli strike on its Syria consulate

1h ago