আইপিএল

দ্বিতীয় বলে ছক্কা মারার পর আত্মবিশ্বাস পেয়ে যান পুরান

মাত্র ১৫ বলে এবারের আসরের দ্রুততম ফিফটি হাঁকান পুরান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই তারকা থামেন ১৯ বলে ৬২ করে।
ছবি: টুইটার

আরেকটি অবিশ্বাস্য ম্যাচের দেখা মিলল আইপিএলে। রিংকু সিংয়ের শেষ ওভারে টানা ৫ ছক্কার রেশ থাকতেই পরদিন নিকোলাস পুরানের ব্যাট হয়ে উঠল উত্তাল। তিনশর বেশি স্ট্রাইক রেটে খেললেন তিনি। লখনউ সুপার জায়ান্টসের শেষ বলের নাটকীয় জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান রাখা এই বাঁহাতি ব্যাটার নিজের বিধ্বংসী ইনিংসটি উৎসর্গ করলেন স্ত্রী ও সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়া সন্তানকে।

গতকাল সোমবার রাতে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে তাদের মাঠেই ১ উইকেটে হারিয়েছে লখনউ। টস হেরে আগে ব্যাট করে স্বাগতিকরা তোলে ২ উইকেটে ২১২ রান। বিরাট কোহলি ৪৪ বলে ৬১, অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসি ৪৬ বলে অপরাজিত ৭৯ ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ২৯ বলে ৫৯ রান করেন। জবাবে ৪ ওভারে ২৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে মহাবিপাকে পড়ে লখনউ।

পাঁচে নেমে মার্কাস স্টয়নিস ৩০ বলে ৬৫ রান করে দলকে ফেরান ম্যাচে। এরপর মাত্র ১৫ বলে এবারের আসরের দ্রুততম ফিফটি হাঁকান পুরান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই তারকা থামেন ১৯ বলে ৬২ করে। তিনি যখন সাজঘরে ফেরেন, তখন ১৮ বলে ২৪ রান দরকার ছিল লখনউয়ের। তাদের হাতে ছিল ৪ উইকেট। ইমপ্যাক্ট খেলোয়াড় আয়ুশ বাদোনি ২৪ বলে ৩০ রান করে আউট হওয়ার পর নিচের দিকের ব্যাটাররা শেষ বলে দলকে ভেড়ান তীরে।

ছয়ে নেমে ৪টি চার ও ৭টি ছক্কা হাঁকানো পুরানই হন ম্যাচসেরা। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, 'এই ইনিংসটা আমার স্ত্রী ও সদ্য জন্ম নেওয়া সন্তানের জন্য। আমাদের এই ম্যাচটা জেতার দরকার ছিল। স্টয়নিস ও কেএলের মধ্যকার জুটিটা অসাধারণ ছিল। স্টয়নিস আমাদেরকে ম্যাচে রেখেছিল। আমরা জানতাম যে শেষের দিকে খেলা সহজ হয়ে পড়ে। উইকেট ব্যাট করার জন্য খুবই ভালো ছিল।'

কর্ন শর্মার করা একাদশ ওভারের শেষ ডেলিভারি কাউ কর্নার দিয়ে সীমানার বাইরে পাঠান পুরান। তখনই মানসিক জোর মিলে যায় তার, 'মুখোমুখি হওয়া দ্বিতীয় বলে ছক্কা মারি এবং সেটা আমাকে মানসিকভাবে ভালো অবস্থানে নিয়ে যায়। নিজের খেলা নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করছি আমি। এরকম পরিস্থিতিতে আমি থাকতে চাই। আমি গত কয়েক বছর নিজের দলকে জেতানোর চেষ্টা করে কেবল হতাশই হয়েছি। এখন আমি খুব ভালো মানসিক অবস্থায় আছি এবং কেবল ক্রিকেট উপভোগ করতে চাই। মজা করতে চাই, মুখে হাসি রাখতে চাই এবং দলের জন্য যা করা দরকার, তা করতে চাই।'

আইপিএলের গত আসরে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে খেলেছিলেন পুরান। ১৪ ম্যাচে ১৪৪.৩৩ স্ট্রাইক রেটে তার সংগ্রহ ছিল ৩০৬ রান। লখনউয়ের জার্সিতে এবার ৪ ম্যাচে তিনি করেছেন ১৪১ রান। তার স্ট্রাইক রেট ২২০.৩১।

 

Comments