তাসকিনের দুর্দান্ত বোলিং-লিটনের ঝড়ো ব্যাটিং, বাংলাদেশের অনায়াস জয়

তাসকিন আহমেদের বোলিং তোপে সাদামাটা পুঁজিতে আটকে গেল নেদারল্যান্ডস। রান তাড়ায় ঝড়ো ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশকে পথ দেখালেন অধিনায়ক লিটন দাস। দাপুটে পারফরম্যান্সে অনায়াস জয়ে সিরিজে এগিয়ে গেল স্বাগতিক দল।
শনিবার তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৮ উইকেটে জিতেছে ফিল সিমন্সের শিষ্যরা। টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে কেবল ১৩৬ রান করে ডাচরা। জবাবে ৩৯ বল হাতে রেখে স্রেফ ২ উইকেট খুইয়ে লক্ষ্যে পৌঁছায় বাংলাদেশ।
বলের হিসাবে ২০ ওভারের ক্রিকেটে এটি বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম জয়। ২০১৪ সালে মিরপুরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৪৮ বল বাকি থাকতে জিতেছিল টাইগাররা। আর গত বছর প্রেইরি ভিউতে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে তারা হারিয়েছিল ৫০ বল হাতে রেখে।

৭৭ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে তৃতীয়বারের মতো ৪ উইকেটের দেখা পান ম্যাচসেরা হওয়া ডানহাতি পেসার তাসকিন। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে এটি দ্বিতীয়বার, বাকিটি আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। চার ওভারে ২৮ রান খরচায় তার শিকার ৪ উইকেট। তিনে নামা লিটন মাত্র ২৬ বলে ফিফটি ছুঁয়ে অপরাজিত থাকেন ৫৪ রানে। ২৯ বল মোকাবিলায় তিনি মারেন ছয়টি চার ও দুটি ছক্কা।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি ফিফটির রেকর্ড এতদিন এককভাবে ছিল সাকিব আল হাসানের দখলে। এবার তাতে ভাগ বসালেন লিটন। দুজনেরই হাফসেঞ্চুরির সংখ্যা এখন সমান ১৩টি।
দুই বছর পর জাতীয় দলের হয়ে এই সংস্করণে খেলতে নামা সাইফ হাসান ব্যাটে-বলে কাড়েন নজর। শুরুতে দুই ওভারে ১৮ রানে তিনি পান ২ উইকেট। একই ওভারে ধরেন জোড়া শিকার। এরপর চার নম্বরে ক্রিজে গিয়ে ঝড় তোলেন। ১৯ বল খেলে একটি চার ও তিনটি ছক্কায় করেন অপরাজিত ৩৬ রান।
রান তাড়ায় বাংলাদেশের শুরুটা হয় উড়ন্ত। প্রথম তিন বলে টানা দুটি চারের পর একটি ছক্কা হাঁকান ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন। তবে নিজের পরের ওভারে শোধ নেন স্পিনার আরিয়ান দত্ত। দারুণ ডেলিভারিতে ৯ বলে ১৫ রান করা পারভেজকে বোল্ড করে দেন তিনি।
ক্রিজে গিয়েই বাহারি সব শটের পসরা সাজিয়ে বসেন লিটন। তার উত্তাল ব্যাটে চড়ে পাওয়ার প্লেতে ১ উইকেটে ৫৭ রান এনে ফেলে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় উইকেটে আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের সঙ্গে তিনি গড়েন ৩৯ বলে ৬৬ রানের জুটি। সেখানে অনেকটা দর্শকের ভূমিকায় থাকা তানজিদ স্বাচ্ছন্দ্যে ছিলেন না। বাঁহাতি স্পিনার টিম প্রিঙ্গলের ফুল টসে লং অনে ক্যাচ দিয়ে থামেন ২৪ বলে ২৯ রানে।

বাজে সময় কাটিয়ে ছন্দে ফেরার আভাস দেওয়া লিটনের দাপট চলতে থাকে। সবশেষ ১৯ টি-টোয়েন্টিতে স্রেফ দ্বিতীয় ফিফটির স্বাদ নেন তিনি। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন সাইফ। তৃতীয় উইকেটে দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটি ছিল ২৬ বলে ৪৬ রানের। টানা দুটি ছক্কায় ম্যাচ শেষ করে দেন সাইফ।
এর আগে তাসকিন সমর্থন পান সতীর্থ বোলারদের কাছ থেকে। বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান ছিলেন আঁটসাঁট। চার ওভারে মাত্র ১৯ রানে তিনি দখল করেন ১ উইকেট। কোনো শিকার ধরতে না পারলেও অফ স্পিনার শেখ মেহেদী চার ওভারে দেন কেবল ২১ রান।
সফরকারীদের সাত ব্যাটার দুই অঙ্কে গেলেও বিশের ঘর ছুঁতে পারেন কেবল দুজন। তিনে নামা তেজা নিদামানুরু ২৬ বলে তিনটি চার ও একটি ছক্কায় করেন সর্বোচ্চ ২৬ রান। ওপেনার ম্যাক্স ও'ডাউড ১৫ বল মোকাবিলায় সমান সংখ্যক বাউন্ডারিতে খেলেন ২৩ রানের ঝড়ো ইনিংস।
Comments