রাষ্ট্র বা ক্ষমতা নয়, শিক্ষার্থীদের পক্ষে কথা বলব: মেঘমল্লার বসু

ডাকসু নির্বাচনে ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’ প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী মেঘমল্লার বসু। ছবি: স্টার

রাষ্ট্র বা ক্ষমতা নয়, যেকোনো পরিস্থিতিতেই বরাবরের মতো শিক্ষার্থীদের পক্ষে কথা বলবেন বলেই জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে 'প্রতিরোধ পর্ষদ' প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী মেঘমল্লার বসু।

দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।

বাম গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট সমর্থিত প্যানেলটির এই জিএস প্রার্থী বলেন, ২০২৪ সালে অভ্যুত্থান করার সময় আমরা একটা সার্বজনীনতা ও এজমালি দর্শনের কথা বলেছিলাম যে, এই বিশ্ববিদ্যালয়টা সবার, এই দেশটা সবার। কিন্তু আমরা ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগস্টের পর দেখতে পেয়েছি এই দেশে নানানভাবে মানুষকে ডিহিউম্যানাইজ করা হয়েছে। এখানে মবের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখানে মোরাল পুলিশিং প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আদিবাসী, নারী কিংবা জাতিগত বা ধর্মগত সংখ্যালঘুদের প্রান্তিকতা বাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। ফলে বৈষম্যহীনতার স্পিরিট নিয়েই আমরা প্যানেল সাজিয়েছি। আমাদের প্যালেনই সবচেয়ে বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক, যেখানে ৪০ শতাংশ প্রার্থী নারী, যেখানে প্রতিবন্ধী, আদিবাসী ও প্রাণী অধিকার নিয়ে কাজ করা শিক্ষার্থী আছেন। আমরা এমন একটা বাংলাদেশ নির্মাণ করতে চাই, এমন একটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ করতে চাই যেখানে সবার অংশীদারত্বকে গ্রহণ করা হবে।

'আমাদের এখানকার প্রশাসন মূলত রাষ্ট্র দ্বারা নিয়োজিত। সেই প্রশাসন কখনো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারে না। সামনের জাতীয় নির্বাচনে যেই ক্ষমতায় আসুক না কেন, আমাকে শিক্ষার্থীরা বরাবরের মতো রাষ্ট্র বা ক্ষমতার পক্ষে নয়, বরং প্রতিরোধ-ন্যায্যতার পক্ষে কথা বলতে দেখবে।'

জয়ী হলে কী করবেন, জানতে চাইলে মেঘমল্লার বলেন, সবাই আবাসন, পরিবহনসহ নানা সংকট দূর করার কথা বলছেন। কিন্তু এসব সংকট দূর করতে হলে সবার আগে প্রয়োজন ডাকসুর গঠনতন্ত্রে আমূল পরিবর্তন। জয়ী হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিকে ডাকসুর গঠনতন্ত্র পরিবর্তনে কাজ করব। আবার আবাসন সংকট দূর করার ব্যাপারে অনেকেই পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের কথা বলছেন। কিন্তু আমি মনে করি এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও বেসরকারিকরণ ও ব্যয়বহুল করে তোলা হবে। সেটা না করে বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটকে কাজে লাগিয়েই আবাসন সংকট দূর করতে কাজ করব। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য মেন্টাল হেলথ সাপোর্ট গড়ে তোলা, পরিবহন সংকট দূর করা, রেজিস্ট্রার ভবনের বিড়ম্বনা দূর করে পুরো ব্যবস্থাকে ডিজিটালাইজ করার জন্য কাজ করব।

'আমি নিশ্চিত করব যাতে শিক্ষার্থীদের আর ডিহিউম্যানাইজহ না করা হয়, গণরুম সংস্কৃতি দ্বারা যাতে কেউ বিমানবিকীকরণের শিকার না হন। আমরাই একমাত্র প্যানেল যারা অনুষদ ভিত্তিক সংসদের কথা বলছি এবং সিআরদেরকে সেটার অংশ করে এমন একটা কাঠামো সাজেস্ট করছি, যেখানে অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের যে প্রতিনিধিত্ব সেই প্রতিনিধিত্ব হল শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বের মতো বা আবাসিক শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বের মতো করে যাতে একইভাবে থাকে।'

তিনি আরও বলেন, তা ছাড়া, এখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কে কোনো ভারসাম্য নেই। একজন শিক্ষক চাইলে একজন শিক্ষার্থীকে তার মন মতো ইভালুয়েট করতে পারেন। কিন্তু একজন শিক্ষার্থী শিক্ষককে ইভালুয়েট করার কোনো উপায় নেই। তাদের ক্ষেত্রেও ইভালুয়েশন সিস্টেম চালু করতে হবে। হলসহ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের যে তারতম্য, সেটা দূর করতে কাজ করব। একজন অ্যাবল বডিড কিংবা প্রতিবন্ধী, নারী কিংবা পুরুষ, জাতিগত বা ধর্মীয় সংখ্যালঘু—সবার সমান অধিকার নিশ্চিতে কাজ করব।

নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মেঘমল্লার বলেন, এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো ভোটারদের এনগেজমেন্ট। তারা প্রার্থীদের কাছে ইশতেহারসহ নানা খুঁটিনাটি বিষয় জানতে চাইছেন। কিন্তু সার্বিকভাবে আমরা ভোটার সাপ্রেশনের কার্যক্রম দেখতে পাচ্ছি। ভোটকেন্দ্র পর্যাপ্ত না। শিক্ষার্থীদের যদি ভোট দিতে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, যদি ভোট না দিয়ে ফিরে যেতে হয়, সেটা তো গ্রহণযোগ্য নয়। আবার এমন সময় নির্বাচন করা হচ্ছে যখন বহু শিক্ষার্থীর পরীক্ষার সময়। এগুলো নিয়ে আমরা বারবার কথা বলে আসছি। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো উদ্যোগ আমরা দেখিনি।

সবশেষে তিনি বলেন, আমরা আগেও প্রতিরোধ করেছি, এখনো করছি, ভবিষ্যতেও করব। শিক্ষার্থীরা যদি এমন কাউকে চান যিনি ন্যায্যতার পক্ষে থেকে রাষ্ট্র কাঠামো বা ক্ষমতার দিকে তাকিয়ে চোখে চোখ রেখে কথা বলবে, তাহলে তারা আমাকে নির্বাচিত করবেন। তবে নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক, আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে। নির্বাচিত হলে ভেতর থেকে, না হলে বাইরে থেকেই আমাদের লড়াই চলবে।

Comments

The Daily Star  | English

Govt condemns attack on Nur

Reaffirms its commitment to holding the national election in the first half of February 2026

42m ago