শীর্ষ খবর
বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট সিরিজ ২০১৭

প্রতিপক্ষের লেজ মুড়তেই যতো হ্যাপা

মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনে লাট্টুর মতো ঘুরছিলো বল, তা কাজে লাগিয়ে ১৪৪ রানেই অস্ট্রেলিয়ার ৮ উইকেট ফেলে দিয়েছিল বাংলাদেশ। লেজটা মুড়ে “স্বাস্থ্যবান” একটি লিড পাওয়া মনে হচ্ছিল সময়ের ব্যাপার। অথচ ওদের ইনিংস গিয়ে থামল ২১৭-তে। নবম উইকেটে দুই টেল এন্ডার রীতিমতো জ্বালিয়ে মারলেন, তুলে নিলেন ৪৯ রান। লেজ মুড়তে এমন হ্যাপা কিন্তু বাংলাদেশকে একবার নয়, পোহাতে হচ্ছে বারবার। দেখে নেওয়া যাক সেসব।
Tamim Iqbal
স্ট্রাইকে তামিম ইকবাল। ছবি: ফিরোজ আহমেদ

মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনে লাট্টুর মতো ঘুরছিলো বল, তা কাজে লাগিয়ে ১৪৪ রানেই অস্ট্রেলিয়ার ৮ উইকেট ফেলে দিয়েছিল বাংলাদেশ। লেজটা মুড়ে “স্বাস্থ্যবান” একটি লিড পাওয়া মনে হচ্ছিল সময়ের ব্যাপার। অথচ ওদের ইনিংস গিয়ে থামল ২১৭-তে। নবম উইকেটে দুই টেল এন্ডার রীতিমতো জ্বালিয়ে মারলেন, তুলে নিলেন ৪৯ রান। লেজ মুড়তে এমন হ্যাপা কিন্তু বাংলাদেশকে একবার নয়, পোহাতে হচ্ছে বারবার। দেখে নেওয়া যাক সেসব।

গেল অক্টোবরে মিরপুরেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঘটেছিলো একইরকম ঘটনা। সেবার ১৪৪ রানেই ইংলিশদের আট উইকেট শেষ। প্রথম ইনিংসে ২২০ রান করেও মোটাসোটা লিডের আশা বাংলাদেশের। বিধি বাম! ওই নবম উইকেটেই ক্রিস ওকস আর আদিল রশিদ মিলে করে ফেললেন ৯৯ রান। উল্টো লিড সফরকারীদেরই। ম্যাচটি অবশ্য ঠিকই পকেটে পুরতে পেরেছিলো বাংলাদেশ।

চলতি বছরের মার্চে শ্রীলঙ্কার গলে শততম টেস্ট খেলতে নামে বাংলাদেশ, এবং জিতেও। তবে ওই ম্যাচেও দুই ইনিংসেই বাংলাদেশকে পেরেশানিতে রেখেছিলেন টেল এন্ডাররা। সেই নবম উইকেট জুটিতেই! প্রথম ইনিংসে সুরাঙ্গা লাকমালের সঙ্গে ৫৫ রান তুলেন দিনেশ চান্দিমাল। পরের ইনিংসে দিলরুয়ার পেরেরার সঙ্গে ৮০ রানের জুটিতেও ছিলেন লাকমাল।

সাকিবদের বিপক্ষে নবম উইকেটে আঠার মতো লেগে থাকার আরেকটি ঘটনা ঘটে ২০১৩ সালে মিরপুরেই। প্রতিপক্ষ ছিলো নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশের ২৮২ রানের জবাবে ৩৩৫ রানে গিয়ে আট উইকেট হারায় কিইউরা। ওদের লিডটা আর খুব বড় হতে না দেওয়ার আশাই ছিলো। নবম উইকেটে ইশ সোধিকে নিয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন বিজে ওয়াটলিং। তাঁদের ৯৩ রানের জুটি। নিউজিল্যান্ড করে ফেলল ৪৩৭ রান। তবে দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিং দৃঢ়তায় ম্যাচটি ড্র করতে পেরেছিল বাংলাদেশ।

দেখা যাচ্ছে লেজ মুড়তে হ্যাপা পোহাতে হচ্ছে বেশ। ওই সময় ক্যাচও পড়ছে, এই টেস্টেই যেমন প্যাট কামিন্সের ক্যাচটা ওভাবে ফেলে না দিলে অসিরা কি এতদূর যেতে পারে? তবে ওদের টেলকে বাহবা দিতে হয়। সোমবার (২৮ আগস্ট) মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনে অমন পিচে কামিন্স আর অ্যাগার মূল্যবান রান এনে দিলেন বলেই তো এখনো খেলায় আছে অসিরা।

বিপক্ষের লেজ যেখানে শক্তপোক্ত, তাইজুল-মোস্তাফিজদের অবস্থা সেখানে তথৈবচ। কেবল টেল এন্ডারদের ব্যাটের তালিম দিতে অস্ট্রেলিয়া থেকেই মার্ক ও’নিলকে কদিন আগে দলে আনে বিসিবি। তার দাওয়াইয়ের ফল এখনো অবশ্য পাওয়া যায়নি। দ্বিতীয় ইনিংসে তা পাওয়া যায় কিনা সেটি দেখার বিষয়। টার্গেটে নেমে অস্ট্রেলিয়ান লেজ আবার কোন কাণ্ড করে বসে কিনা দেখতে হবে তাও। ১১ বছর আগে ফতুল্লায় যে অসি লেজটাই মুড়তে পারেনি বাংলাদেশ। হেরেছিল মাত্র ৩ উইকেটে। এবার তেমনটি হবে না । আশায় আছেন কোটি টাইগার সমর্থক।

আরও পড়ুন:

সব টেস্ট দলের বিপক্ষে ৫ উইকেটের বিরল রেকর্ড সাকিবের

৫০তম টেস্টে পঞ্চাশে সাকিব প্রথম, পরেই তামিম

বিপর্যয়ে হাল ধরলেন মাইলফলকের ম্যাচে নামা দুই বন্ধু

‘দুর্ভাগা ইমরুল’

Comments