ভারত

গভীর নিম্নচাপে পরিণত ঘূর্ণিঝড় মিগজাউম, চেন্নাইয়ে মৃত বেড়ে ১৭

তামিলনাড়ুর মূখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন, জানান ৪৭ বছরের মধ্যে এবার চেন্নাইতে সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও জানান, চার হাজার কোটি রুপি বিনিয়োগে স্টর্মওয়াটার ড্রেন নির্মাণের কারণে বৃষ্টিপাতের প্রভাব কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
চেন্নাইতে বন্যাকবলিত মানুষ একটি ভেলার ওপর আশ্রয় নিয়েছেন। সঙ্গে একটি কুকুরকেও আশ্রয় দিয়েছেন তারা। ছবি: এএফপি
চেন্নাইতে বন্যাকবলিত মানুষ একটি ভেলার ওপর আশ্রয় নিয়েছেন। সঙ্গে একটি কুকুরকেও আশ্রয় দিয়েছেন তারা। ছবি: এএফপি

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট প্রবল ঘূর্ণিঝড় 'মিগজাউম' ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় এলাকায় এসে দুর্বল হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। বৃষ্টিপাত ও বন্যায় চেন্নাইতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৭ হয়েছে।

আজ বুধবার ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এই তথ্য জানিয়েছে।

অন্ধ্রপ্রদেশে ভারী বৃষ্টিপাত হলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

অপরদিকে টানা বৃষ্টিপাত ও বন্যায় তামিলনাড়ু রাজ্যের রাজধানী চেন্নাইর বাসিন্দাদের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়ে। ভারী বৃষ্টিপাত সংশ্লিষ্ট ঘটনায় মারা গেছেন মোট ১৭ জন।  

চেন্নাই পুলিশ জানিয়েছে, এ ছাড়াও অন্তত ১০ ব্যক্তি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ও পানিতে ডুবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

তামিলনাড়ুর মূখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন, জানান ৪৭ বছরের মধ্যে এবার চেন্নাইতে সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও জানান, চার হাজার কোটি রুপি বিনিয়োগে স্টর্মওয়াটার ড্রেন নির্মাণের কারণে বৃষ্টিপাতের প্রভাব কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

গ্রেটার চেন্নাই কর্পোরেশনের কমিশনার ড. জে রাধাকৃষ্ণান জানান, চেন্নাইতে খাবার ও অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হচ্ছে এবং বন্যাকবলিত নিচু এলাকা থেকে পাম্প করে পানি সরানো হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, নিচু এলাকায় ৩০০ নৌকা মোতায়েন করা হয়েছে এবং ত্রাণ কাজে সহায়তা দিতে অন্যান্য জেলা থেকে পাঁচ হাজার কর্মী নিয়ে আসা হচ্ছে।

অন্ধ্র প্রদেশে মিগজাউমের প্রভাবে অনেক গাছ উপড়ে পড়ে। ছবি: রয়টার্স
অন্ধ্র প্রদেশে মিগজাউমের প্রভাবে অনেক গাছ উপড়ে পড়ে। ছবি: রয়টার্স

ভারতের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, ঘুর্ণিঝড় মিগজাউম দূর্বল হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে এবং এখন তা অন্ধ্র প্রদেশের উত্তর দিকে সরে যাচ্ছে।

পরবর্তী ছয় ঘণ্টার মধ্যে এটি আরও উত্তরে সরে যাবে এবং আরও দুর্বল হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হবে।

আজ বুধবার চেন্নাইর সব স্কুল ও কলেজ বন্ধ রাখা হয়েছে। শহরটির ৮০ শতাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এর আগের কয়েকদিন শহরের অনেক বাসিন্দা বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্কবিহীন অবস্থায় ছিলেন।

চেন্নাইর কমরাজল সরাই, ক্যাথেড্রাল, পন্ডিবাজার, ড্যামস, আরকে সালাই ও আন্না সালাই সড়কসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে।

চেন্নাই পুলিশ জানিয়েছে, এখনো বিভিন্ন সড়ক থেকে পাম্প করে পানি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং সীমিত আকারে যান চলাচল শুরু হয়েছে।

 

Comments