দরপত্র বদলে দেওয়া বগুড়ার সেই ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্ত

মো. নুরুজ্জামান উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক।
মো. নুরুজ্জামান। ছবি: সংগৃহীত

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার হাটবাজারের দরপত্র সরিয়ে অন্য আরেকজনের দরপত্র জমা দেওয়ার অভিযোগে উপজেলার মাঝিড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নুরুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউনিয়ন পরিষদ শাখা-১।

সেইসঙ্গে, তাকে কেন চূড়ান্তভাবে অপসারণ করা হবে না তার জবাব চিঠি পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে বগুড়া জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মো. নুরুজ্জামান উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক।

তাকে বরখাস্তের বিষয়টি আজ শুক্রবার বিকেলে দ্য ডেইলি স্টারকে নিশ্চিত করেছেন শাজানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদা খানম।

গতকাল বুধবার ডাকযোগে এই বরখাস্ত আদেশ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইউএনও।

সাঈদা খানম বলেন, 'দরপত্র চুরির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে চেয়াম্যান নুরুজ্জামানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।'

তিনি আরও জানান, গত ১৬ এপ্রিল স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউনিয়ন পরিষদ-১ শাখা থেকে এ বিষয়ে সিনিয়র সহকারী সচিব জেসমীন প্রধানের সই করা প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

জানতে চাইলে নুরুজ্জামান ফোনে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমি এখন রাজশাহী আছি। চিঠি পাওয়ার কথা শুনেছি। রোববার এলাকায় গিয়ে বিষয়টি দেখছি।'

অভিযোগ উঠেছে, গত ২ মার্চ উপজেলা অডিটোরিয়ামে হাটবাজারের ৪৩০ বঙ্গাব্দের ইজারা প্রদানের জন্য প্রথম পর্যায়ের দরপত্র দাখিল ও উন্মুক্তকরণ অনুষ্ঠানে নুরুজ্জামান উপজেলার জামাদারপুকুর হাটের একটি দরপত্র চুরি করে একজনের হাতে বাইরে পাঠিয়ে দেন। পরে অন্য একটি বানানো দরপত্র জমা দেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি সাজেদুর রহমান শাহীনকে জামাদারপুকুর হাট পাইয়ে দিতে দরপত্র চুরি করে বদলে দেন নুরুজ্জামান।

ঘটনার পর অভিযুক্ত নুরুজ্জামানের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে দরপত্র সবার সামনে থেকে নিয়ে অন্য একজনকে দিয়েছিলেন বলে স্বীকার করেন তিনি। কিন্তু যার হাতে দিয়েছিলেন তিনি দরপত্র পাল্টে দিয়ে থাকতে পারেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

পরে এই ঘটনায় গত ৪ মার্চ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসের কম্পিউটার অপারেটর মোজাহিদুল ইসলাম নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে শাজানপুর থানায় মামলা করেন। তিনি এখন জামিনে আছেন বলে জানিয়েছেন শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাদের জিলানী।

Comments