আড়াইহাজার

নজরুল ইসলাম বাবুর নির্বাচনী প্রচারণায় সরকারি কর্মকর্তা স্ত্রী

জাতীয় সংসদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা ও সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালার লঙ্ঘন এটি।
সায়মা আফরোজ। ছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবুর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন তার স্ত্রী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. সায়মা আফরোজ। জাতীয় সংসদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা ও সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালার লঙ্ঘন এটি।

নজরুল ইসলাম বাবু নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য এবং আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। দলীয় মনোনয়নে তিনি চতুর্থবারের মতো এ আসনটিতে সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন।

স্থানীয় লোকজন জানান, গতকাল বৃহস্পতিবারও উপজেলার দুপ্তারা ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে ভোট চেয়ে মিছিল ও গণসংযোগে অংশ নিয়েছেন ডা. সায়মা আফরোজ। ইউনিয়নের বাজবি এলাকা থেকে কালিবাড়ি পর্যন্ত স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নিয়ে প্রচারণা চালান তিনি। এ সময় নৌকার পক্ষে ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করেন সরকারি এ চিকিৎসক।

ওই প্রচারণায় আরও উপস্থিত ছিলেন দুপ্তারা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান শাহিদা মোশারফ, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আহমেদুল কবির, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে উপজেলার পাঁচগাও গ্রামে নৌকার পক্ষে গণসংযোগেও সায়মা আফরোজের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী কোনো প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না।

একইভাবে সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা ১৯৭৯-এর ২৫ (৩) ধারায় বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অথবা অন্যত্র কোনো আইন সভার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে অথবা নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করতে বা অন্য কোনোভাবে হস্তক্ষেপ করতে বা প্রভাব খাটাতে পারবেন না।

আসনটিতে জাতীয় পার্টির প্রার্থী দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য আলমগীর সিকদার লোটন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না এবং কোনো প্রার্থী তাদের প্রচারণায় ব্যবহার করতে পারবেন না। এ বিষয়ে বিধিনিষেধ আছে। কিন্তু নৌকার প্রার্থীর স্ত্রী, যিনি একজন সরকারি কর্মকর্তা, তিনি প্রতিদিন প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। আমি মনে করি, সংসদ সদস্যের নিজের উচিত এ বিষয়টি থেকে স্ত্রীকে বিরত রাখা।'

অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে তিনি এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ জানাবেন বলেও জানান।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. সায়মা আফরোজ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমি একজন সরকারি কর্মকর্তার পাশাপাশি একজনের স্ত্রীও। আমি সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে নয়, সংসদ সদস্যের স্ত্রী হিসেবে প্রচারণায় অংশ নিয়েছি।'

এদিকে, নৌকার প্রার্থীর পক্ষে ডা. সায়মা আফরোজের প্রচারণায় অংশ নেওয়ার ব্যাপারটি দৃষ্টিগোচর হয়েছে বলে জানান জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহমুদুল হক।

তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না। এই বিষয়ে আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'

Comments