পাঠ্যবই থেকে ‘শরীফার গল্প’ বাদ দেওয়ার সুপারিশের সঙ্গে একমত নয় মানবাধিকার কমিশন

কমিশন মনে করে, তাদের নিয়ে বিভ্রান্তিকর ধারণা দূর করতে হবে এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে।

পাঠ্যবই থেকে শরীফার গল্প বাদ দেওয়ার সুপারিশের সঙ্গে একমত নয় মানবাধিকার কমিশন। আজ মঙ্গলবার এক সভায় পাঠ্যবই থেকে শরীফার গল্প বাদ দেওয়ার সুপারিশের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করেন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ।

সভায় সুবিধাবঞ্চিত হিজড়া ও লিঙ্গ বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'তাদের নিয়ে বিভ্রান্তিকর ধারণা দূর করতে হবে এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে। শিক্ষাব্যবস্থার এবং পাঠ্যবইতে এই জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভূক্তি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নির্মাণে সহায়ক হবে।'

পাঠ্যবই থেকে শরীফার গল্প বাদ দেওয়ার সুপারিশ প্রসঙ্গে কমিশনের চেয়ারম্যান ড. কামাল বলেন, 'সামাজিক সম্পর্ক, প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য, বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা এবং একইসঙ্গে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত বাস্তবতার কারণে এ বিষয়টিকে সরলীকরণের কোনো অবকাশ নেই। আবার এ ধরনের সিদ্ধান্ত কোনো চূড়ান্ত সমাধান হিসেবে বিবেচিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে কমিশন মনে করে। আপাতত বিষয়টিকে অবদমিত রাখলেও প্রাকৃতিক কারণেই ভবিষ্যতে তা উদ্ভূত হবে। তাই যৌক্তিক কারণেই কমিশন ওই সুপারিশের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে।'

কমিশনের জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং অনগ্রসর অধিকার সুরক্ষা সংক্রান্ত কমিটি এবং দলিত, হিজড়া ও অন্যান্য অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষা সংক্রান্ত থিমেটিক কমিটির এ সভায় উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সদস্য মো. সেলিম রেজা, মো. আমিনুল ইসলাম, কংজরী চৌধুরী, ড. বিশ্বজিৎ চন্দ, ড. তানিয়া হক।

কমিটির সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মেসবাহ কামাল, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জিব দ্রং প্রমুখ।

সভায় ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, 'অনগ্রসর, অবহেলিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভূমি ও বাসস্থানের অধিকার নিশ্চিতপূর্বক জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশেষ করে, দলিত জাতিগোষ্ঠীর ভূমি, বাসস্থান, কর্মসংস্থান ও জীবন-জীবিকার বিদ্যমান সমস্যা ও জটিলতা দূর করে টেকসই সমাধানে মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন। এছাড়াও, তাদের সব রাষ্ট্রীয় ও নাগরিক সুবিধার অভিগম্যতা দ্রুত নিশ্চিত করাও আমাদের কর্তব্য।' 

তিনি আরও বলেন, 'কোনো সম্প্রদায়ের পুনর্বাসন নিশ্চিত না করে উচ্ছেদ করা অধিকার হরণের সামিল। সকলের আবাসন নিশ্চিতকরণে প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনা আছে। মিরনজিল্লা ও সুইপার কলোনিসহ অন্যান্যদের বাসস্থানের অধিকার নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নিতে হবে। ঝিমাইপুঞ্জিতে খাসিয়া সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও ভূমি অধিকার সুরক্ষায় কমিশন ওই এলাকা পরিদর্শন করেছে এবং বাস্তবসম্মত ও যথার্থ ব্যবস্থা নিয়েছে।'

সভায় লিঙ্গ বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর মানুষের চ্যালেঞ্জ নিয়ে কর্মকৌশল নির্ধারণ, মৌলভীবাজারে ঝিমাই পুঞ্জির জনগোষ্ঠীর বাসস্থান ও জীবিকা সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা ও করণীয় নির্ধারণ ও রোহিঙ্গা সংকটের বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।

 

Comments