শিক্ষা

কত সূত্র মুখস্থ করেছি, প্রয়োগ বুঝতে পারিনি: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, 'জীবনে আমরা কত সূত্র, কত ফর্মুলা মুখস্থ করলাম, কোথায় এর প্রয়োগ হয় তা বুঝতে পারিনি। তবে নতুন শিক্ষা পদ্ধতি শিখন পদ্ধতি বদলে দিয়েছে।'
দীপু মনি
গাজীপুরের শ্রীপুরে পিয়ার আলী ডিগ্রী কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া ও নবীন বরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। ছবি: স্টার

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, 'জীবনে আমরা কত সূত্র, কত ফর্মুলা মুখস্থ করলাম, কোথায় এর প্রয়োগ হয় তা বুঝতে পারিনি। তবে নতুন শিক্ষা পদ্ধতি শিখন পদ্ধতি বদলে দিয়েছে।'

আজ রোববার বিকেলে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় পিয়ার আলী ডিগ্রী কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও নবীন বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন।

নবীন শিক্ষার্থীদের শুভ কামনা জানিয়ে তিনি বলেন, 'তোমরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জ্ঞান ও দক্ষতার জন্য এসেছ। দক্ষ যোগ্য, মানবিক, সৃজনশীল মানুষ হয়ে মানবসেবার জন্য, দেশসেবার জন্য তোমরা এ প্রতিষ্ঠান থেকে বের হয়ে যাবে।'

মন্ত্রী দীপু মনি বলেন, 'আমাদের শিখন পদ্ধতির পরিবর্তন হয়েছে। জীবনে আমরা কত সূত্র, কত ফর্মুলা মুখস্থ করলাম, কোথায় এর প্রয়োগ হয় তা বুঝতে পারিনি। নতুন শিক্ষা পদ্ধতি শিখন পদ্ধতি বদলে দিয়েছে। এবার শিক্ষার্থীরা করে করে শিখবে। আত্মস্থ করবে, মুখস্থ করা দরকার নেই। শিখন পদ্ধতির পরিবর্তন হয়েছে, ধারাবাহিক মূল্যায়ন হবে। মূল্যবোধের চর্চা শিক্ষার মূল্যায়নের অংশ হবে।'

পাঠ্যবইয়ে ভুল প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, 'নবম দশম শ্রেণীর বই ২০১৩ সালের। ভুল ধরা পড়েছে আমরা সংশোধন করে দিয়েছি। কিন্তু একটা ভুল এতদিন কারও চোখে ধরা পড়েনি। আরও আগেই ধরা পড়া উচিত ছিল। পাঠ্যবইয়ে বানর থেকে মানুষ হওয়ার কথা বলা নেই। বরং বলা আছে মানুষ বানর থেকে হয়নি। আমাদের শিক্ষাক্রম পদ্ধতিতে এখন থেকে শিক্ষার্থীরা বারবার প্রশ্ন করবে। যত প্রশ্ন করবে ততই শিখবে।'

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষার পাশাপাশি ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা খুব জরুরি। মানুষ হতে হলে আমাদের মানবিকতার গুণসহ আরও অনেক গুণ অর্জন করতে হয়। আমাদের শারীরিক, মানসিক বিকাশ প্রয়োজন। সেজন্য খেলাধুলা খুব জরুরি। আরেক হচ্ছে সততার চর্চা। খেলাধুলার মাঠে সবার সঙ্গে থাকতে হয়, নিয়ম মানতে হয়। দ্বিতীয়ত খেলাধুলায় অন্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা যেমন হয়, এক সঙ্গে কাজ করার একটা স্পৃহাও কাজ করে। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড দিয়ে আমাদের মনের ও আত্মার বিকাশ ঘটে।'

'আমাদের সামনে অনেকগুলো লক্ষ্য আছে' উল্লেখ করে তিনি বলেন, '২০২৪১ সালে উন্নত, সমৃদ্ধ, সুখী স্মার্ট বাংলাদেশের লক্ষ্য। ২০৩০ সালের আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জন। আজকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ, মধ্যম আয়ের দেশ, ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং স্বপ্ন দেখি স্মার্ট বাংলাদেশের।'

পিয়ার আলী ডিগ্রী কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে ও গাজীপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোশারফ হোসেন ভূঁইয়ার পরিচালনায় এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন সবুজ।  

Comments