নির্বাচনী রোডম্যাপের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিএনপির বৈঠক আজ

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার আজ বুধবার সঙ্গে বৈঠকে বিএনপি নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপের দাবি জানাবে। গতকাল রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, দলটি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে একটি লিখিত বিবৃতি জমা দেবে।
এতে বলা থাকবে, রোডম্যাপ ঘোষণা না করা হলে বিএনপি রাজপথে আন্দোলন শুরু করবে।
তারা জানান, নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করে রোডম্যাপ ঘোষণা করা হলে দলটি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করবে।
আজকের বৈঠকে জুনের মধ্যে সংস্কার সম্পন্ন করার জন্য প্রধান উপদেষ্টাকে অনুরোধ জানাবেন বিএনপি নেতারা।
বিএনপি ইতোমধ্যে আগামী তিন মাসের জন্য বেশকিছু শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। তৃণমূল থেকে শুরু করে মিছিল, সমাবেশ ও শোভাযাত্রা হতে পারে এসব কর্মসূচি।
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আজকের বৈঠকে বিএনপি সুনির্দিষ্টভাবে জানতে চাইবে অন্তর্বর্তী সরকার কখন জাতীয় নির্বাচন দিতে চায়।
অধ্যাপক ইউনূস একাধিকবার বলেছেন, আগামী নির্বাচন এ বছরের ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের জুনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে। তবে বিএনপি জোর দিয়ে বলছে, সরকারকে আরও সুনির্দিষ্ট করে বলতে হবে।
দলটি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, সরকারের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নির্বাচন বিলম্বিত করার চেষ্টা করছেন।
আজ দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করবেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কয়েকজন নেতা।
এদিকে নির্বাচন নিয়ে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ না থাকায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ রোববার প্রশ্ন তোলেন, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস কার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছেন।
তিনি বলেন, 'কেন আপনি একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে থাকছেন না? আপনি একজন বিশ্বখ্যাত ও সম্মানিত ব্যক্তি। এ ধরনের পরিবর্তন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভালোভাবে গ্রহণ করা হবে না।'
দলটির নেতারা বলছেন, আজকের বৈঠকে বিএনপি তাদের অবস্থান পরিষ্কারভাবে জানাবে যে, ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচন দিতে হবে।
নেতারা আরও ইঙ্গিত দেবেন, তারা দাবি আদায়ে রাস্তায় নামতে পারেন।
তারা প্রধান উপদেষ্টাকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনকে জানাতে ও ডিসেম্বরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিতে বলবে।
গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
গত রোববার যারা সংস্কারের পক্ষে কথা বলছেন তাদের সমালোচনা করেছেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, 'তারা গুরুত্বপূর্ণ পদে বসে সংস্কারের কথা বলছেন, ব্যয়বহুল অফিসে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে আছেন। তারা গাড়ি, বেতন, বোনাস, ভাতার মতো সরকারি সুবিধা ভোগ করে সংস্কারের প্রচার করছেন।'
এদিকে গতকাল প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, 'আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্য কমিশনের সংলাপের মাধ্যমেই নির্ধারণ করা হবে আমরা কতটুকু সংস্কার করব। কতটুকু সংস্কার আমরা বাস্তবায়ন করব, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে।'
'যদি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, আমরা ২০০ সংস্কার করব, তাহলে প্রশ্ন উঠবে, আমরা তার মধ্যে ১০টি এখনই বাস্তবায়ন করব কিনা এবং বাকিগুলো (পরবর্তী সরকারের জন্য) রেখে দেব কিনা। এই পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্য কমিশনের সংলাপের ওপর।'
নির্বাচনী সময়সীমাকে কেন্দ্র করে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এটিই বিএনপির প্রথম বৈঠক।
দলটি মনে করে, সম্প্রতি বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ও উপদেষ্টা 'বিভ্রান্তিকর বক্তব্য' দেওয়ায় অনিশ্চয়তা বেড়েছে।
আজ প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে তারা ঠিক কবে নাগাদ নির্বাচনী রোডম্যাপ প্রকাশ করা হবে, তা জানতে চাইবে।
গত বছরের আগস্টের শুরুতে শেখ হাসিনার পতনের পর থেকেই জাতীয় নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে বিএনপি।
ফেব্রুয়ারির শুরুতে বিএনপি নেতারা বলেছিলেন, প্রধান উপদেষ্টা তাদের জানিয়েছেন, এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন হবে। তবে দলটির নেতারা এখন মনে করছেন, সরকার তার অবস্থান পরিবর্তন করেছে।
Comments