ঢাকায় পানির স্তর বছরে ২-৩ মিটার নামছে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

ফাইল ছবি:স্টার

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেছেন, 'ঢাকার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর প্রতি বছর ২ থেকে ৩ মিটার নিচে নেমে যাচ্ছে।' এ ছাড়া চট্টগ্রাম শহরে এই হার ৩ মিটার পর্যন্ত বলে জানিয়েছেন তিনি।

আজ সোমবার জাতীয় সংসদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মোরশেদ আলমের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও বলেন, 'বর্তমানে ঢাকা শহরের গড় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর এলাকাভেদে ৩৮ মিটার থেকে ৮২ মিটার।'

চট্টগ্রাম শহরে বর্তমানে গড় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ১০০ মিটার নিচে বলে জানান তিনি।

এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, 'বর্তমানে ঢাকা শহরে ৬৬ শতাংশ ভূ-গর্ভস্থ এবং ৩৪ শতাংশ ভূ-উপরিস্থ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। ঢাকা শহরে আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে রাজধানীতে ভূ-গর্ভস্থ পানির উৎসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ভূপৃষ্ঠস্থ উৎসের ওপর নির্ভরতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বৃহৎ ৩টি পানি শোধনাগার নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে যে, ২০২৫ সালের মধ্যে ৭০ ভাগ ভূপৃষ্ঠস্থ পানি আর ৩০ ভাগ ভূগর্ভস্থ পানির উৎসের ওপর নির্ভরতা নিশ্চিত করে ঢাকাবাসীর মধ্যে পানি সরবরাহ করা হবে। এর ফলে সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল (এসডিজি) অর্জন সম্ভব হবে।'

তিনি আরও জানান, প্রতি বছর ঢাকা শহরে পানির স্তর ২ থেকে ৩ মিটার নীচে নেমে যায় বলে ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং-এর এক সমীক্ষায় দেখা গিয়াছে।

চট্টগ্রাম মহানগরীতে শতভাগ নিরাপদ পানি সরবরাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে চট্টগ্রাম ওয়াসা ভূগর্ভস্থ পানি পরিবর্তে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বৃদ্ধির লক্ষ্যে কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'এ লক্ষ্যে গভীর নলকূপের পরিবর্তে ভূ-উপরিস্থ পানি শোধনাগার নির্মানের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে চট্টগ্রাম ওয়াসা কর্তৃক ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহারের উদ্দেশ্যে ৩টি প্রকল্প হাতে নিয়েছে।'

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে দৈনিক ১৪ দশমিক ৩০ কোটি লিটার ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ভূ-উপরিস্থ পানি শোধনাগার 'শেখ হাসিনা পানি শোধনাগার' ২০১৭ সালের মার্চ মাসে চালু হয়েছে। ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে 'শেখ রাসেল পানি শোধনাগার' পরীক্ষামূলকভাবে চালুর পর ২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে সেটা উদ্বোধন করেন। এতে চট্টগ্রাম শহরে বসবাসকারীগণ আরও ৯ কোটি লিটার ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহার করছে। 

এ ছাড়া সম্প্রতি কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প ফেইজ-২-এর সফল সমাপ্তি শেষে শেখ হাসিনা পানি শোধনাগার-২ হিসেবে উৎপাদন কার্যক্রম আরম্ভ হয়েছে, যা প্রধানমন্ত্রী ২০২২ সালের ১৬ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। ফলে নগরবাসী ভূ-উপরিস্থ উৎস থেকে  ৪৬ কোটি ৬ লাখ লিটার সুপেয় পানি ব্যবহার করছেন বলে জানান তিনি। 

মন্ত্রী বলেন, 'বর্তমানে চট্টগ্রাম শহরের ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের হার ৮ শতাংশ এবং ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহারের পরিমাণ ৯২ শতাংশ। চট্টগ্রাম শহর এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির গড় অবস্থান ১০০ মিটার এবং প্রতি বছর প্রায় ৩ মিটার পানির স্তর হ্রাস পাচ্ছে।'

 

Comments

The Daily Star  | English
Road crash compensation Bangladesh

Only 5% road crash victims get compensation

Govt creates Tk 225cr fund but complex process leaves majority of victims with no compensation

10h ago