দুঃখজনক হলেও সত্য, বাম ভাইদের কোনো ভোট নেই: তথ্যমন্ত্রী

বাম রাজনৈতিক দলগুলো দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, দুঃখজনক হলেও সত্য, বাম ভাইদের কোনো ভোট নেই।
দুঃখজনক হলেও সত্য, বাম ভাইদের কোনো ভোট নেই: তথ্যমন্ত্রী
আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ | ছবি: টেলিভিশন থেকে নেওয়া

বাম রাজনৈতিক দলগুলো দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, দুঃখজনক হলেও সত্য, বাম ভাইদের কোনো ভোট নেই।

তিনি আরও বলেন, উনারা ভোট বর্জন করুক আর না করুক; এতে ভোটে কোনো প্রভাব পড়বে না।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, 'এই নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার তৈরি হয়েছে। এই নির্বাচন নিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, এতেই প্রমাণিত হয় এই নির্বাচনটাকে আন্তর্জাতিক মহল ব্যাপকভাবে গ্রহণ করেছে।'

তিনি বলেন, 'এই প্রেক্ষাপটে বিএনপির যে নির্বাচন বিরোধী প্রচারণা; বিএনপির নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণা কার্যত জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। যে কারণে তারা এখন প্রতিহত করা থেকে সরে এসে এখন নির্বাচন বর্জনের ডাক দিচ্ছে। অর্থাৎ বিএনপি পিছু হটেছে।

'তারা এখন লবিস্ট নিয়োগ করে বিদেশে বিভিন্ন-পত্রপত্রিকায় নিবন্ধ লেখাচ্ছে। ডেভিড বার্গম্যানসহ কিছু ইহুদি এজেন্ট তারা নিয়োগ করেছে। সেই ইহুদি এজেন্ট বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লেখাচ্ছে, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে রিপোর্ট করানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। এতে করে কোনো লাভ হয়নি। কারণ বেগম খালেদা জিয়া নিজের নামে নিবন্ধ লিখেছিলেন দেশের বিরুদ্ধে। এটি নতুন কোনো কিছু নয়। বিএনপি সবই পারে। কংগ্রেসম্যানদের সই জাল করে বিবৃতি দিয়েছিল। বাইডেনের (মার্কিন প্রেসিডেন্ট) ভুয়া উপদেষ্টা দেশে নিয়ে এসেছিল, সে এখন জেলখানায় আছে। আবার অমিত শাহর (ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে বলে ভুয়া প্রচারও করেছিল,' বলেন তথ্যমন্ত্রী।

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, 'বিএনপি আসলে শুধুমাত্র জনগণ কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত একটি দল নয়, তারা একটি জালিয়াত দলে রূপান্তরিত হয়েছে। সুতরাং তাদের নির্বাচন বিরোধী প্রচারণা এবং তাদের নেতাদের বক্তব্যের জনগণের মধ্যে কোনো আবেদন নাই।'

ব্রাসেলসভিত্তিক আন্তর্জাতিক ক্রাইসিস গ্রুপ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হচ্ছে দ্বিতীয়বারের মতো আওয়ামী লীগ সরকার গ্রহণযোগ্য প্রতিপক্ষ ছাড়া নির্বাচন করতে যাচ্ছে এবং এটি সহিংসতার ঝুঁকি বাড়াবে। নির্বাচনের পরে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপিকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছে। এ ব্যাপারে একজন গণমাধ্যমকর্মী মতামত জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, 'আমাদের দেশে এ পর্যন্ত নির্বাচনে কিছু কিছু ঘটনা ঘটেছে। সেগুলো অন্যান্য নির্বাচনের তুলনায় অনেক কম। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়; স্থানীয় সরকার নির্বাচন থেকে শুরু করে অন্যান্য নির্বাচন—সেখানে যে মাত্রায় সহিংসতা হয়, সেগুলোর চেয়ে এ পর্যন্ত আমাদের দেশে যে ঘটনাপ্রবাহ ঘটেছে, সেগুলো অনেক কম।'

তিনি বলেন, 'নির্বাচনে কোন দল অংশগ্রহণ করল সেটি মুখ্য বিষয় নয়। জনগণ ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করছে কি না সেটি হচ্ছে মুখ্য বিষয়। ১৯৭০ সালের নির্বাচনেও অনেক নামকরা দল অংশগ্রহণ করে নাই। অনেক নামকরা নেতা সত্তর সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন নাই কিন্তু সেই নির্বাচনে জনগণ ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করেছিল এবং সেটি আন্তর্জাতিকভাবে একটি অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ছিল। তাই এখনো কোনো বিশেষ দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা-না করার ওপর; জনগণ অংশগ্রহণ করেছে কি না সেটি নির্ভরশীল নয়। জনগণ ব্যাপকভাবে এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে।'

আরেক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, 'মার্কিন নির্বাচনে যত শতাংশ ভোট পড়ে, তার চেয়ে বেশি শতাংশ ভোট পড়বে বলে আমরা আশা করি।'

বামজোট নির্বাচন বর্জনের ঘোষণায় যাচ্ছে—একজন গণমাধ্যমকর্মী দৃষ্টি আকর্ষণ করলে হাছান মাহমুদ বলেন, 'বাম ভাইদের আমি খুব সম্মান করি। কারণ বাম ভাইরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি, প্রগতিশীল শক্তি। আমার মধ্যেও কিছু বাম চিন্তা-ভাবনা আছে। সমাজতন্ত্র আমাদের দলেরও অন্যতম মূল স্তম্ভ। তাই জন্য আমি বাম ভাইদের সম্মান করি, শ্রদ্ধা করি। তাদের অনেক বিষয়কে আমি সমর্থনও করি।

'কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বাম ভাইদের কোনো ভোট নেই। উনারা ভোটে কোনো মানুষের সমর্থন পায় না। ঢাকা শহরে তো কেউ কেউ মেয়র নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল। হাজারের অংক বা দুহাজারের অংক পার হয়নি; ৩৭ লাখ ভোটারের এই ঢাকা শহরে। উনাদের ভোট নেই, উনারা ভোট বর্জন করুক আর না করুক; এতে ভোটে কোনো প্রভাব নেই,' বলেন তিনি।

বাম রাজনৈতিক দল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'ভোটের রাজনীতি করতে চাইলে কিন্তু খারাপ করে না। কেরালায় এখনো বাম দল ক্ষমতায়। এখানেও চাইলে পারতো। ওই রাজনীতি করে না বাম দলগুলো।'

তিনি বলেন, 'তারা দাঁড়ালে তো ভালো হতো; প্রগতিশীল শক্তির বিরুদ্ধে প্রগতিশীল শক্তি থাকতো। তারা দাঁড়ানোর চেষ্টাও করে না আর ভোটে না গেলে তো পার্টি দাঁড়ায় না। যদি ৩০০ আসনে মনোনয়ন দিতো, তাহলে ৩০০ আসনে লোক তৈরি হতো তাদের কথা বলার। যেহেতু এখন দলগত নির্বাচন হয়, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যদি দলগতভাবে অংশ নিতো, তাহলে একটা একটা লোক দাঁড়াত তাদের কথা বলার। মার্কাটা চিনত।'

Comments