শিক্ষকের ‘বেত্রাঘাতে’ দৃষ্টিশক্তি হারাল মাদ্রাসা শিক্ষার্থী

চট্টগ্রাম
স্টার অনলাইন গ্রাফিক্স

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায় শিক্ষকের বেত্রাঘাতে এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর চোখের কর্নিয়া মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা আজ মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কার্যালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

উপজেলার সরোয়াতলি ইউনিয়নের বাগে সিরিকোট তাহফিজুল কোরআন আইডিয়াল মাদ্রাসায় গত ২৫ মে বেত্রাঘাতের ঘটনা ঘটলেও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ঘটনা গোপন রাখে বলে শিশুটির পরিবারের অভিযোগ। 

শিশুটির মা স্বপনা আখতার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ঘটনা গোপন রাখায় ছেলেকে চিকিৎসা দিতে দেরি হয়েছে। এতে সে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে।'

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'পড়া না পারায় মাদ্রাসা শিক্ষক শাহীন আখতার আমার ছেলেকে বেত্রাঘাত করেন। বেত্রাঘাতের সময় তার বাম চোখে গুরুতর আঘাত লাগে। ঘটনার পর ২৯ মে পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা শেষে ডাক্তাররা জানান, তার কর্নিয়া মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে সে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে।'

'বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য এবং অন্যান্যদের জানানো হয়েছিল। কিন্তু এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ডাক্তাররা বলেছেন, আমার ছেলেকে ভারতে উন্নত চিকিৎসা করাতে হবে, কিন্তু তা আমাদের পক্ষে খুব ব্যয়বহুল,' বলেন শিশুটির মা।

জানতে চাইলে মাদ্রাসার পরিচালক মহিউদ্দিন মাহমুদ মানিক ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ছাত্রটি অন্যভাবে আঘাত পেয়ে থাকতে পারে। অভিভাবক আমাদের বিষয়টি জানালে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ কিছু চিকিৎসা খরচ বহন করেছে।'

'আমরা আমাদের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ঘটনা পাওয়া যায়নি,' দাবি করেন তিনি।

যোগাযোগ করা হলে বোয়ালখালীর ইউএনও ইমরান হোসেন সজিব ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত বলতে পারছি না। তদন্তের পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

Comments

The Daily Star  | English
cyber security act

A law that gagged

Some made a differing comment, some drew a political cartoon and some made a joke online – and they all ended up in jail, in some cases for months. This is how the Digital Security Act (DSA) and later the Cyber Security Act (CSA) were used to gag freedom of expression and freedom of the press.

5h ago