বিশেষ উদযাপনের কারণ জানালেন শান্ত

বুধবার মিরপুরে আফগানদের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে দ্বিতীয় ওভারে ৬ রানে দলের প্রথম উইকেট পড়ার ক্রিজে গিয়েছিলেন শান্ত। আউট হয়েছেন ৫৮তম ওভারে। তার আগে শাসন করেছেন আফগান বোলারদের। ১১৮ বলে সেঞ্চুরি করা বাঁহাতি ব্যাটার ১৭৫ বলে খেলেন ১৪৬ রানের ইনিংস
Najmul Hossain Shanto
ব্যাট তাক করে চুমু ছুঁড়ে দিচ্ছেন শান্ত। ছবি: ফিরোজ আহমেদ/স্টার

মে মাসে চেমসফোর্ডে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করার পর দৌড়ে ছুটে গিয়ে ব্যাট তাক করে চুমু ছুঁড়ে উদযাপন করেছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সেঞ্চুরির পরও তেমন উদযাপন করতে দেখা গেল তাকে। এই উদযাপনের পেছনের কারণ কি? কার উদ্দেশে ছুড়ে দেন চুমু?

মাসখানেক আগে বড় রান তাড়ায় আইরিশদের বিপক্ষে ৯৩ বলে ১১৭ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন শান্ত। সেঞ্চুরি করার পর তাকে বুনো উল্লাস করতে দেখা যায়। উদযাপনের শেষ দিকে ব্যাট তাক করে ছুঁড়ে দেন চুমু। সেই চুমু কি তাকে এক সময় কটাক্ষ যারা করতেন তাদের উদ্দেশ্যে? নাকি কোন প্রিয়জনের জন্য? আফগানদের বিপক্ষে টেস্টে আরেকটি দারুণ সেঞ্চুরির এসব প্রশ্নের জবাব দিলেন।

বুধবার মিরপুরে আফগানদের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে দ্বিতীয় ওভারে ৬ রানে দলের প্রথম উইকেট পড়ার ক্রিজে গিয়েছিলেন শান্ত। আউট হয়েছেন ৫৮তম ওভারে। তার আগে শাসন করেছেন আফগান বোলারদের। ১১৮ বলে সেঞ্চুরি করা বাঁহাতি ব্যাটার ১৭৫ বলে খেলেন ১৪৬ রানের ইনিংস। ২৩ চার আর ২ ছক্কায় মাত করে রাখেন দর্শকদের।

Najmul Hossain Shanto
ছবি: ফিরোজ আহমেদ

দিনের খেলা শেষে গণমাধ্যমে কথা বলতে এসে শান্তকে প্রশ্ন করা হয় উদযাপন নিয়ে। তার জবাব, 'উদযাপন তো আসলে রান যখন করি না, তখন তো করতে পারি না। রান করার পর মন চায় উদযাপন করতে, এজন্য করি আর কী। এটা কারো উদ্দেশ্যে না। আমার নিজের ভালো লাগার জন্য করি।'

শান্তকে দেখে মনে হয়েছে রান করা বেশ সহজ। প্রতিপক্ষের আলগা বোলিংয়ের ফায়দা তুলেছেন পুরোটা। নিয়মিত বাউন্ডারি বের করে ব্যস্ত রেখেছেন ফিল্ডারদের। তবে প্রবল গরমে ইনিংস তৈরি করে খেলা মোটেও সহজ ছিল না বলে মনে করেন তিনি,  'আমার কাছে সহজ মনে হয়নি। আমি যে পরিকল্পনায় ব্যাট করার চেষ্টা করেছিলাম ওটা প্রয়োগ করেছি। পরিষ্কার মন ছিল যে আমি কি করতে চাই। আপনাদের কাছে হয়ত সহজ লেগেছে কিন্তু প্রথম থেকে আমি কষ্ট করে ব্যাট করেছি।'

Najmul Hossain Shanto
ছবি: ফিরোজ আহমেদ

দারুণ শুরুর পর মাঝের দিকে দ্রুত কিছু উইকেট হারিয়ে সাময়িক ধাক্কা লেগেছিল। এক পর্যায়ে ১ উইকেটে ২১৮ থেকে স্কোরবোর্ড পরিণত হয় ৫ উইকেটে ২৯০ রানে। সেখান থেকে আবার জুটি পান মুশফিকুর রহিম আর মেহেদী হাসান মিরাজ। ৭৯ ওভারে ৫ উইকেটে বোর্ডে রান ৩৬২। শান্ত আশায় আছেন মিরাজ-মুশফিক যা কিছু ঘাটতি সব পুষিয়ে দেবেন দ্বিতীয় দিনে,  'মাঝের ওভারে আরেকটা জুটি হতে পারত। এখন মুশফিক ভাই আর মিরাজ যেভাবে ব্যাট করছে এই জুটিটা বড় হলে মাঝের যে দুই-একটা উইকেট গিয়েছে তাহলে মনে হবে না খারাপ অবস্থায় আছি।'

Comments