ইন্টারনেট-শাটডাউনসহ ডিজিটাল অপরাধের জন্য বিটিআরসিকে ব্যবহার করা হচ্ছে: ফখরুল

তিনি বলেন,’ গত ১২ জুলাই নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির সমাবেশ চলাকালে ওই এলাকার ইন্টারনেট সুবিধা বিচ্ছিন্ন/বিঘ্নিত করা হয়েছিল। অথচ ওইদিন ওই সময়েই সরকারি দলের সমাবেশস্থলের ইন্টারনেট সংযোগ ছিল স্বাভাবিক।’
রোববার গুলশানে দলীয় চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ইন্টারনেট-শাটডাউনসহ সব ধরনের ডিজিটাল-নির্যাতনের প্রতিবাদে বিএনপির সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত

ইন্টারনেট-শাটডাউন নাগরিক অধিকারের ভয়ংকর লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ রোববার সকালে গুলশানে দলীয় চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ইন্টারনেট-শাটডাউনসহ সব ধরনের ডিজিটাল-নির্যাতনের প্রতিবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন তিনি।

এসময় মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ডিজিটাল সিকিউরিটি এ্যাক্ট (ডিএসএ)-- এই গণবিরোধী আইনের বলে ইতোমধ্যে শুধু বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী নয়, মুক্তমনা অনেক সাংবাদিক ও স্বাধীন নাগরিকরাও শিকার হয়েছে মিথ্যা মামলার৷ এতকিছুর পরেও ক্ষমতাসীন সরকার গণঅভ্যুত্থানের ভয়ে ভীত হয়ে প্রয়োগ করছে নতুন ডিজিটাল অস্ত্র 'ইন্টারনেট-শাটডাউন'। পুলিশ কেড়ে নিচ্ছে মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের ব্যক্তিগত ডিভাইস 'মোবাইল ফোন'।

মির্জা ফখরুল বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশনকে (বিটিআরসি) সরকার নিপীড়নের আরেকটি আধুনিক হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, 'নাগরিকদের সেবা প্রদান এবং তাদের অধিকার সংরক্ষণে দেশে একাধিক প্রতিষ্ঠান আছে৷ তেমন একটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি)। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় চলা এই প্রতিষ্ঠানটির কাজ হলো দেশের টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পরিচালনা এবং সেবার মান দেখভাল করা। কিন্তু জনগণের টাকায় প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানকেই বর্তমান স্বৈরাচারি সরকার জনগণের বিরুদ্ধে নিপীড়নের আরেকটি আধুনিক হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগাচ্ছে। নিরবিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সুবিধা পাওয়ার মৌলিক নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে জনগণ কে, কেড়ে নেয়া হচ্ছে মত প্রকাশের অধিকারকে।'

তিনি বলেন,' গত ১২ জুলাই নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির সমাবেশ চলাকালে ওই এলাকার ইন্টারনেট সুবিধা বিচ্ছিন্ন/বিঘ্নিত করা হয়েছিল। অথচ ওইদিন ওই সময়েই সরকারি দলের সমাবেশস্থলের ইন্টারনেট সংযোগ ছিল স্বাভাবিক।'

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এর আগেও খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুর, সিলেট, কুমিল্লা, রাজশাহী এবং ঢাকায় বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে ইন্টারনেট মত প্রকাশের অপরিহার্য একটি মাধ্যম। ইন্টারনেট পরিসেবা বিচ্ছিন্ন করা হলে তা মূলত মত প্রকাশের অধিকারকেই বাধাগ্রস্থ করে৷

মির্জা ফখরুল বলেন, 'একদিকে এই অবৈধ সরকার কখনো স্মার্ট বাংলাদেশের নামে রাষ্ট্রীয় যন্ত্র ব্যবহার করে নাগরিকদের সাইবার জগতের সব সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নিচ্ছে, অন্যদিকে তাদেরই অযোগ্যতা এবং চরম অদক্ষতার দরুন প্রায় পাঁচ কোটি নাগরিকের ব্যক্তিগত স্পর্শকাতর তথ্য ফাঁস হয়ে গেছে। তার আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা এই সরকারের ডিজিটাল অদক্ষতাকেই শুধু প্রমাণ করেনি, ডিজিটাল প্রতারণার সন্দেহের বীজও বপন করেছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই সরকার ডিজিটালাইজেশনকে জনগণের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করছে৷ ডিজিটাল মাধ্যমে নিপীড়ন, জনগণের উপর নজরদারি, ফোন কল রেকর্ড, অনলাইনে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন, ভুল তথ্য অপতথ্য বিকৃত তথ্য ও কন্টেন্ট জালিয়াতির মাধ্যমে প্রপাগান্ডা চালানোসহ নানা অপরাধ করে চলেছে এই সরকার।

ইন্টারনেট-শাটডাউনের ঘটনা বিবেচনায় নিয়ে বলতে পারি, এটি নাগরিক অধিকারের ভয়ংকর লঙ্ঘন। এটা গুম খুনের মতোই একটি অপরাধ। কোনো ব্যক্তি গুমের শিকার হলে কেবল একজন হারিয়ে যান৷ কিন্তু কোনো স্থানের ইন্টারনেট শাটডাউন করা হলে তার শিকার হয় দেশ- বিদেশের লক্ষ কোটি মানুষ ৷

জনগণের টাকায় নজরদারি প্রযুক্তি কিনে জনগণের উপরেই গোয়েন্দাগিরি করছে এই স্বৈরাচার সরকার, বলেন তিনি।

মত প্রকাশের অধিকার, সভা-সমাবেশের অধিকার ও তা প্রচার করার অধিকারসহ প্রত্যেকটি অধিকারের বিরুদ্ধে খোদ রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান তথা কাঠামোকেই ব্যবহার করা হবে৷ যেভাবে আজ সাইবার জগতে গোয়েন্দাবৃত্তির জন্য ইন্টারনেট-শাটডাউনসহ নানান ডিজিটাল অপরাধের জন্য বিটিআরসিকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, 'চলমান ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন বাংলাদেশ ব্যাংকের আট হাজার কোটি টাকা লোপাট কারী অধবা তাদের হুকুমদাতাদের কেশাগ্রও স্পর্শ করতে পারেনি, পেরেছে খাদিজাতুল কোবরা নামের এক ছাত্রীর জীবনকে দুর্বিষহ করতে কিংবা স্কুল পড়ুয়া কিশোরকে ফেসবুক পোস্টে লাইক দেয়ার অপরাধে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের বলি করে জামিন অযোগ্য অনির্দিষ্টকালীন কারাবাসী করতে। ইতোপূর্বে কারাগারে মৃত্যুবরন কারী লেখক মোস্তাক আহমেদ, নওগাঁয় র‍্যাব হেফাজতে মৃত্যুবরন কারী সুলতানা জেসমিনসহ মিথ্যা মামলার শিকার অসংখ্য সংক্ষুব্ধের তালিকা প্রমাণ করেছে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন কতটা গণবিরোধী।'

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন স্বপন, সদস্য সচিব শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সদস্য শাম্মী আখতার, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, কাদের গনি চৌধুরী, ফয়সাল মাহমুদ ফয়েজী, ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, আতিকুর রহমান রুমন, আলী মাহমুদ, শায়রুল কবির খান প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

 

Comments