ক্রিকেট

‘আমি কিছু বললে কি উইকেট বদল হবে’, লিটনের প্রশ্ন

অর্ধেক আসর শেষ হওয়ার পরও বিপিএলে বড় রানের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। এখনো পর্যন্ত একবারও কোন দল দুইশো পেরুনো পুঁজি পায়নি। এমনকি দেড়শো রান তাড়া করতে গিয়েও খাবি খাচ্ছে দলগুলো। তবে বড় রান না পাওয়ার পেছনে উইকেটের দায় খুব একটা দেখেন না লিটন দাস।
Litton das & Mohammad Rizwan
ছবি: ফিরোজ আহমেদ

অর্ধেক আসর শেষ হওয়ার পরও বিপিএলে বড় রানের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। এখনো পর্যন্ত একবারও কোন দল দুইশো পেরুনো পুঁজি পায়নি। এমনকি দেড়শো রান তাড়া করতে গিয়েও খাবি খাচ্ছে দলগুলো। তবে বড় রান না পাওয়ার পেছনে উইকেটের দায় খুব একটা দেখেন না লিটন দাস। চতুর ক্রিকেট খেলতে না পারায় ব্যাটারদের ঘাটতিই বড় করে দেখছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স অধিনায়ক।

বুধবার আরও একটি একপেশে ম্যাচ দেখা যায় বিপিএলে। মিরপুরে কুমিল্লার করা ১৪৯ রান তাড়া করতে গিয়ে ১০ ওভারের মধ্যেই ম্যাচের ফল অনেকটা অনুমিত হয়ে যায়। হারের ব্যবধান কমিয়ে খুলনা টাইগার্স থামে ১১৫ রানে।  এই ম্যাচে বাকি ব্যাটারদের ধুঁকতে থাকার মাঝে লিটন করেন ৩০ বলে ৪৫ রান।

পরে সংবাদ সম্মেলনে এসে উইকেট নিয়ে অনেক প্রশ্নের জবাব দিতে হয় তাকে। এক দল করল ১৪৯, আরেক দল সেই রান তাড়ার কাছেও যেতে পারল না। লিটনের মতে এর কারণ স্রেফ উইকেটের মধ্যেই লুকিয়ে নেই, 'সব সময় উইকেটকে দোষ দেওয়ার তা কিন্তু না। যারা হিসেব করে ঝুঁকি নিয়ে খেলতে পারে তারা এই মাঠে…(রান করে) আজ কিন্তু একটা পরিস্থিতিতে ১৭০ রান হওয়ার মতন ছিলো। হলে উইকেটকে কেউই দোষ দিতাম না। কোনভাবে আমরা পারিনি, মিডল ওভারে আমাদের কিছু ঘাটতি আছে। বাংলাদেশ দলেও আমরা এই জিনিসটার ভুক্তিভুগি। পাওয়ার প্লে শুরু করলে মাঝখানে খেলতে পারি না। আবার মাঝখানে খেলতে পারলে ফিনিস করতে পারি না। এখনো আমরা শেখার ধাপে আছি, এমন না যে ভালো দল আমরা। বিপিএলের গেইমগুলো চলতে চলতে আমরা এক পর্যায়ে শিখে যাব কীভাবে মাঝের ওভারে খেলতে হয়।'

উইকেটে এত খারাপ না হলেও খুব আহামরি ভালও যে না পরিসংখ্যান দিচ্ছে প্রমাণ। ঢাকার মতন এবার রান খরায় ভুগেছে সিলেটের ভেন্যুও। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে মানুষ যেমন রান দেখতে, টানটান উত্তেজনা দেখতে আসে তার কিছুই মিলছে না। লিটন মনে করেন উইকেট আচমকা যেহেতু বদলের সম্ভাবনা নেই তাদের খেলতে হবে সেই তাল মিলিয়ে,  'দেখেন, আমি কিছু বললে কি উইকেট বদল হবে? আমি যদি চাই কালকের ম্যাচে দুইশো রানের উইকেট দিতে, দিতে পারবে? যেটা ফ্যাক্ট না সেটা কীভাবে হবে? এখন দেড়শো রানের উইকেটে আমরা কীভাবে খেলতে পারি সেটা দেখতে হবে। আপনি সব সময় টি-টোয়েন্টিতে দেড়শো রানের উইকেট পাবেন না। দেড়শো রানের উইকেটে আমরা কীভাবে দেড়শো রান করতে পারি এটা একটা চ্যালেঞ্জ।'

১৭০ রান করার সম্ভাবনা তৈরি করলেও উইকেট ছিলো দেড়শো রানের। এসব উইকেটে খেলতে হলে বাউন্ডারির বাইরে প্রান্ত বদলের তাগিদ দেখেন লিটন। মাঝের ওভারের এই সমস্যা সামগ্রিকভাবেই  বাংলাদেশের ব্যাটারদের, তাও উল্লেখ করেন তিনি, 'আমি টস জেতার সময়ই বলেছিলাম ১৫৫, বা ১৫০ ডিফেন্ডেবল। কারণ আমার হাতে ওই কোয়ালিটির বোলিং আক্রমণ আছে। আমাদের যে শুরুটা হয়েছে ওখান থেকেও ১৭০ রান করা যেতো। আমরা মিডল ওভারে ভালো ক্রিকেট খেলিনি, অনেক ডট হয়েছে। আমরা অনেক বড় বড় শট খেলতে চাচ্ছি। এক, দুইয়ের অপশন কিন্তু আছে। দেখবেন বড় বড় খেলোয়াড়রা এক-দুই করে খেলা বানায়। যে জিনিসটা আমাদের ঘাটতি আছে।'

'হতে পারে (জাতীয় দলেরও মূল সমস্যা মিডল অর্ডার)। এক তো আমরা কেউই পাওয়ার হিটার না। গায়ে এত জোর আছে যে ছয় মারব খালি তাও না। কিন্তু আমাদের মতন খেলোয়াড়রাও টি-টোয়েন্টিতে অনেক রান করছে। তারা কীভাবে খেলছে। তারা এক দুই করে নিয়ে বাউন্ডারি খুঁজছে। আমরা চেষ্টায় আছি এসব করার। হয়ত আস্তে আস্তে আসবে।'

Comments