বিপুল বাজেট সহায়তায় আইএমএফের রিজার্ভ শর্ত পূরণ

বাংলাদেশের রিজার্ভ
অলঙ্করণ: আনোয়ার সোহেল/স্টার ডিজিটাল গ্রাফিক্স

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চার দশমিক সাত বিলিয়ন ডলার ঋণ অনুমোদনের পর এই প্রথম বিশ্ব সংস্থাগুলোর রেকর্ড পরিমাণ বাজেট সহায়তার কারণে চলতি জুনে রিজার্ভের বিষয়ে আইএমএফের শর্ত পূরণ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

বেশ কয়েকটি ঋণদাতা সংস্থা চলতি মাসে চার দশমিক আট বিলিয়ন ডলার অনুমোদন করায় এমন ঘটনা ঘটলো। এর মধ্যে বাজেট সহায়তা ছিল দুই দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার। প্রকল্প ঋণ ছিল দুই দশমিক শূন্য চার বিলিয়ন ডলার।

বাজেট সহায়তাগুলো ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে চলে এসেছে।

দেশে যে পরিমাণ ডলার আসে তার বিপরীতে বেশি ডলার বিদেশে চলে যাওয়ায় রিজার্ভের ওপর চাপ বেড়েছে। ফলে পণ্য আমদানির খরচ মেটাতে হিমশিম থেকে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিদেশি ঋণদাতা সংস্থাগুলোর দিকে হাত বাড়াতে বাধ্য হওয়ায় আইএমএফ গত জানুয়ারিতে এই ঋণ দেওয়া শুরু করে।

এই ঋণের প্রধান শর্ত ছিল নির্দিষ্ট পরিমাণ রিজার্ভ বজায় রাখা। তবে গত বছরের জুন, সেপ্টেম্বর ও ডিসেম্বর ও চলতি বছরের মার্চে আইএমএফের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি সরকার। তারপরও এ কর্মসূচির আওতায় ঋণের তিন কিস্তি পেয়েছে বাংলাদেশ।

গত ডিসেম্বরে বাংলাদেশ ১৭ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ বজায় রাখার লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়। প্রকৃত রিজার্ভ ছিল ১৬ দশমিক ৭৩ বিলিয়ন ডলার।

আইএমএফের ঋণের চতুর্থ কিস্তি নিশ্চিত করতে ৩০ জুন রিজার্ভ রাখতে হবে ১৪ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার। তবে বিপুল পরিমাণ বাজেট সহায়তা পাওয়ায় সেই লক্ষ্য পূরণে হতে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মেজবাউল হক দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'বাংলাদেশ রিজার্ভ সংক্রান্ত শর্ত পূরণ করেছে।'

বাজেট সহায়তায় ঋণ হিসেবে আইএমএফ দিয়েছে এক দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার, বিশ্বব্যাংক ৫০০ মিলিয়ন ডলার, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ২৯০ মিলিয়ন ডলার, দক্ষিণ কোরিয়া ১০০ মিলিয়ন ডলার ও ফ্রান্স ১০৭ মিলিয়ন ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অপর কর্মকর্তা ডেইলি স্টারকে বলেন, 'রিজার্ভ ১৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি হবে। ঈদুল আযহার আগে বাজেট সহায়তা ও বেশি পরিমাণে রেমিট্যান্স আসায় রিজার্ভ বেড়েছে।'

চলতি জুনের প্রথম তিন সপ্তাহে রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার। এর আগের মাসে ছিল আড়াই বিলিয়ন ডলার।

বাজেট সহায়তায় ঋণ হিসেবে আইএমএফ দিয়েছে এক দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার, বিশ্বব্যাংক ৫০০ মিলিয়ন ডলার, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ২৯০ মিলিয়ন ডলার, দক্ষিণ কোরিয়া ১০০ মিলিয়ন ডলার ও ফ্রান্স ১০৭ মিলিয়ন ডলার।

এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের ৪০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দেওয়ার কথা আছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা ডেইলি স্টারকে জানিয়েছেন, 'আজ এই টাকা পাওয়া যাবে।'

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার মোট রিজার্ভ ছিল ২১ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন ডলার। নূন্যতম রিজার্ভ ছিল ১৫ দশমিক পাঁচ বিলিয়ন ডলার।

Comments

The Daily Star  | English
Road crash compensation Bangladesh

Only 5% road crash victims get compensation

Govt creates Tk 225cr fund but complex process leaves majority of victims with no compensation

10h ago