বিএনপির অবরোধ

বগুড়ায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, মহাসড়ক অবরোধ, কাভার্ড ভ্যান-মোটরসাইকেলে আগুন

সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বগুড়ার শাজাহানপুরের বনানী লিচুতলাতে বিএনপি-আওয়ামী লীগ ও পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়।
বগুড়ায় মহাসড়ক অবরোধ করায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপি-জামায়াত ও সমমনা দলের ডাকা অবরোধের প্রথম দিন সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ, মহাসড়ক অবরোধ, গুলি, টিয়ারশেল ছোড়াসহ বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্যে দিয়ে পালিত হচ্ছে অবরোধ।

সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বগুড়ার শাজাহানপুরের বনানী লিচুতলাতে বিএনপি-আওয়ামী লীগ ও পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়। এ সময় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।

এছাড়া অবরোধকারীরা একটি কাভার্ড ভ্যান ও তিনটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দিয়েছে। সংঘর্ষের সময় শাজাহানপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পদক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া বিএনপির ৫-৬ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দলের নেতাকর্মীরা।

মহাসড়কে ট্রাক ভাঙচুর করছে অবরোধকারীরা। ছবি: মোস্তফা সবুজ/স্টার

বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, 'আমাদের জেলার কিছু সিনিয়র নেতাকর্মীরাসহ আমরা বনানী এলাকায় শান্তিপূর্ণ অবরোধ কর্মসূচি পালন করছিলাম। এমন সময় শাজাহানপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সোহরাব হোসেন সান্নুর নেতৃত্বে ৩০টির মতো মোটরসাইকেল আমাদের নেতাকর্মীদের কাছে এসে উস্কে দেয়। এতে সংঘর্ষ বাধে। আমাদের ৫-৬ জন আহত হয়।

শাজাহানপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সোহরাব হোসেন সান্নু দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, সকাল থেকে বিএনপি নেতাকর্মীরা রাস্তা অবরোধ করে গাড়ি ভাঙচুর করছিল। আমরা বাধা দিতে গেলে বিএনপির ছোড়া ককটেল এসে আমার পায়ে লাগে। এছাড়া উপজেলা সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক হাতবোমার স্প্রিন্টারে আহত হয়েছেন।

অবরোধকারীদের লক্ষ্য করে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল ছোড়ে। ছবি: মোস্তফা সবুজ/স্টার

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আজ সকাল থেকে অবরোধের সমর্থনে বগুড়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আজহর হেনার নেতৃত্বে বিএনপি নেতাকর্মীরা মহাসড়কের বনানী লিচুতলাতে অবস্থান নিয়ে অবরোধ শুরু করেন৷ শাজাহানপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সোহরাব হোসেন সান্নুর সমর্থকরা সেখানে গেলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

এর আগে বগুড়া সদরের বাঘোপাড়া এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে অবরোধ করে রাখে বিএনপি নেতাকর্মীরা। ভোগান্তিতে পড়ে দূরপাল্লার যাত্রী ও পণ্যবাহী বাস ট্রাক। 

পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও এপিবিএনের যৌথ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে লক্ষ্য করে পার্শ্ববর্তী ইটভাটা থেকে ঢিল ছুঁড়তে শুরু করে অবরোধকারীরা। ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ পুলিশ ও র‍্যাব কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

পরে পুলিশের কিছু দূরে অবরোধে সমর্থনকারীরা একটি ট্রাক ভাঙচুর করে।

Comments