একে একে নিভিছে দেউটি

‘রফিকুল ইসলাম’ নামটির সঙ্গে আমার পরিচয় ১৯৮৮ সালের দিকে। প্যারিস থেকে ইন্ডোলজিতে স্নাতকোত্তরের পাঠ শেষ করে প্রথমবার দেশে ফিরেছি। ভাষাবিজ্ঞানে কিঞ্চিৎ আগ্রহ বোধ করছিলাম এবং বাংলা ভাষায় লেখা ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রকাশিত স্যারের ‘ভাষাতত্ত্ব’ বইটা পড়ে ফেললাম। এদিক থেকে দেখলে পরিচয় না থাকা সত্ত্বেও রফিক স্যারই আমার ভাষাবিজ্ঞানের প্রথম গুরু। অনেকটা মহাভারতের দ্রোণাচার্য একলব্যের কাহিনীর মতো।
৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০৮:৫৯ পূর্বাহ্ন

স্পিভাক: চিন্তাবিশ্বে যুক্তি ও কল্পনার চৌহদ্দি

যুক্তি ও কল্পনার শক্তি যে কতটা বহুমাত্রিক এবং দুঁদে হয়ে উঠতে পারে, তা গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক পাঠ না করলে অজানা থেকে যেত। বর্তমান চিন্তকদের মধ্যে তিনি যেমন স্বতান্ত্রিকধারার প্রতিনিধি উঠেছেন তেমনি নিজেকে উচ্চকিত করেছেন স্বল্প কর্ষিত ধারাটির একজন স্বার্থক ‍উদ্গাতা ও মৌলিক চিন্তার প্রতিভূরূপে।
৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০৯:২০ পূর্বাহ্ন

নভেম্বর রেইন

নভেম্বর রেইন শীতের পাশে আমার ভেতরে গাছের উচ্চতায় মাথা তুলছে, লফিয়ে নামছে লাখ লাখ যুদ্ধফেরত ভীরু। সেই তীব্র হাওয়াবাজির ত্রস্তপীড়নে, ভয় পাওয়া ঘুমের ঘোরে, জ্বলজ্বলে সিগারেটের অঙ্গার ফেলে আসা আলিঙ্গনের মধ্যে পুড়ে যাচ্ছে, ছাই হয়ে যাচ্ছে সমস্ত মোবাইলের যৌনাকাঙ্ক্ষা—এই নভেম্বরে।
১ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩:৩৬ অপরাহ্ন

এপিটাফ

এখানে যে শুয়ে আছে, বেঁচে ছিল বাঙালির গড় আয়ু নিয়ে।
১ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩:৩০ অপরাহ্ন

সংস্কৃতির ব্যাপারটা কতটা জরুরি

আমাদের দেশে ২টি বড় ট্রাজেডি ঘটেছে। প্রথমটি ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধ, দ্বিতীয়টি ১৯৪৭ সালে দেশভাগে। সেই দেশভাগ সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, এমনকি প্রাকৃতিকভাবে আমাদের ভাগ করে যে ক্ষতি করেছে তা পূরণ হওয়ার নয়। অন্নদাশঙ্কর রায়ের কবিতাটা মনে আছে? শিশুটি তেলের একটি শিশি ভেঙে ফেলেছে। কবি বলছেন, ‘তেলের শিশি ভাঙলো বলে শিশুর উপর রাগ করো/ তোমরা যে সব বুড়ো খোকা ভারত ভেঙে ভাগ করো তার বেলা?’ বুড়ো খোকারা ভারত ভেঙে ভাগ করেছে, ইংরেজ প্ররোচনা দিয়েছে। কেমন করে সাংস্কৃতিকভাবে এই ভাঙা-ভাঙির ব্যাপারটা কাজ করেছে তার নানান দৃষ্টান্ত আমরা নানান জায়গায় পাব।
১ ডিসেম্বর ২০২১, ১০:০০ পূর্বাহ্ন

সংস্কৃতির ব্যাপারটা কতটা জরুরি

আমাদের ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখব, আমরা দীর্ঘকাল সংগ্রাম করেছি। এই সংগ্রামে সমাজতন্ত্রীরা ছিলেন, জাতীয়তাবাদীরা ছিলেন। পার্থক্য হচ্ছে, জাতীয়তাবাদীরা ছিলেন পুঁজিবাদী এবং সমাজতন্ত্রীরা ছিলেন সামাজিক মালিকানায় বিশ্বাসী। নানান ঐতিহাসিক কারণে সমাজতন্ত্রীরা জয়ী হতে পারেননি। জাতীয়তাবাদীরা, পুঁজিবাদীরা জয়ী হয়েছেন। পুঁজিবাদীরা জয়ী হলে কি পরিণতি হয় তা আজকে ৪টি গানের মধ্যে আমাদের এই শিল্পী বন্ধু উন্মোচিত করে দিয়েছেন। এটিই হচ্ছে পরিণতি। আমরা পুঁজিবাদের মধ্যে এই চরিত্রটা দেখব রবার্ট লুই স্টিভেনশনের একটি গল্পে। গল্পটা হয়ত আপনারা অনেকেই জানেন। নাম ড. জেকিল অ্যান্ড মিস্টার হাইড। ড. জেকিল খুব বড় মাপের একজন চিকিৎসক, বিজ্ঞানী, সন্ন্যাসীর মতো মানুষ। তার কোনো শত্রু নেই, সারাক্ষণ গবেষণা করেন। মানুষের উপকারে গবেষণা করেন। কিন্তু তার ভেতরে আর একটা মানুষ আছে, সেই মানুষটা মি. হাইড।
৩০ নভেম্বর ২০২১, ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন

আমাদের জাগরণের প্রথম সুর তোলেন নজরুল: অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম

অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম একজন লেখক, ভাষাতত্ত্ববিদ, গবেষক ও শিক্ষক। তার জন্ম ১৯৩৪ সালের ১ জানুয়ারি চাঁদপুরের মতলব উপজেলার কলাকান্দায়। বাংলাদেশের প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক নজরুল গবেষক হিসেবে তিনি সম্মানিত।
৩০ নভেম্বর ২০২১, ১০:৪০ পূর্বাহ্ন

সংস্কৃতির ব্যাপারটা কতটা জরুরি

শতবছর আগে রুশ দেশে যে বিপ্লব হয়েছিল সে বিপ্লবের তাৎপর্য সাংস্কৃতিকভাবে তুলে ধরা আজকে খুবই প্রয়োজনীয়। কিছু কিছু অনুষ্ঠানের শুরুতে আমরা কিছু মূল্যবান গান শুনে থাকি। সে গানগুলোতে সমাজ বাস্তবতা উন্মোচিত হয়। সে সব শিল্পী চর্মচক্ষে দেখতে পান না হয়তো, কিন্তু মনের মধ্যে স্পষ্ট দেখেন দেশের অবস্থাটা এখন কী। গানগুলো একটা কথাই বলে—আমরা আছি পুঁজিবাদী ব্যবস্থার যে চরম রূপ, তার ভেতরে। আমি এই কথাটায় আবার ফিরব।
২৯ নভেম্বর ২০২১, ০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন

শনিবারের চিঠির নীরদ চৌধুরী

নীরদচন্দ্র চৌধুরী ইংরাজিতেই লিখিতেন। ভালো ইংরাজি লিখিতে পারেন বলিয়া তাহার বেশ খানিকটা আত্মতৃপ্তি ছিল। তবে তাহার বাংলা রচনার কথাও উল্লেখযোগ্য। তাহার প্রথম বাংলা বই ‘বাঙালী জীবনে রমণী’ প্রকাশিত হইয়াছিল ১৯৬৮ সালে। দিল্লীবাসী নীরদ চৌধুরীর বয়স তখন প্রায় ৭১ বৎসর। এ প্রসঙ্গে তিনি লিখিয়াছেন, ‘এ পর্যন্ত আমি বাংলা বই লিখি নাই, এই আমার প্রথম বই। পঞ্চাশ বৎসর বয়সে ইংরেজিতে প্রথম বই লিখিতে আরম্ভ করিয়াছিলাম, সত্তর বৎসর বয়সে বাংলায় লিখিলাম।’ বাংলায় লেখা তাহার কয়েকটি বই বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে তাহাকে প্রচণ্ড ভাবে জনপ্রিয় করিয়া তুলিয়াছিল। এইগুলি হইল আত্মঘাতী বাঙালি, আত্মঘাতী রবীন্দ্রনাথ, আমার দেবোত্তর সম্পত্তি, আজি হতে শতবর্ষ আগে, আমার দেশ আমার শতক।
২৩ নভেম্বর ২০২১, ০৪:০৩ অপরাহ্ন

মন্বন্তরের চার্চিলের সত্য মিথ্যা

বিশ্ব ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র চার্চিল। পুরো নাম উইনস্টন চার্চিল। ব্রিটিশদের কাছে পরম পূজনীয়। ‘সর্বকালের সেরা ব্রিটিশ’ বলে বিবেচিত। সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মিত্র শক্তির বিজয়ের মহান কারিগররূপে সর্বজনমান্য। ব্রিটিশদের দুঃসময়ের পরীক্ষিত বন্ধু ও জনতুষ্টি অর্জন করা এক রাষ্ট্রনায়ক। পাশাপাশি পাঠক চিত্তে মুগ্ধতা ছড়ানো ও আলোড়ন তৈরিতে সক্ষম একজন লেখক।
২৩ নভেম্বর ২০২১, ১১:০৪ পূর্বাহ্ন

মুদ্রণশিল্প ও প্রকাশনা শিক্ষার ভবিষ্যৎ

মুদ্রণশিল্প ও প্রকাশনা বর্তমান বিশ্বে একটি অগ্রসরমান মাধ্যম- যা প্রতিনিয়ত আধুনিকতর রূপে বিকশিত হচ্ছে এবং নবতর চিন্তা ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তির সমন্বয়ে দ্রুত রূপাদল পরিবর্তিত হচ্ছে। বাংলাদেশও প্রযুক্তির এই পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শিল্প, বিজ্ঞান, সাহিত্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে বিশ্বের সঙ্গে সমান তালে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলেছে। এ সকল ক্ষেত্রে প্রকাশনা-মাধ্যম সবসময় গুরুত্ববহ ভূমিকা পালন করে এসেছে।
২২ নভেম্বর ২০২১, ০৩:২৩ অপরাহ্ন

সুফিয়া কামাল: কেন তাকে মনে রাখবো

ছোট্ট একটা স্মৃতি। ক্লাস থ্রি-ফোরে পড়ি। বাংলা বইয়ে একটা কবিতা ছিল নাম ‘আজিকার শিশু’, কবি সুফিয়া কামাল। মুখস্থ করতে গিয়ে দেখি কিছুই মনে থাকে না। কিন্তু আমাদের পড়াতে পড়াতে ছন্দের তালে তালে আম্মা স্মৃতি থেকে শুনিয়ে দেন, ‘আমাদের যুগে আমরা যখন খেলেছি পুতুল খেলা,/ তোমরা এ যুগে সেই বয়সেই লেখাপড়া কর মেলা।’ কিংবা ‘তোমরা যখন খেলিছ পুতুল খেলা...’ ‘বহু দিন পরে মনে পড়ে আজি পল্লী মায়ের কোল/ যেথা ঝাউ শাখে বনলতা বাঁধি, হরষে খেয়েছি দোল।’ মনে মনে ভাবি, আম্মাদের ছোটবেলার কবি!
২০ নভেম্বর ২০২১, ০৩:৪২ অপরাহ্ন

দেশভাগ ও হাসান আজিজুল হক

বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসের সবচেয়ে বিয়োগান্তক-মর্মন্তুদ-করুণতম অধ্যায়ের নাম দেশভাগ—বাঙালি জীবনের বৃহত্তম ট্রাজেডি—পৃথিবীর ইতিহাসেও। পৃথিবীর দিনপঞ্জিতে ঠান্ডা মাথায় সংঘটিত এরমকম ট্রাজেডির দ্বিতীয় কোনো উদাহরণ নেই। ট্রাজেডির ধর্ম হলো শিল্পের মধ্য দিয়ে নিজেকে ভিন্নতর এক মাত্রায় হাজির করে, কালের হাত ধরে মহাকালের পটে আঁকে চিরস্থায়ী এক আবাস- অভিঘাত রাখে নতুন সৃজনে, শিল্পের বিস্তার ও বাঁক উজানে। বিংশ শতাব্দীতে সংঘটিত দুটো বিশ্বযুদ্ধ ইহজাগতিক পৃথিবীর ক্ষয়-ক্ষতি-প্রাণ সংহারের পাশাপাশি মনোজাগতিক দুনিয়ায় ব্যাপকতর পরিবর্তনসহ মূল্যবোধের খোলনলচে উলটপালট করলেও শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির পৃথিবীকে দিয়েছে ভিন্নতর সব তত্ত্ব। বাঙালির জীবনে দেশভাগ দুই বিশ্বযুদ্ধের চেয়েও সৃষ্টি করেছে গভীরতর এক ক্ষত, জন্ম দিয়েছে বৃহত্তম এক ট্রাজেডি।
১৮ নভেম্বর ২০২১, ০১:০১ অপরাহ্ন

খণ্ডে খণ্ডে হাসান উন্মোচন

তার সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছে অসংখ্যবার। তরুণ বয়সে ছিলাম তার অন্ধ ভক্ত। তার সব লেখা, সব কাজ, সব কথাই ছিল আমার কাছে অমোঘ সত্যের মতো। পরবর্তীতে তিনি আমাকে সুযোগ দিয়েছিলেন তার নানান কথা বা কাজ নিয়ে প্রশ্ন করার। তার সঙ্গে ভিন্নমত পোষণেরও।
১৮ নভেম্বর ২০২১, ০২:৫০ পূর্বাহ্ন

রাঢ়বঙ্গের এক ভূমিপুত্রের বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস হয়ে ওঠা

বর্ধমান থেকে কাটোয়া মেইল ধরে গেলে রেল লাইনের দুধারে দিগন্ত বিস্তৃত প্রান্তর। চৈত্র বৈশাখে যা রুদ্ররূপ ধারণ করে। বর্ষায় আবার তা দিগন্ত প্রসারী জলের মাতন। বর্ধমান শহর থেকে কুড়ি মাইল দূরত্বের যে যবগ্রাম তা একবারেই পাড়াতলীর গাঁ। কাটোয়া মেইল ধরলে নিগণ স্টেশনে নামতে হয়, ওখান থেকে হাঁটা দূরত্বে যবগ্রাম। রাঢ়বঙ্গের রুক্ষ লাল মাটি। গণগণে আকাশের নিচে ফসলের খেত। চৈত্রের তাপ রুক্ষ জনপদকে তাতিয়ে তুলে। একসময় খরা ছিল সেখানকার নিত্য অনুষঙ্গ। রাঢ়বঙ্গ বলে সমতল নয় মাটি, ঢেউখেলানো অসমতল ভূমিতে জ্যৈষ্ঠের উত্তাপে মাথাল বাদে খেতে দাঁড়িয়ে থাকাও অসম্ভব হয়ে যেত প্রায়। এখানকার লোকের সকাল শুরু হতো ভোরেরও আগে। মধ্য গগণে সূর্য উঠলে খোলা আকাশের নিচে দাঁড়ানোর সাধ্য নেই। অসীম জীবনযুদ্ধের সঙ্গে দোর্দণ্ড লড়াই। নিরক্ষরতা আর নিয়তির উপর বিশ্বাস জড়িয়ে ছিল জীবনের পুরোটা জুড়ে। রুক্ষ হলেও এই অঞ্চলে ধানের ফলন ছিল বেশ। তবুও এই অঞ্চলের ভাগ্যে যেন নিত্য দুর্ভিক্ষ। পাকানো পেশি আর পোড় খাওয়া মানুষের ভারে যখন কালবৈশাখীর রুদ্র তাণ্ডব শুরু হতো আকাশ জুড়ে মানুষেরা সেঁধিয়ে ঢুকতো মাচার তলে। এখানে বর্ষাও দিগন্ত উপচে পড়ার মতো।
১৭ নভেম্বর ২০২১, ০৪:২২ অপরাহ্ন

‘নিজস্ব সাহিত্য শৈলী হাসান আজিজুল হককে চিরঞ্জীব করে রাখবে’

লেখকরা প্রায়শই তাদের ভিন্ন ভিন্ন সাহিত্য শৈলী উদ্ভাবনের ক্ষমতা থেকে আবির্ভূত হন এবং কঠিন বাস্তবতাগুলোকে সহজে হৃদয়ঙ্গম করার ক্ষমতার জন্য তারা চিরঞ্জীব হন।
১৭ নভেম্বর ২০২১, ০৭:৩৪ পূর্বাহ্ন

কাল বেলা ১২টায় রাবি শহীদ মিনারে নেওয়া হবে হাসান আজিজুল হকের মরদেহ

প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের মরদেহ মঙ্গলবার বেলা ১২টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হবে।
১৫ নভেম্বর ২০২১, ০৬:৪৩ অপরাহ্ন

‘ফিরে যাই ফিরে আসি’

বাংলা কথাসাহিত্যের কিংবদন্তি হাসান আজিজুল হক। ১৯৩৯ সালে বর্ধমান জেলার যব গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার হাত দিয়ে বেরিয়েছে অনেকগুলো শক্তিমান ছোটগল্প। তার লেখা কিছু প্রবন্ধ সাধারণের ভাবনাকে আমূল পাল্টে দিতে পারে। তার উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে আছে 'আত্মজা ও একটি করবী গাছ', 'জীবন ঘষে আগুন', 'আগুনপাখি', 'নামহীন গোত্রহীন' ইত্যাদি। সাহিত্যে অবদানের জন্য পেয়েছেন বাংলা একাডেমি, আনন্দ পুরস্কার ও একুশে পদকসহ অসংখ্য পুরস্কার। তার গল্প অনূদিত হয়েছে ইংরেজি, হিন্দি, উর্দু, রুশ ও চেক ভাষায়।
১৫ নভেম্বর ২০২১, ০৫:২০ অপরাহ্ন

‘হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে আড্ডা ছিল উপন্যাসের চেয়েও আনন্দের’

হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে কথা বলতে গেলে শেষ হবে না। একটার পর একটা গল্প মনে আসতেই থাকবে। কত দিন কিংবা রাতের সুখ স্মৃতি আমাদের। কয়েক দশকের মধুর সম্পর্কে একটু একটু করে অসংখ্য স্মৃতি জমে আছে জীবন খাতায়।
১৩ নভেম্বর ২০২১, ০৩:৩৮ অপরাহ্ন

শুভ জন্মদিন প্রিয় হুমায়ূন আহমেদ

বাংলা সাহিত্যের নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ। তিনি যতদিন বেঁচে ছিলেন দু’হাত ভরে লিখেছেন। তার সময়ে আরও অনেকেই লিখেছেন। কিন্তু, তাদের সঙ্গে হুমায়ূন আহমেদের মূল পার্থক্য ছিল হয়তো লেখার ভঙ্গিতে। তার লেখাতে এক ধরনের মোহ ছিল, জাদু ছিল। তাই তিনি হয়ে উঠেছিলেন বাংলা সাহিত্যের জাদুকর।
১৩ নভেম্বর ২০২১, ১০:৩১ পূর্বাহ্ন

একে একে নিভিছে দেউটি

‘রফিকুল ইসলাম’ নামটির সঙ্গে আমার পরিচয় ১৯৮৮ সালের দিকে। প্যারিস থেকে ইন্ডোলজিতে স্নাতকোত্তরের পাঠ শেষ করে প্রথমবার দেশে ফিরেছি। ভাষাবিজ্ঞানে কিঞ্চিৎ আগ্রহ বোধ করছিলাম এবং বাংলা ভাষায় লেখা ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রকাশিত স্যারের ‘ভাষাতত্ত্ব’ বইটা পড়ে ফেললাম। এদিক থেকে দেখলে পরিচয় না থাকা সত্ত্বেও রফিক স্যারই আমার ভাষাবিজ্ঞানের প্রথম গুরু। অনেকটা মহাভারতের দ্রোণাচার্য একলব্যের কাহিনীর মতো।
৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০৮:৫৯ পূর্বাহ্ন

স্পিভাক: চিন্তাবিশ্বে যুক্তি ও কল্পনার চৌহদ্দি

যুক্তি ও কল্পনার শক্তি যে কতটা বহুমাত্রিক এবং দুঁদে হয়ে উঠতে পারে, তা গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক পাঠ না করলে অজানা থেকে যেত। বর্তমান চিন্তকদের মধ্যে তিনি যেমন স্বতান্ত্রিকধারার প্রতিনিধি উঠেছেন তেমনি নিজেকে উচ্চকিত করেছেন স্বল্প কর্ষিত ধারাটির একজন স্বার্থক ‍উদ্গাতা ও মৌলিক চিন্তার প্রতিভূরূপে।
৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০৯:২০ পূর্বাহ্ন

নভেম্বর রেইন

নভেম্বর রেইন শীতের পাশে আমার ভেতরে গাছের উচ্চতায় মাথা তুলছে, লফিয়ে নামছে লাখ লাখ যুদ্ধফেরত ভীরু। সেই তীব্র হাওয়াবাজির ত্রস্তপীড়নে, ভয় পাওয়া ঘুমের ঘোরে, জ্বলজ্বলে সিগারেটের অঙ্গার ফেলে আসা আলিঙ্গনের মধ্যে পুড়ে যাচ্ছে, ছাই হয়ে যাচ্ছে সমস্ত মোবাইলের যৌনাকাঙ্ক্ষা—এই নভেম্বরে।
১ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩:৩৬ অপরাহ্ন

এপিটাফ

এখানে যে শুয়ে আছে, বেঁচে ছিল বাঙালির গড় আয়ু নিয়ে।
১ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩:৩০ অপরাহ্ন

সংস্কৃতির ব্যাপারটা কতটা জরুরি

আমাদের দেশে ২টি বড় ট্রাজেডি ঘটেছে। প্রথমটি ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধ, দ্বিতীয়টি ১৯৪৭ সালে দেশভাগে। সেই দেশভাগ সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, এমনকি প্রাকৃতিকভাবে আমাদের ভাগ করে যে ক্ষতি করেছে তা পূরণ হওয়ার নয়। অন্নদাশঙ্কর রায়ের কবিতাটা মনে আছে? শিশুটি তেলের একটি শিশি ভেঙে ফেলেছে। কবি বলছেন, ‘তেলের শিশি ভাঙলো বলে শিশুর উপর রাগ করো/ তোমরা যে সব বুড়ো খোকা ভারত ভেঙে ভাগ করো তার বেলা?’ বুড়ো খোকারা ভারত ভেঙে ভাগ করেছে, ইংরেজ প্ররোচনা দিয়েছে। কেমন করে সাংস্কৃতিকভাবে এই ভাঙা-ভাঙির ব্যাপারটা কাজ করেছে তার নানান দৃষ্টান্ত আমরা নানান জায়গায় পাব।
১ ডিসেম্বর ২০২১, ১০:০০ পূর্বাহ্ন

সংস্কৃতির ব্যাপারটা কতটা জরুরি

আমাদের ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখব, আমরা দীর্ঘকাল সংগ্রাম করেছি। এই সংগ্রামে সমাজতন্ত্রীরা ছিলেন, জাতীয়তাবাদীরা ছিলেন। পার্থক্য হচ্ছে, জাতীয়তাবাদীরা ছিলেন পুঁজিবাদী এবং সমাজতন্ত্রীরা ছিলেন সামাজিক মালিকানায় বিশ্বাসী। নানান ঐতিহাসিক কারণে সমাজতন্ত্রীরা জয়ী হতে পারেননি। জাতীয়তাবাদীরা, পুঁজিবাদীরা জয়ী হয়েছেন। পুঁজিবাদীরা জয়ী হলে কি পরিণতি হয় তা আজকে ৪টি গানের মধ্যে আমাদের এই শিল্পী বন্ধু উন্মোচিত করে দিয়েছেন। এটিই হচ্ছে পরিণতি। আমরা পুঁজিবাদের মধ্যে এই চরিত্রটা দেখব রবার্ট লুই স্টিভেনশনের একটি গল্পে। গল্পটা হয়ত আপনারা অনেকেই জানেন। নাম ড. জেকিল অ্যান্ড মিস্টার হাইড। ড. জেকিল খুব বড় মাপের একজন চিকিৎসক, বিজ্ঞানী, সন্ন্যাসীর মতো মানুষ। তার কোনো শত্রু নেই, সারাক্ষণ গবেষণা করেন। মানুষের উপকারে গবেষণা করেন। কিন্তু তার ভেতরে আর একটা মানুষ আছে, সেই মানুষটা মি. হাইড।
৩০ নভেম্বর ২০২১, ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন

আমাদের জাগরণের প্রথম সুর তোলেন নজরুল: অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম

অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম একজন লেখক, ভাষাতত্ত্ববিদ, গবেষক ও শিক্ষক। তার জন্ম ১৯৩৪ সালের ১ জানুয়ারি চাঁদপুরের মতলব উপজেলার কলাকান্দায়। বাংলাদেশের প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক নজরুল গবেষক হিসেবে তিনি সম্মানিত।
৩০ নভেম্বর ২০২১, ১০:৪০ পূর্বাহ্ন

সংস্কৃতির ব্যাপারটা কতটা জরুরি

শতবছর আগে রুশ দেশে যে বিপ্লব হয়েছিল সে বিপ্লবের তাৎপর্য সাংস্কৃতিকভাবে তুলে ধরা আজকে খুবই প্রয়োজনীয়। কিছু কিছু অনুষ্ঠানের শুরুতে আমরা কিছু মূল্যবান গান শুনে থাকি। সে গানগুলোতে সমাজ বাস্তবতা উন্মোচিত হয়। সে সব শিল্পী চর্মচক্ষে দেখতে পান না হয়তো, কিন্তু মনের মধ্যে স্পষ্ট দেখেন দেশের অবস্থাটা এখন কী। গানগুলো একটা কথাই বলে—আমরা আছি পুঁজিবাদী ব্যবস্থার যে চরম রূপ, তার ভেতরে। আমি এই কথাটায় আবার ফিরব।
২৯ নভেম্বর ২০২১, ০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন

শনিবারের চিঠির নীরদ চৌধুরী

নীরদচন্দ্র চৌধুরী ইংরাজিতেই লিখিতেন। ভালো ইংরাজি লিখিতে পারেন বলিয়া তাহার বেশ খানিকটা আত্মতৃপ্তি ছিল। তবে তাহার বাংলা রচনার কথাও উল্লেখযোগ্য। তাহার প্রথম বাংলা বই ‘বাঙালী জীবনে রমণী’ প্রকাশিত হইয়াছিল ১৯৬৮ সালে। দিল্লীবাসী নীরদ চৌধুরীর বয়স তখন প্রায় ৭১ বৎসর। এ প্রসঙ্গে তিনি লিখিয়াছেন, ‘এ পর্যন্ত আমি বাংলা বই লিখি নাই, এই আমার প্রথম বই। পঞ্চাশ বৎসর বয়সে ইংরেজিতে প্রথম বই লিখিতে আরম্ভ করিয়াছিলাম, সত্তর বৎসর বয়সে বাংলায় লিখিলাম।’ বাংলায় লেখা তাহার কয়েকটি বই বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে তাহাকে প্রচণ্ড ভাবে জনপ্রিয় করিয়া তুলিয়াছিল। এইগুলি হইল আত্মঘাতী বাঙালি, আত্মঘাতী রবীন্দ্রনাথ, আমার দেবোত্তর সম্পত্তি, আজি হতে শতবর্ষ আগে, আমার দেশ আমার শতক।
২৩ নভেম্বর ২০২১, ০৪:০৩ অপরাহ্ন

মন্বন্তরের চার্চিলের সত্য মিথ্যা

বিশ্ব ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র চার্চিল। পুরো নাম উইনস্টন চার্চিল। ব্রিটিশদের কাছে পরম পূজনীয়। ‘সর্বকালের সেরা ব্রিটিশ’ বলে বিবেচিত। সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মিত্র শক্তির বিজয়ের মহান কারিগররূপে সর্বজনমান্য। ব্রিটিশদের দুঃসময়ের পরীক্ষিত বন্ধু ও জনতুষ্টি অর্জন করা এক রাষ্ট্রনায়ক। পাশাপাশি পাঠক চিত্তে মুগ্ধতা ছড়ানো ও আলোড়ন তৈরিতে সক্ষম একজন লেখক।
২৩ নভেম্বর ২০২১, ১১:০৪ পূর্বাহ্ন

মুদ্রণশিল্প ও প্রকাশনা শিক্ষার ভবিষ্যৎ

মুদ্রণশিল্প ও প্রকাশনা বর্তমান বিশ্বে একটি অগ্রসরমান মাধ্যম- যা প্রতিনিয়ত আধুনিকতর রূপে বিকশিত হচ্ছে এবং নবতর চিন্তা ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তির সমন্বয়ে দ্রুত রূপাদল পরিবর্তিত হচ্ছে। বাংলাদেশও প্রযুক্তির এই পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শিল্প, বিজ্ঞান, সাহিত্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে বিশ্বের সঙ্গে সমান তালে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলেছে। এ সকল ক্ষেত্রে প্রকাশনা-মাধ্যম সবসময় গুরুত্ববহ ভূমিকা পালন করে এসেছে।
২২ নভেম্বর ২০২১, ০৩:২৩ অপরাহ্ন

সুফিয়া কামাল: কেন তাকে মনে রাখবো

ছোট্ট একটা স্মৃতি। ক্লাস থ্রি-ফোরে পড়ি। বাংলা বইয়ে একটা কবিতা ছিল নাম ‘আজিকার শিশু’, কবি সুফিয়া কামাল। মুখস্থ করতে গিয়ে দেখি কিছুই মনে থাকে না। কিন্তু আমাদের পড়াতে পড়াতে ছন্দের তালে তালে আম্মা স্মৃতি থেকে শুনিয়ে দেন, ‘আমাদের যুগে আমরা যখন খেলেছি পুতুল খেলা,/ তোমরা এ যুগে সেই বয়সেই লেখাপড়া কর মেলা।’ কিংবা ‘তোমরা যখন খেলিছ পুতুল খেলা...’ ‘বহু দিন পরে মনে পড়ে আজি পল্লী মায়ের কোল/ যেথা ঝাউ শাখে বনলতা বাঁধি, হরষে খেয়েছি দোল।’ মনে মনে ভাবি, আম্মাদের ছোটবেলার কবি!
২০ নভেম্বর ২০২১, ০৩:৪২ অপরাহ্ন

দেশভাগ ও হাসান আজিজুল হক

বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসের সবচেয়ে বিয়োগান্তক-মর্মন্তুদ-করুণতম অধ্যায়ের নাম দেশভাগ—বাঙালি জীবনের বৃহত্তম ট্রাজেডি—পৃথিবীর ইতিহাসেও। পৃথিবীর দিনপঞ্জিতে ঠান্ডা মাথায় সংঘটিত এরমকম ট্রাজেডির দ্বিতীয় কোনো উদাহরণ নেই। ট্রাজেডির ধর্ম হলো শিল্পের মধ্য দিয়ে নিজেকে ভিন্নতর এক মাত্রায় হাজির করে, কালের হাত ধরে মহাকালের পটে আঁকে চিরস্থায়ী এক আবাস- অভিঘাত রাখে নতুন সৃজনে, শিল্পের বিস্তার ও বাঁক উজানে। বিংশ শতাব্দীতে সংঘটিত দুটো বিশ্বযুদ্ধ ইহজাগতিক পৃথিবীর ক্ষয়-ক্ষতি-প্রাণ সংহারের পাশাপাশি মনোজাগতিক দুনিয়ায় ব্যাপকতর পরিবর্তনসহ মূল্যবোধের খোলনলচে উলটপালট করলেও শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির পৃথিবীকে দিয়েছে ভিন্নতর সব তত্ত্ব। বাঙালির জীবনে দেশভাগ দুই বিশ্বযুদ্ধের চেয়েও সৃষ্টি করেছে গভীরতর এক ক্ষত, জন্ম দিয়েছে বৃহত্তম এক ট্রাজেডি।
১৮ নভেম্বর ২০২১, ০১:০১ অপরাহ্ন

খণ্ডে খণ্ডে হাসান উন্মোচন

তার সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছে অসংখ্যবার। তরুণ বয়সে ছিলাম তার অন্ধ ভক্ত। তার সব লেখা, সব কাজ, সব কথাই ছিল আমার কাছে অমোঘ সত্যের মতো। পরবর্তীতে তিনি আমাকে সুযোগ দিয়েছিলেন তার নানান কথা বা কাজ নিয়ে প্রশ্ন করার। তার সঙ্গে ভিন্নমত পোষণেরও।
১৮ নভেম্বর ২০২১, ০২:৫০ পূর্বাহ্ন

রাঢ়বঙ্গের এক ভূমিপুত্রের বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস হয়ে ওঠা

বর্ধমান থেকে কাটোয়া মেইল ধরে গেলে রেল লাইনের দুধারে দিগন্ত বিস্তৃত প্রান্তর। চৈত্র বৈশাখে যা রুদ্ররূপ ধারণ করে। বর্ষায় আবার তা দিগন্ত প্রসারী জলের মাতন। বর্ধমান শহর থেকে কুড়ি মাইল দূরত্বের যে যবগ্রাম তা একবারেই পাড়াতলীর গাঁ। কাটোয়া মেইল ধরলে নিগণ স্টেশনে নামতে হয়, ওখান থেকে হাঁটা দূরত্বে যবগ্রাম। রাঢ়বঙ্গের রুক্ষ লাল মাটি। গণগণে আকাশের নিচে ফসলের খেত। চৈত্রের তাপ রুক্ষ জনপদকে তাতিয়ে তুলে। একসময় খরা ছিল সেখানকার নিত্য অনুষঙ্গ। রাঢ়বঙ্গ বলে সমতল নয় মাটি, ঢেউখেলানো অসমতল ভূমিতে জ্যৈষ্ঠের উত্তাপে মাথাল বাদে খেতে দাঁড়িয়ে থাকাও অসম্ভব হয়ে যেত প্রায়। এখানকার লোকের সকাল শুরু হতো ভোরেরও আগে। মধ্য গগণে সূর্য উঠলে খোলা আকাশের নিচে দাঁড়ানোর সাধ্য নেই। অসীম জীবনযুদ্ধের সঙ্গে দোর্দণ্ড লড়াই। নিরক্ষরতা আর নিয়তির উপর বিশ্বাস জড়িয়ে ছিল জীবনের পুরোটা জুড়ে। রুক্ষ হলেও এই অঞ্চলে ধানের ফলন ছিল বেশ। তবুও এই অঞ্চলের ভাগ্যে যেন নিত্য দুর্ভিক্ষ। পাকানো পেশি আর পোড় খাওয়া মানুষের ভারে যখন কালবৈশাখীর রুদ্র তাণ্ডব শুরু হতো আকাশ জুড়ে মানুষেরা সেঁধিয়ে ঢুকতো মাচার তলে। এখানে বর্ষাও দিগন্ত উপচে পড়ার মতো।
১৭ নভেম্বর ২০২১, ০৪:২২ অপরাহ্ন

‘নিজস্ব সাহিত্য শৈলী হাসান আজিজুল হককে চিরঞ্জীব করে রাখবে’

লেখকরা প্রায়শই তাদের ভিন্ন ভিন্ন সাহিত্য শৈলী উদ্ভাবনের ক্ষমতা থেকে আবির্ভূত হন এবং কঠিন বাস্তবতাগুলোকে সহজে হৃদয়ঙ্গম করার ক্ষমতার জন্য তারা চিরঞ্জীব হন।
১৭ নভেম্বর ২০২১, ০৭:৩৪ পূর্বাহ্ন

কাল বেলা ১২টায় রাবি শহীদ মিনারে নেওয়া হবে হাসান আজিজুল হকের মরদেহ

প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের মরদেহ মঙ্গলবার বেলা ১২টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হবে।
১৫ নভেম্বর ২০২১, ০৬:৪৩ অপরাহ্ন

‘ফিরে যাই ফিরে আসি’

বাংলা কথাসাহিত্যের কিংবদন্তি হাসান আজিজুল হক। ১৯৩৯ সালে বর্ধমান জেলার যব গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার হাত দিয়ে বেরিয়েছে অনেকগুলো শক্তিমান ছোটগল্প। তার লেখা কিছু প্রবন্ধ সাধারণের ভাবনাকে আমূল পাল্টে দিতে পারে। তার উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে আছে 'আত্মজা ও একটি করবী গাছ', 'জীবন ঘষে আগুন', 'আগুনপাখি', 'নামহীন গোত্রহীন' ইত্যাদি। সাহিত্যে অবদানের জন্য পেয়েছেন বাংলা একাডেমি, আনন্দ পুরস্কার ও একুশে পদকসহ অসংখ্য পুরস্কার। তার গল্প অনূদিত হয়েছে ইংরেজি, হিন্দি, উর্দু, রুশ ও চেক ভাষায়।
১৫ নভেম্বর ২০২১, ০৫:২০ অপরাহ্ন

‘হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে আড্ডা ছিল উপন্যাসের চেয়েও আনন্দের’

হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে কথা বলতে গেলে শেষ হবে না। একটার পর একটা গল্প মনে আসতেই থাকবে। কত দিন কিংবা রাতের সুখ স্মৃতি আমাদের। কয়েক দশকের মধুর সম্পর্কে একটু একটু করে অসংখ্য স্মৃতি জমে আছে জীবন খাতায়।
১৩ নভেম্বর ২০২১, ০৩:৩৮ অপরাহ্ন

শুভ জন্মদিন প্রিয় হুমায়ূন আহমেদ

বাংলা সাহিত্যের নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ। তিনি যতদিন বেঁচে ছিলেন দু’হাত ভরে লিখেছেন। তার সময়ে আরও অনেকেই লিখেছেন। কিন্তু, তাদের সঙ্গে হুমায়ূন আহমেদের মূল পার্থক্য ছিল হয়তো লেখার ভঙ্গিতে। তার লেখাতে এক ধরনের মোহ ছিল, জাদু ছিল। তাই তিনি হয়ে উঠেছিলেন বাংলা সাহিত্যের জাদুকর।
১৩ নভেম্বর ২০২১, ১০:৩১ পূর্বাহ্ন